12/30/2017
বরগুনা জেলা বিএনপি
বরগুনা জেলা বিএনপি অফিসিয়াল পেজ।
চেয়ারপার্সন কার্যালয়
বাড়ি-০৬, রোড-৮৬, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২
ফোন : ৯৮৮৩৪৬২, ফ্যাক্স : ৯৮৮৩৪৫২
E-mail : [email protected]
Website : www.bnpbd.org
12/30/2017
এখন আর সেটা আওয়ামীলিগ নেই ।
কালের পরিবর্তনে মডিফাই হয়ে আওয়ামী লীগ এখন বহুনামে অলংকিত হয়ে ডিজিটালে রুপ নিয়েছে :::---
আওয়ামী ধর্ষণলীগ
আওয়ামী খুনলীগ
আওয়ামী ঘুমলীগ
আওয়ামী লুণ্ঠনলীগ
ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি
......................
কথা সত্য যেমন সোহেল তাজ আজকে আওয়ামীলিগে নেই, কারন একটাই কোন ভাল লোক আওয়ামীলিগ করতে পারবেনা।...!!!
আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত ।। সুন্দর হোক সকলের পথ চলা ।। ধন্যবাদ সবাইকে ।।
01/24/2017
সমৃদ্ধির মহাসড়ক বিনির্মাণে জিয়াউর রহমান
-নজরুল ইসলাম খান
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, রাষ্ট্র জনপদে সকল মানুষের পক্ষেই স্মরণীয় বা বরণীয় হওয়া সম্ভব হয় না। যারা হন তাদের সংখ্যা যেমন নিতান্তই কম তেমনই তাঁরা হয়ে থাকেন বিরল যোগ্যতার অধিকারী। দেশ ও সমাজের কল্যাণে এবং পরিবর্তনে তাঁদের চিন্তা, মনন এবং কর্মকান্ড বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হয়, এমনকি তাদের বৈশিষ্ট্যমন্ডিত কর্মকান্ডে এক নতুন যুগ এবং ঐশ্বর্য্যে মহিমান্বিত ইতিহাসের সূত্রপাত হয়। আমাদের এদেশ-জনপদে স্বীয় বৈশিষ্ট্যে মহিমান্বিত এমনই একজন বিরল ব্যক্তিত্ব শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে সশস্ত্র নেতৃত্ব দিয়ে যিনি আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন। তিনি আবার এই দেশকে বিশ্ব সভায় সম্মানিত করার জন্য প্রাণপণ কাজ করেছেন, সফল হয়েছেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক ব্যক্তি সংবাদপত্রের ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং নতুন যুগোপযোগী রাজনীতির সূচনা করেন। তার প্রবর্তিত জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি সময়ের পথ পরিক্রমায় যুগোত্তীর্ণ-কালোত্তীর্ণ বলে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তাঁর ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রাজনীতির একজন অনুসারী হিসেবে আমার সকল সত্তার উৎসমূল থেকে তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধে যেমনি ইতিহাসের অমোঘ প্রয়োজনে নেতৃত্ব দেন, তেমনি দেশের উন্নয়ন, উৎপাদনে, সমৃদ্ধি আনয়নে কাজ করেছেন অসীম সাহসীকতার সাথে, প্রবল দেশ প্রেমের টানে। কোনো বাধাই তাঁর কাছে অনতিক্রমন্য বলে মনে হয়নি। তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের মানুষ নতুন করে শুধু বাঁচার নয়, সম্মানের সাথে বাঁচার স্বপ্নে উজ্জীবিত করেন জিয়াউর রহমান। ৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণার মতোই অসীম সাহসিকতায় ৭৫’রের ৭ই নভেম্বরের পরবর্তীতে জীবনবাজী রেখে দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। উৎপাদন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা ঘটে। বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে ভিখারীর হাত হয়ে ওঠে কর্মীর হাতিয়ার। পাল্টে যেতে থাকে দেশের চেহারা ও দৃশ্যপট। বিশ্ববাসী দেখলো এক নতুন কর্মযজ্ঞের বাংলাদেশ, উন্নয়নের দিকে দ্রুত ধাবমান। ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষে বিধ্বস্ত বাংলাদেশে যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে জীবন দিয়েছে, কাপড় না পেয়ে কলাপাতায় মানুষের দাফন হয়েছে, ডাস্টবিনে খাবার সংগ্রহে মানুষ-পশুতে লড়াই হয়েছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় লুটপাটের ফলে অসংখ্য কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেদেশের মানুষের মধ্যে উন্নয়নের স্বপ্নে গণজাগরণ তৈরি করা কত বড় দূরূহ কাজ ছিল, হয় তো সমাজতাত্বিকরা বিশ্লেষণ করলে বিস্ময়ে অবাক হবেন। কিন্তু গণজাগরণের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান মানুষের মধ্যে হতাশার স্থলে উৎপাদন ও উন্নয়নের উদ্দীপনার জোয়ার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার বহুমাত্রিক কর্মকা- হয়তোবা স্বল্প পরিসরে বর্ণনা সম্ভব নয় তথাপি উল্লেখযোগ্য বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করব।
বাংলাদেশের সোনালি আঁশ বলে খ্যাত তৎকালীন সময়ে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পাট শিল্প খাত ধ্বংস হয়ে যায়। একের পর এক পাটের গুদামে আগুন দিয়ে আর পাটকল বন্ধ করে অন্য দেশের জন্য বিশ্ব বাজার দখলের পথ করে দেওয়া হয়। জিয়াউর রহমান শক্তহাতে এসব আত্মঘাতি ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে পাটশিল্প খাতকে নতুন জীবন দান করেন। পাটকলগুলো তিন শিফটে কাজ করে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ফিরিয়ে আনেন। প্রথম বারের মতো পাটশ্রমিকরা লভ্যাংশ থেকে ইনসেন্টিভ বোনাস পান, যা বাংলাদেশে পাটশিল্প খাতে এক বিরল ঘটনা। সরকারি অর্থায়নে ১০টি নতুন বিশেষায়িত টেক্সটাইল মিল, সার কারখানা ও চিনিকল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এ যেন শিল্প উন্নয়নের ইতিহাসে ছিল স্বপ্নের সোনালি সকালের মত।
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের উচ্চসীমা বৃদ্ধি করে শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সহজ শর্তে শিল্প ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত তৈরি পোষাক শিল্পকে রপ্তানীমুখী শিল্প হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার ছিল তাঁরই উদ্ভাবনী চিন্তার ফসল। গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিল্পপতিদের উৎসাহিত করেন। কর্মকর্তা কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণে সহায়তা করে ও সরকারি সহায়তা দিয়ে গার্মেন্টসকে শিল্পের মর্যাদায় উন্নীত করেন। দেশের অর্থনীতির নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আজ যে বিশ্ব বাজারে প্রাধান্য বিস্তারে সক্ষম হয়েছে- এটা বস্তুত তারই দূরদৃষ্টির ফসল।
জিয়াউর রহমানের স্বীয় উদ্যোগে ১৯৭৬ সাধ্যে মধ্য প্রাচ্যের ৬টি দেশে মাত্র ৮৫০০ জনের প্রথম কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে বিদেশে শ্রমশক্তি রপ্তানির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বিদেশে কর্মরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশীদের প্রেরিত র্যািমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির প্রধানতম নিয়ামক শক্তি।
তাঁর সময়ে প্রথম যুবমন্ত্রণালয় এবং মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। মহিলা সমবায় ও যুব সমবায় সমিতি তৈরি করে মহিলা ও যুবসমাজকে কর্মমুখী করার উদ্যোগ নেয়া হয়। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী এবং সবচেয়ে উদ্যোগী যুব সমাজকে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগের সুদূর প্রসারী ইতিবাচক ফলাফল আজ আমরা ভোগ করছি। নারীর ক্ষমতায়নের সেটাই ছিল প্রথম কার্যকর উদ্যোগ।
গ্রামীণ ও শহর আঞ্চলের নিম্ন আয়ের ও নিঃস্ব মানুষের জন্য বিনা জামানতে সরকারি ঋণ প্রাপ্তি ব্যবস্থা করেন জিয়াউর রহমান। এমনকি গ্রামীণ নিঃস্ব মহিলাদের ঢেঁকি ঋণ পর্যন্ত দেয়া হতো। বস্তুত তারই ধারাবাহিকতায় বেসরকারি সংস্থাসমূহ ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে আসে। দারিদ্র্য ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ঋণের সফলতা প্রতীক হিসেবে ড. ইউনূস নোবেল প্রাইজ পেয়ে বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছেন। গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের শোষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি বি.এ.ডি.সি’র মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে কৃষিঋণ প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেন। যা ছিল মহাজনী শোষণের বিরুদ্ধে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ যুগান্তরকারী রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ।
গ্রামাঞ্চলে কৃষি উন্নয়নের স্বল্প মূল্যে সেচব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য জিয়াউর রহমান ক্ষেতে-খামারে বিদ্যুৎতায়নের পদক্ষেপ নেন। একফসলি জমি হয়ে ওঠে দুই ফসল-তিন ফসলের। ফলে কৃষি ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয়। তার উদ্যোগে গঠিত পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড গ্রাম বাংলার চিরবঞ্চিত জনগণ বিশেষ করে কৃষকের জন্য বিদ্যুৎতায়নের মাধ্যমে যুগান্তকারী সুফল বয়ে আনে।
জিয়াউর রহমান কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষকদের সহায়ক পরামর্শ দান, কৃষি ব্যবস্থা তত্ত্বাবধানের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্লক সুপারভাইজার, থানা পর্যায়ে কৃষি কার্যক্রমের ব্যাপক বিস্তার এবং বি.এ.ডি.সি’র মাধ্যমে পানি, সেচ এবং সার বিতরণের ব্যবস্থা করে খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করে। সমগ্র পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখে দুর্ভিক্ষের দেশ বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানি করতে সক্ষমতা অর্জন করছে। গ্রামীণ জনপদ কৃষি অর্থনীতির পুনর্জাগরণে নতুন জীবন ফিরে পায়। জনগণের সোৎসাহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণে নদী, খাল খনন, পুনর্খনন এক্ষেত্রে এক নতুন ইতিবাচক ও যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে।
সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণ করে রপ্তানির মাধ্যমে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন নতুন অর্থনীতির ছোঁয়া পায়। জিয়াউর রহমানই প্রথম সরকারি আর্থিক সহায়তায় ট্রলার কিনে সমুদ্রে মাছ ধরার এবং তা বিদেশে রপ্তানী করার ব্যবস্থা করেন- যা আজ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানের উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র তৈরি করেছে। অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন তার মাধ্যমে আজ হস্তবুনন, কারুপণ্য শিল্পে রূপান্তরিত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের কারুপণ্য দেশ-বিদেশে সমাদৃত হচ্ছে।
খুন, দখল, সেশন জট, ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনায় শিক্ষাঙ্গণ ভীতির রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগ্র দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। অস্ত্রের অভায়রণ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবারো শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চার পাদপীঠে পরিণত হয়। সন্ত্রাস ও ব্যালটবক্স ছিনতাইয়ের যুগের অবসান হয়। ডাকসু’সহ ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে থাকে। দেশে মেধা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চা এবং বিকাশের নতুন যুগের সূচনা ঘটে।
আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছিল যখন ঈদেও জামাতে পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি নিহত হওয়ার ঘটনায় লাইসেন্স ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের অস্ত্র রাখার অনুমতি দেয়া হয়। চুরি, ডাকাতি, লুণ্ঠন রাহাজানি, খুন ছিল নিত্য দিনের ঘটনা। সে সময় মানুষের দাবি হয়ে উঠেছিল স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই। আওয়ামী লীগ সৃষ্ট দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে জিয়াউর রহমান দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। জনজীবনে শান্তি ফিরে আসে। দলীয় সরকার রক্ষায় গঠিত অত্যাচারী রক্ষী বাহিনীকে সামরিক বাহিনীতে আত্মীকরণ করে দেশ রক্ষায় নিয়োজিত করেন। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করে তাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেন। ৩০ লক্ষ মহিলাসহ এর সদস্য সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, উন্নত ও মর্যাদাশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ব্যবস্থাও তিনিই গ্রহণ করেছিলেন।
স্বাধীনতাউত্তরকালে তলাবিহীন ঝুঁড়ির মত বিরূপ ভাবমূর্তি অর্জনকারী বাংলাদেশ জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রনায়ক সুলভ আচরণের কারণে জাপানকে ভোটে পরাজিত করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়। মুসলিম বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে তিনি ইরাক-ইরান যুদ্ধ অবসানে গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদ্স্ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি এবং উন্নয়নে যৌথ প্রয়াস গ্রহণের বাহন হিসেবে সার্ক গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তাঁর এই রাষ্ট্রনায়কোচিত উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে।
শহীদ জিয়া প্রবর্তিত উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতির মূল শক্তি শ্রমজীবী জনগণকে সম্মানীত করার লক্ষ্যে তিনি নিজেকে শ্রমিক বলে ঘোষণা করে পরিণত হয়েছিলেন সর্বককালের শ্রেষ্ঠতম বাংলাদেশী শ্রমিক। শ্রমজীবী মানুষের স্থায়ী ও মৌলিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি তাদের প্রশিক্ষণ, কল্যাণ, ন্যায্য মুজুরী নির্ধারণ, সামাজিক নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য প্রচলিত আইনের সংশোধন করেছেন, নির্দেশনা জারী করেছেন এবং আই.এল.ও কনভেনশন ১৪৪ অনুসমর্থন ও বাস্তবায়ন করেছেন।
রক্তে স্বাধীন মাতৃভূমির ধর্ম বর্ণ গোত্র ভাষা নির্বিশেষে সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ এবং বিশ্বসভায় স্বতন্ত্র ও সুস্পষ্ট পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মহান রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান। সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি সব মত ও পথের সমর্থকদের রাজনীতি করার, নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং অবাধ নির্বাচনে সকলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি বিজয়ী হয়েছে।
লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মদানে অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বপ্ন গণতন্ত্র, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আওয়ামী দুঃশাসনে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল, সকল আশা হতাশায় পর্যবসিত হয়েছিল। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার চেতনায় গণমানুষের মধ্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেন। রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের এবং উন্নয়নের অংশীদারীত্বে তাদের ভূমিকা অনিবার্য এই বিশ্বাস- আস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে জনসমষ্টিকে জনশক্তিতে রূপান্তর করেন। হতাশাগ্রস্ত মানুষের নির্জীব হাত হয়ে ওঠে উন্নয়নের হাতিয়ার। এখানেই জিয়াউর রহমানের সাফল্য।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অনেক সফল জাতীয়তাবাদী মহানায়কদের বিরুদ্ধে যেমনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়, সফল রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল বাংলাদেশ যারা দেখতে চায় না সেই সব দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে শাহাদত বরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি তথা জাতীয় ঐক্যের রাজনীতির নতুন ধারার প্রবর্তক জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান গণমানুষের হৃদয়ে কতটা ঠাঁই করে নিয়েছিলেন, তাদের কাছে কতটা প্রিয় ছিলেন, সেই স্বীকৃতির প্রমাণ মিলেছে তাঁর শাহাদতের পর জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে। এত মানুষের উপস্থিতি আজ পর্যন্ত বিশ্বের কোথাও কোন নেতার ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়নি। অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে বিদায় জানালেও হৃদয়ের গভীরে ধারণ করে রেখেছে। তিনি আমাদের চোখের সামনে আজ উপস্থিত নেই কিন্তু তাঁর দেশপ্রেম, কর্মোদ্যম, দূরদৃষ্টি ও নিরলস কর্মের মহিমায় সমুজ্জ্বল হয়ে এদেশের মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরকাল।
লেখক : বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি
“ নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে হলে নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে হবে ”
01/15/2017
আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া
গুলশানের নিজ বাসভবন বসেই টঙ্গির তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রোববার সকালে গুলশানের বাসা থেকে আখেরি মোনাজাতে সামিল হন তিনি। এসময় তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও মোনাজাতে অংশ নেন।
রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। প্রায় ৩৬ মিনিটের এ মোনাজাত পরিচালনা করছেন দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ। এর আগে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে হেদায়েতী বয়ান শুরু করেন তিনি। আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে সকাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ পানে লাখো মুসল্লিদের ঢল নামে।
এর আগে গত দুই বছরও বাসায় বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
01/12/2017
বকসী বাজারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা..
01/08/2017
সদ্য কারামুক্ত সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে দেখতে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার দুপুরে বিএনপি মহাসচিব সেখানে গিয়ে তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। তিনি বেশ কিছু সময় হাসপাতালে অবস্থান করেন। বিএনপি মহাসচিব তার চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলেন।
01/04/2017
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Website
Address
London, ON
N5V TO N6P
