14/07/2015
বিশ্বজিৎ থেকে রাজন , এরপর...
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধের মধ্যে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে জামায়াত-শিবির সন্দেহে বিশ্বজিৎকে ধাওয়া করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে বিশ্বজিৎ একটি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নিলেও হায়েনারা সেখানেও ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে কোপানো ও পেটানো শুরু হয়।
সেখান থেকে পালিয়ে মারাত্মক জখম অবস্থায় বিশ্বজিৎ বের হয়ে রাস্তা দিয়ে দৌড় দেয়। পিছু পিছু অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে হায়েনার মতো পুনরায় ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বিশ্বজিৎকে। রক্তাক্ত অবস্থায় বিশ্বজিৎ রাস্তায় পড়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে এক রিকশাচালক স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর বিচার নিয়ে কি হয়েছে / হচ্ছে তা দেশবাসী সকলেরই জানা ।
এবার গত ৮ জুলাই সিলেট-সুনামঞ্জ রোডের কুমারগাঁও বাসস্টেশন এলাকার বড়গাঁওস্থ সুন্দর আলী মার্কেটের একটি ওয়ার্কশপের সামনে বারান্দার খুঁটিতে বেঁধে রেখে নির্যাতনে নিহত রাজনের এমন আহাজারিতে আশপাশের অনেকেরই চোখের পানি গড়িয়ে পড়লেও হৃদয়ে এতটুকু দয়ার উদ্রেক হয়নি মানুষরূপী কয়েকটি নরপশুর।
ওই দিন সকাল ৭টার দিকে শিশুটিকে এমন নির্যাতন করে লাশ গুম করা হয়। রাত ১১টার দিকে একটি মাইক্রোবাস থেকে সামিউলের লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে বুধবার রাত ১১টায় থানায় গিয়ে পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করেন।
কিন্তু কি হলো ? খুনি কামরুল দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলো । কারা তাকে পালাতে দিলো ? শুনা যাচ্ছে কামরুলের পালানোর পিছনে পুলিশকে মোটা অঙ্কের অনুদান (ঘুষ) দেয়া নেয়ার ব্যাপার রয়েছে ।
ভাগ্যিস কামরুলকে সৌদি আরবের সৌদিদের মদদে গ্রেফতার করা হয়েছে , তা না হলে তো এই ঘটনাও বিশ্বজিৎ এর ঘটনার মতো হারিয়ে যেত ইতিহাসের পাতায় ।
এইসব ঘটনা ততদিন চলবে যতদিন বিশ্বজিৎ এবং রাজনের খুনিদের প্রকৃত বিচার না হবে ।
