11/04/2026
কিডনি অকেজো হয়ে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে পাঁচজন রোগীর মৃত্যু হয় এদেশে। কিডনি প্রতিস্থাপন জটিল আর ব্যয়বহুল একটা ব্যাপার। প্রতিটি অস্ত্রোপচারে ১০ থেকে ১২ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর যুক্ত থাকতে হয়।
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর তাঁর ২০০০ তম কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। এরপরও প্রতিদিন গড়ে একজনের কিডনি প্রতিস্থাপনের কাজ করে গেছেন তিনি।
দেশে এ পর্যন্ত যত কিডনি প্রতিস্থাপন এর প্রায় অর্ধেকই হয়েছে কেবল তাঁরই একক নেতৃত্বে।
গত প্রায় কুড়ি বছর ধরে বিনা পয়সায় কিডনি প্রতিস্থাপন করেন তিনি। তাঁর সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশের বেশি।
৯৫ শতাংশ মানুষ তাঁর বিনা পারিশ্রমিকের দুই হাজারের বেশি অপারেশনের মাধ্যমে বেঁচে গেছেন। দুই হাজার মানুষ! দুই হাজার মানুষ মানে একটা গ্রামের থেকে বেশি।
দুই হাজার মানুষের দুই হাজার পরিবার! রাষ্ট্র তাঁকে স্বাধীনতা পদক দিয়েছে এ জন্য। তিনি ডা. কামরুল ইসলাম। দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাওয়া মানুষটির প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে যুবদলের এক নেতা। হেনস্থা করেছে।
সে কমিশনার প্রার্থী হবে। তার বিরুদ্ধে ডাক্তার কামরুল ইসলাম বিএনপির বড়ো নেতাদের একাধিকবার জানিয়েও প্রতিকার পান নি।
এই সংবাদ, ফুটেজ কালেরকণ্ঠে এসেছে। কালেরকণ্ঠের এই খবর আমি সহজে বিশ্বাস করতাম না। যদি না এই চিকিৎসক নিজেই অন ক্যামেরা অভিযোগগুলো না করতেন।
নির্মোহ এই মহান চিকিৎসকের সুরক্ষা নাই। স্বাধীনতা পদক পেয়েও এই সম্মানটুকু পান না। অথচ প্রতিবেশি ভারতেও মন্ত্রীদের চে' বেশি প্রটোকল পান সেদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকপ্রাপ্তরা। সেনাপ্রধানেরও ৫ ধাপ উপরে।
এদেশে তাঁর মত চিকিৎসককে গিয়ে দলের পাতিনেতারা বিপদে ফেলতে পারে। আমরা কি এই রাষ্ট্র দেখতে চেয়েছিলাম?
বড়ো দলে সমস্যা থাকে, সেই সমস্যা বড়ো দলের জন্য নিয়ন্ত্রণও কঠিন না। বিএনপি সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত এই মাত্রাজ্ঞানহীন, বোধহীনদের উৎপাটন করা।
যারা এদের প্রশ্রয় দেয়, তাদেরসহ কেউ যেন পাঁচ বছরে জেলের বাইরের আলোটুকু পর্যন্ত দেখতে না পায়।
যে প্রধানমন্ত্রী আনিস আলমগীরের মত লোককে ফোন করতে পারেন- সে প্রধানমন্ত্রীর কর্তব্য দলীয়প্রধান হিসেবে ডা. কামরুল ইসলামের কাছে দুঃখপ্রকাশ করা। এটা তৃণমূলেও শক্ত বার্তা দিবে।
আমরা যেন জাতি হিসেবে এতটা নীচ না হই!
-কামরুল ইসলাম

10/04/2026
01/04/2026