রক্ত চোষা
আমার সকল কাড়িয়া লইয়া আমাকেই করো তুমি দান
শেষ রক্ত ফোঁটা টানিয়া লইয়া সাজো তুমি মহীয়ান।
মুখে ফুল,অন্তরে শিকড় কাঁটিয়া গোড়ায় ঢালো পানি
নিস্তেজ এ দেহে প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ডর ভয়ে তোমায় মানি।
এ মানা সে মানা নয় তীব্র ঘৃনায় মাখা
জানো কি তুমি?জানে সকলে ভালবাসা চালুনে তুলে রাখা।
ছিদ্র পথে হারিয়ে যায় সব ঘৃনা থাকে শুধু জমা
সাবধান হও হে রক্তচোষা!ক্ষেপিলে পিঁপড়ে পাবে না ক্ষমা।
আসাদুজ্জামান খান-
New Energy Bangladesh
কবিতালয়,কবিতার রাজ্যে আপনাকে স্বাগতম
মনে পড়ে তোমায়
আসাদুজ্জামান খান-
মনে পড়ে তোমায়
এই কার্তিকের কাইতান কালে
হিম লাগা ভোরে কাঁথার পরশে।
মনে পড়ে তোমায়
অভাবি কার্তিকের ছিপছিপ জলে
থোর আসা আমনে আশার আলোতে।
মনে পরে তোমায়
জেগে উঠা হালটের নতুন গজানো ঘাসের মাঝে
রূপালী শিশিরের পড়ি কি পড়ি টলমল কালে।
মনে পড়ে তোমায
কমে আসা জলে চিতল বিলের বুকে
পুঁটি খলিশার এলোপাথারি লাফানো কোলাহলে।
মনে পড়ে তোমায়
গভীর রজনীতে ক্রন্দনরত কানাকোকার
সঙ্গী খোঁজার করুণ আহবানে।
মনে পড়ে তোমায়
দল বাঁধা বকের সারিতে সাদার মিছিলে
কক কক ডাকে উড়ে চলে খাবার অন্বেষণে।
মনে পড়ে তোমায়
ঠাই দাঁড়িয়ে কানি বক তার শিকারের খোঁজে
মলা ঢেলা আর দানকিনার গতিবিধি লখে।
মনে পরে তোমায়
কান্দি ছুঁই ছুঁই পুকুর জলে পাতি হাসের ডুবাডুবি
কচুরির তলে শামুকের খোঁজে ঠোঁটে চলে আহাজারি।
মনে পড়ে তোমায়
টাগৈ ফুলের চাদরে মোড়ানো অফসলি জমি
কাঁদা আর জলে একাকার তাতে সিঞ্চনে মাছ আনি।
মনে পড়ে তোমায়
এই কার্তিক কালে হেলে পড়া প্রভাকর
সবুজে লালে মিলেমিশে অপরূপ বিল জলে প্রণয় বাসর।
মনে পড়ে তোময়
আইল ভরা চেইজ ফড়িঙের ছোটাছুটি
হাতে হাতে তুলে রূপেতে পুতুলে হাসিতে কুটিকুটি।
মনে পড়ে তোমায়
ঘাস ফুল যতো ফুটে শত শত দিকবিদিক অসমান
মৌমাছি উড়ে ফুলে ফুলে ঘুরে মধু লভে দিনমান।
মনে পড়ে তোমায়
হে খেলার সাথীরা আছো কে কোন্ বাঁকে
গত সে কার্তিক পাঠিয়ে দিলেম আজিকার কার্তিকে।
25/04/2021
বৈশাখের এই দিনে
আসাদুজ্জামান খান
আমার বাড়ী আইসো বন্ধু
বৈশাখের এই দিনে,
পানতা ভাত যে খাইতে দিমু
কাঁচা লংকার সাথে।
নিজের হাতে ছিলা দিমু
এক কোয়া এক পেয়াজ,
কামড় দিও আস্তে বন্ধু
পাবে বেজাই ঝাঁজ।
আমের ভর্তা বানাই দিমু
কলা পাতার পাতে,
চুইষা খাইয়ো রস যে তার
ঠুংগা করে হাতে।
দুপুর পরে নিয়া যামু
চালার পাড়ের মেলায়,
নানান রঙ্গের খেলনা কিনুম
ফিরুম খুশির ঠেলায়।
বিন্নি সাঁজে মিলাই নিমু
সেরের উপর সের,
গড়ম ভাজা জিলাপি আর
গোল্লা রসে ঢের।
নানান জাতের ঘুড়ি কিনুম
চংগা,বাক্স,চিলা,
লম্বা ডুরি হাতের ঘরি
চশমা রঙ্গিলা।
বাড়ী ফিরে বন্ধু দুজন
খেলুম মজা করে,
চলুম দুজন একই সাথে
গলাগলি ধরে।
চাও যা তুমি দিব সবই
আসে যাহা মনে,
সত্যি যদি আইসো বন্ধু
বৈশাখের এই দিনে ।
চৈত্রের ঝিঝি পোকার ডাকে গাঁয়ের ঘুম ভাঙ্গে
রাত জাগা পবনের শীতল পরশে,
পানির অভাবে ঝরে পড়ে পুষ্টিহীন কাঁঠালের মুচি
আমের গুটিতে শিশির গড়ায় কোমল স্পর্শে ।
ঘুমো চোখে নয়া বউ ছাড়িয়ে নেয় আঁচলে পেঁচানো
স্বামীর হাত,সতর্কায় করে পদ চুম্বন,
নিশিতে তারা প্রেমের তরিতে পাড়ি দেয় উত্তাল সিন্ধু
সকল দূঃখ ভুলে তারা আগামীর সুখ করে অঙ্কন ।
আসাদুজ্জামান খান-
পুড়ে মন
আসাদুজ্জামান খান
হারিয়ে ধন পুড়ে রে মন
সহিব কেমন করে?
অথৈ সাগরে সাঁতার কাটিয়াও
তৃষ্ণা মিটে না জলে।
থাকিতে ধন না করি ভজন
ধুলিসম করি জ্ঞান,
হারালে মানি অমূল্য তাহা
নিথরে পুষ্প দান।
সব ভুলে যাব
বিমলা তুমিই তো আমাকে হাসতে শিখিয়েছো
কাঁদতে শিখিয়েছো আনন্দ বেদনায়,
তবে কেন বলছো আজ সব ভুলে যেতে
কঠিনেরে বলছো বরণ করিতে সহজেরে ছাড়িয়ে আমায় ?
কৃষ্ণচূড়ার লাল তাও ভুলে যাব
ভুলে যাব কি কোকিলের কু কু ডাক ?
আমের মুকুলে ভ্রমরের বসবাস নিবিড় ভালসায়
ভুলে যাব তাও ফুলের বনে লাল ফড়িং এর ঝাঁক ?
স-অ-ব ভুলে যাব ত্যাগেরে আপন
ভোগেরে করিয়ে পর,
বলো না শুধু তোমায় ভুলে যেতে
বাঁচিব না আমি মরিব জানে ভাঙ্গিলে মনের ঘর ।
আসাদুজ্জামান খান-
চৈত্রের ঝিঝি পোকার ডাকে গাঁয়ের ঘুম ভাঙ্গে
রাত জাগা পবনের শীতল পরশে,
পানির অভাবে ঝরে পড়ে পুষ্টিহীন কাঁঠালের মুচি
আমের গুটিতে শিশির গড়ায় কোমল স্পর্শে ।
ঘুমো চোখে নয়া বউ ছাড়িয়ে নেয় আঁচলে পেঁচানো
স্বামীর হাত,সতর্কায় করে পদ চুম্বন,
নিশিতে তারা প্রেমের তরিতে পাড়ি দেয় উত্তাল সিন্ধু
সকল দূঃখ ভুলে তারা আগামীর সুখ করে অঙ্কন ।
আসাদুজ্জামান খান-
বেসরম মন
বহু দিন গত হইলো প্রিয়
পাইনি তোমার খবর,
হৃদয় শীতল হইতো যদি
দেখিতাম এক নজর।
যদি পাইতাম নয়ন মাঝে
রাখিতাম বান্ধিয়া,
হৃদয় পোড়া অনল আমি
নিভাইতাম কান্দিয়া।
মনের অনল জড়ো হয়ে
মনে করে ভর,
বহুদিন গত হইলো প্রিয়
পাইনি তোমার খবর।
হাত ধরিয়া বসাইতাম পাশে
কুলেতে মাথা,
নয়ন মেলে পড়িতাম আমি
হৃদয়ের কথা।
বিরহের ঘরে শান্তি মিলে
প্রেমালীঙ্গন পর,
বহুদিন গত হইলো প্রিয়
পাইনি তোমার খবর।
বেসরম মন কান্দে বেধম
মানে না সবর,
দেখিয়া তোমায় তুষ্টি না হয়
আসাদের অন্তর।
বহু দিন গত হইলো প্রিয়
পাইনি তোমার খবর,
হৃদয় শীতল হইতো যদি
দেখিতাম এক নজর।
হেমন্তের কুয়াশা ঠেলে রাখালের গমন
নগ্ন উর্বর যৌবনসিক্ত প্রশস্ত ভূমিতে,
বাঁধভাঙ্গা ভালবাসায় জন্ম দেয় স্বপ্নের ফসল।
অথচ রাখালের স্বপ্ন ছিনিয়ে নেয় পাতি কাকের দল
আর দাঁরকাক গুলো উর্বর ভূমির চিতল বক্ষে,
ডাকাতি থাবায় কমিশনে ভাগ বসায়।
আসাদুজ্জামান খান-
বন্দী পৃথিবী
গুটিকয় মাতাল শাসকের হাতে আজ
পুরো পৃথিবী বন্দী,
বন্দী নীলাকাশ,মুক্ত মনে উড়ে চলা
পাখিদের অবাধ বিচরণ।
বন্দী জল,স্থল,পর্বতশৃঙ্গ নদীর প্রবাহ
বায়ুর গতি সবুজের সজিবতা,
ছয়শ কোটি মানুষের পৃথিবীতে বন্দী
মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
চাবুক হাতে ওরা আমাদের ধাঁওয়া করে
পৃথিবী শাসনের নামে,
আর আমরা ছুটে চলি ভয়ার্ত খরগোশের মতো
জীবন বাঁচানোর তাগিদে।
অথচ ঘুরে দাঁড়ালে বায়ুরে তোরে
হারিয়ে যাবে সব,
সমাপ্তি ঘোষনা হবে সকল অপশাসনের
পৃথিবী পাবে তার হারানো গরব।
আসাদুজ্জামান খান-
তোমার অপেক্ষায়
খুব ভোরে যখন আঁধারকে বিদায়ের
তোরজোড় শুরু হয়,
খাবার অন্বেষণে ঝাঁকে চলা কাকেরা যখন
কা কা শব্দে রাতের নীরবতা ভাঙ্গে,
আমি তখনও তোমার অপেক্ষায় থাকি।
ভোরের শিশির যখন ভালবাসার পরশ বোলায়
দূব্যার লতানো গায়ে,
বনের পাখিরা যখন গায় গান নতুন ভোরের,
রঙ্গীন ফুলেরা যখন সুবাস বিলায় সকল জনে
আমি তখনও তোমার অপেক্ষায় থাকি।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল,অবশেষে সন্ধা ৮টা,৯টা,১০টা
রাত্রি দ্বিপ্রহর পৃথিবী নীরব ঘুমের গহিনে,
নীরবতার ঘুম ভাঙ্গায় অতি শোকে কাতর পেঁচার ডাকে
তুমি আসবে,আসবেই তুমি দিন রাত্রির ভেদ চুকিয়ে,
আমি থাকি তাই তখনও তোমারই অপেক্ষায়।
এভাবেই থাকবো আমি একক,দশক,শতক.হাজার
অযুত,লক্ষ,নিযুত,কোটি বছর,
শুধু তোমারই জন্য,তোমারই অপেক্ষায়।
আসাদুজ্জামান খান-
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Website
Address
Uttarati
