06/06/2026
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গাইবান্ধা পৌর শাখার ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জুনায়েদ মোস্তফাকে তৃতীয় বার অবৈধ ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে...
তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, গাইবান্ধা জেলা শাখা
05/06/2026
৬ দফা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি হলেও জনগণ সমর্থন দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে, জেল খাটছে। এই দাবি পূরণ না হলে পূর্ব বাংলার জনগণের বাঁচবার কোন পথ নাই।
- বঙ্গবন্ধু
#৬দফা
03/06/2026
সকল রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই, দিতে হবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
,
#রাজনীতি #গাইবান্ধা
02/06/2026
“মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদ”
- এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক
প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
-----
আপনারা ইতোমধ্যেই অবগত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ক্রান্তিকাল আমরা অতিক্রম করছি।
ইতিহাসের পাতায় এমন সময়কে বর্ণনা করা হয় ক্ষতচিহ্নের কালি দিয়ে- যেখানে মানুষের আকাঙ্ক্ষা থাকে মুক্ত আকাশের, অথচ অত্যাচারী, জুলুমকারী ও হত্যাকারীরা তাকে বারংবার বন্দি করে শৃঙ্খলে। এই ক্রান্তিকালে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যখন জেগে উঠেছে, অন্যায়-অবিচার-জেল-জুলুম ও হত্যার প্রতিবাদ করছে ঠিক তখনই কিছু র্স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল আমার নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথাকথিত "প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ" এই শিরোনামে সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট, মিথ্যা সংবাদ ছড়াচ্ছে। যেই নিউজ পোর্টালে এই সংবাদ এসেছে - তারা আমার কাছ থেকে কোন পূর্ব-অনুমতি ও যোগাযোগ না করেই এধরনের মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন খবর প্রচার করেছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মূলত এ ধরণের ভিত্তিহীন সংবাদ, গুজব প্রচারের মাধ্যমে সুকৌশলে বাংলাদেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগের কোটি কোটি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
ইতিহাস সাক্ষী, জনগণের হৃদয়ে যার স্থান, তাকে কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়। গণমানুষের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চার প্রজন্মের রাজনৈতিক দল। সময়ের আবর্তে আবারও জননেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা'র ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হবে নতুন প্রত্যাশা, নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, সফল রাষ্ট্রনায়ক, জননেত্রী শেখ হাসিনা'র ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন খুবই সন্নিকটে। যার মাধ্যমে অতীতের অর্জন, আশা ও প্রত্যাশা সবকিছুকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির পটে আঁকা হবে নতুন এক রেখাচিত্র। ৫৬ হাজার বর্গমাইল জুড়ে ইতোমধ্যেই যে প্রত্যাবর্তনের আবহ তৈরি হয়েছে সে প্রত্যাবর্তনই হবে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির মাইলফলক।
জয় বাংলা,
জয় বঙ্গবন্ধু।
#রাজনীতি
02/06/2026
তোফায়েল আহমেদ ও রক্ষীবাহিনী প্রসঙ্গে
--------------------------
জননেতা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর পর শিবিরের বটবাহিনী উঠে পড়ে লেগেছে তোফায়েল আহমেদ ও রক্ষীবাহিনীকে ঘিরে গুজব ছড়াতে। প্রথম কথা রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের সরাসরি কোনো যোগযোগ ছিল না। তোফায়েল সাহেব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব। যা মন্ত্রীর পদমর্যাদার ছিল। রক্ষীবাহিনীর প্রধান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার এ.এন.এম. নূরুজ্জামান বীর উত্তম। সেটি পরিচালিত হত একটি বোর্ডের মাধ্যমে। সেখানে ১০ জন সদস্যের একজন ছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
প্রচার করা হচ্ছে এই রক্ষীবাহিনীর হাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। কেউ লিখছে ৩০ হাজার, কেউ ৩৭ হাজার, কেউ সাহস করে লাখ লিখে ফেলছে। কথা হলো এই সংখ্যার উৎস কী? ধরুন ২৪-এর জঙ্গি উত্থানের পর ১৪০০ সংখ্যাটা তো কোনো একটা উৎস থেকে আমরা জেনেছি। পরে অবশ্য সরকার তা সাড়ে ৮ শতে নামিয়ে আনে। সেখানে ভেজাল নিহত বেরিয়ে এসে তা ৬০০-র ঘরে চলে এসেছে। মোট কথা কোন একটা সোর্স লাগবে। বাংলাদেশের মূল ধারার কোন মিডিয়ার সূত্রে এই সংখ্যা দিচ্ছে বট বাহিনী?
প্রথমে স্পষ্ট হতে হবে কোন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে রক্ষীবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭১-এর সুমহান মুক্তিযুদ্ধের পর পুলিশ বাহিনী ছিল হতোদ্যম। কারণ বাহিনীর একটা বড়ো অংশ যুদ্ধ চলাকালে সংসারের তাগিদে পাকিস্তান বাহিনীর অধীনে চাকরি করেছে। তারা নৈতিকভাবে ছিল দুর্বল। যুদ্ধফেরত তরুণদের একটা অংশ অস্ত্র ফেরত দেয়নি। তারা পুলিশের চেয়ে উন্নত অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছিল। তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আয়তনও ছিল বেশ ছোট। কারণ পাকিস্তানে আমলে সেনাবাহিনীতে পাঠান পাঞ্জাব আর বেলুচদের আধিক্য ছিল।
এসব বিবেচনা করে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে কেন্দ্রীয় মিলিশিয়া বাহিনী গঠনের জন্য একটি বোর্ড ঘোষণা করা হয়। তার ১ নম্বর সদস্য কে ছিলেন, জানেন- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। অবশ্য রাজনৈতিক কারণে তিনিই পরে এই বাহিনীর সবচেয়ে বড়ো সমালোচক হয়ে ওঠেন। ১০ জনের বোর্ডে ৪ জন ছিল বিরোধীদলের। আরও মজার ব্যাপার তখনও কিন্তু বঙ্গবন্ধু দেশেই ফিরে আসেননি। পাকিস্তানের কারাগারে। এই মিলিশিয়া বাহিনী পরে রক্ষীবাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কীভাবে রক্ষীবাহিনী আওয়ামীলীগের নিজস্ব বাহিনী হলো?
রক্ষীবাহিনী একটি নিয়মিত সরকারি বাহিনী ছিল। এর শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন সেনাবাহিনী থেকে আসা। এমনকি জুনিয়র কমিশনড কিছু অফিসারও এখানে পদায়িত হয়েছিলেন। এই বাহিনীর নিজে থেকে কোনো অপারেশন করার ক্ষমতা ছিল না। পুলিশ বা সিভিল প্রশাসন সাহায্য চাইলেই কেবল তারা এগিয়ে আসত। তারা ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো অপারেশন করতে পারত না। অনেকটা আজকের র্যাবের মত। অবশ্য আইনগতভাবে র্যাব রক্ষীবাহিনী থেকে অধিক স্বাধীন। র্যাব যদি কোনো দলের বাহিনী না হয়ে থাকে, রক্ষীবাহিনী কী করে হয়?
অথচ এ বাহিনীকে উপস্থাপন করা হয়েছে একটি দলীয় বাহিনী হিসেবে। ১৯৭৫ সালে এ বাহিনী বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ১২ হাজার। ১২ হাজার সদস্যের একটি বাহিনী কি কোনো দল বা ব্যক্তির নিজস্ব বাহিনী হতে পারে?
রক্ষীবাহিনীর প্রথম দলটি সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ শেষে মাঠে নামলে তাদের প্রথম কাজ ছিল গাড়ির কাগজপত্র দেখা আর ট্রেনের টিকেট চেক করা। কারণ তখন ঢাকায় অস্ত্রধারীরা যুবকরা খুব গাড়ি ছিনতাই শুরু করেছিল। কেউ ট্রেনের টিকেট কাটতে চাইত না। রক্ষীবাহিনীর প্রথম দুর্বলতা ছিল তাদের অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ। আজকে পুলিশের একজন কনস্ট্রেবল ৬ মাসের প্রশিক্ষণ পায়। সেখানে রক্ষীবাহিনীর অফিসাররাও ২ মাসেরও প্রশিক্ষণ পায়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে এ ছাড়া কিছু করার ছিল না।
প্রধান শিল্পাঞ্চল টঙ্গি, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনায় নিয়মিত শ্রমিক সংঘর্ষ হত। কিছুদিন পর পর পাটের গুদামে আগুন লাগানো হত। থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি ছিল সন্ত্রাসীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু। ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে ৫৪ টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি আক্রান্ত হয়। যেখানে পুলিশই নিরাপদ নয়, সেখানে জননিরাপত্তা কী দেবে একবার ভেবে নিন। ডাকাতি খুন রাহাজানি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৭৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য মতে, ১৯৭৩ সালে ১৮৯৬ টি খুন হয়।
১৯৭২ সালের ৬ জুন সাংসদ আবদুল গফুর দুইজন সঙ্গীসহ খুন হন। ১৯৭৩ সালের ৩ জানুয়ারি নিহত হন সাংসদ সওগাতুল আলম, ১৯৭৩ সালের ৩ মে সাংসদ নুরুল হক , ১৯৭৪ সালের ১০ জানুয়ারি নিহত হন সাংসদ মোতাহার উদ্দিন আহমদ, ১৯৭৪ সালের ১৬ মার্চ নিহত হন সাংসদ গাজী ফজলুর রহমান, ১ আগস্ট ১৯৭৪ সাংসদ অ্যাডভোকেট ইমান আলী। ২৭ ডিসেম্বর ১৯৭৪ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঈদের নামাজ পড়ার সময় নিহত হন সাংসদ গোলাম কিবরিয়া। ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণার সাংসদ আবদুল খালেক নিহত হন। ১৯৭২ সালে ২৯ জন, ১৯৭৩ সালে ৭৭ জন, ১৯৭৪ সালে ৫২ জন এবং ১৯৭৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪৪ জন জনপ্রতিনিধি, ছাত্রনেতা, শ্রমিকনেতা, মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ ও রক্ষীবাহিনীর সদস্যকে হত্যা করা হয়।
কারা এই খুনগুলো করেছিল?
মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে চীনপন্থী কমিউনিস্ট দলগুলো ৬ দফার বিরোধিতা করত। তারা বলে বেড়াতো সিআইএর এজেন্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু ২৫ মার্চের গণহত্যার পর চায়নাপন্থী কমিউনিস্টদের কেউ কেউ সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেয়। তবে একে তারা মুক্তিযুদ্ধ মানতে রাজি ছিল না। তারা পাক হানাদার বাহিনীর পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধ করত। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্র সংগ্রহ। পরবর্তীতে এই অস্ত্র দিয়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করা।
দেশ স্বাধীনের পর দক্ষিণাঞ্চলে সিরাজ শিকদারের নেতৃত্বে সর্বহারা পার্টি আর দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে আব্দুল হকের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। দেশ স্বাধীনের ৬ মাস যেতে না যেতে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে সিরাজ আলম খান তার অনুসারীদের নিয়ে মূল ছাত্রলীগ থেকে বেরিয়ে এসে আরকেটি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করে। এরাই পরবর্তীতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের জন্ম দেয়। প্রথমে এরা নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালেও পরে তারাও সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। কিছু দিন আগে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেয়া ভারী অস্ত্র সজ্জিত এই তরুণদের সঙ্গে পুলিশ পেরে ওঠার কথা নয়। তাই বাধ্য হয়ে দেশপ্রমী মুক্তিযোদ্ধা তরুণদের নিয়ে রক্ষীবাহিনী গঠন করেন।
১৯৭৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দেড়শত থানায় রক্ষীবাহিনী মোতায়েন করা হয় থানার নিরাপত্তা প্রদানের জন্য। ৩ অক্টোবর পাবনার শাহজাদপুরে দুর্বৃত্তের সঙ্গে রক্ষীবাহিনীর ভয়াবহ বন্দুক যুদ্ধ হয়। এতে ৮ সন্ত্রাসী (তথাকথিত বিপ্লবী) নিহত হয়। এর পর থেকে দেশের আইন শৃঙ্খলা অনেকটা ঘুরে দাঁড়ায়। ১৯৭৫-এর প্রথমার্ধে দেশ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
অবশ্য একই বছর রক্ষীবাহিনীর চেয়ে বড়ো অভিযান চালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ১৯৭৩-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্তমানে জামায়েতে ইসলামীর নিজস্ব আসন বলে পরিচিত সাতকানিয়া রীতিমতো রাজাকার ও আলবদরদের দখলে ছিল। ৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে ৬০ জন রাজাকার ও আলবদরকে হত্যা করে সাতকানিয়া রাজাকারমুক্ত করে। এর আগে ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি দুইদিনের রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধে মিরপুরকে শত্রু মুক্ত করে সেনাবাহিনী। এতে সেনাবাহিনীর ৪১ জন বীর সদস্য নিহত হন।
রক্ষীবাহিনী ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত একটি নির্ভেজাল বাহিনী। এরা সবাই ছিল জাতীয়তাবাদী। এদের লক্ষ্যবস্তু ছিল যে উগ্র বামপন্থীরা। এই উগ্রপন্থীরাই পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যায়। ক্ষমতায় গিয়ে এরা বিভিন্ন বয়ান প্রস্তুত করে এই বাহিনীকে বিতর্কিত করেছে। যেমন আলমগীর কবির, তরিকুল ইসলামের নাম লেখা যায়। এরা দুজনেই ছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী। এরাই পরবর্তীতে বিএনপির মন্ত্রী হয়েছেন।
তখন একটি গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় রক্ষীবাহিনীর পোশাকে ভারতীয় সেনাবাহিনী দেশে হত্যা নিপীড়ন চালাচ্ছে। অনেকে তা বিশ্বাসও করত। কারণ রক্ষীবাহিনীর পোশাক প্রথমে সবুজ ছিল। পরে পাল্টে ফেলা হয়। এমনকি মওলানা ভাসানী তা বিশ্বাস করেছিলেন।
এ প্রসঙ্গে কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) আনোয়ার উল আলম রচিত রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা বই থেকে একটি গল্প তুলে ধরছি-
‘৩ সেপ্টেম্বর (১৯৭২) মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী একটি ভূখামিছিল নিয়ে রমনা পার্কের পাশে তৎকালীন গণভবনে যান। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদ সেখানে মওলানা ভাসানীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় গণভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে রক্ষীবাহিনীর একদল রক্ষীও মোতায়েন ছিল। আমি নিজেও তখন সেখানে ছিলাম। ভূখামিছিল গণভবনের কাছে পৌঁছালে মওলানা ভাসানী, কাজী জাফর আহমদ, রাশেদ খান মেনন ও হায়দার আকবর খান রনোকে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ ছিল আমাদের ওপর। সেখানে নিয়োজিত রক্ষীবাহিনীর একটি দলকে আমি নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলাম, মওলানা ভাসানীকে স্বাগত জানানোর সময় তাঁকে যেন সামরিক কায়দায় সালাম জানানো হয়। গণভবনের গেটে তাঁকে সালাম জানানোর ফলে মওলানা ভাসানী খুব খুশি হন এবং সবার খোঁজখবর নিতে থাকেন। রক্ষীবাহিনীর প্রায় প্রত্যেক সদস্যকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমার বাড়ি কোন জেলায়, কোন গ্রামে, ইত্যাদি। রক্ষীবাহিনীর সদস্যরাও জবাব দিতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর মওলানা ভাসানী তাঁর পাশে থাকা কাজী জাফর আহমদ, রাশেদ খান মেননকে বলেন, 'তোমরা না কও রক্ষীবাহিনীর সবাই ভারতীয়। আমি তো দ্যাখতাছি এরা আমাগো পোলা।' কাজী জাফর, রাশেদ খান মেনন কোনো কথা না বলে চুপ থাকেন।‘
বিভিন্ন জায়গায় সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের অভিযোগ করতে শোনা যায়, রক্ষীবাহিনীকে নাকি সেনাবাহিনী থেকে বেশি সুযোগ সুবিধা দিত বঙ্গবন্ধু সরকার। সেনাবাহিনীর পোশাক ও অস্ত্রের সংকট ছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে সবক্ষেত্রেই সংকট থাকে। আমি পেলাম না বলে, অন্য কেউ পেয়ে গেছে এটা ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে রক্ষীবাহিনীর জন্য বাজেট ছিল ৯ কোটি টাকা। সেখানে সেনাবাহিনীর জন্য ছিল ৯২ কোটি টাকা। যা পরে ১১২ কোটি টাকায় উত্তীর্ণ করা হয়।
একটা দেশে কোনো নিয়মিত বাহিনী কোনো হত্যাকাণ্ড চালালে সরকার হাজার চেষ্টা করলেও তা লুকাতে পারে না। ধরুন তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম, বঙ্গবন্ধু সরকার রক্ষীবাহিনীর অপকর্ম আড়াল করেছিল। বঙ্গবন্ধু সরকার উৎখাতের পর ২১ বছর বিরোধীরা ক্ষমতায় ছিল। তারা কি রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহতের একটি তালিকা তুলে ধরতে পেরেছে? গুজব কল্পকাহিনী বলা সহজ। প্রমাণ করা কঠিন।
একটা দেশকে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাখা তো একা সরকারের দায়িত্ব নয়। দেশের জনগণ দেশের আইনকানুন মেনে চলবে, রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করবে- তবেই তা একটা দেশ সুখে শান্তিতে ভরে উঠবে।
৯ মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি দেশ গড়ে তোলার ন্যূনতম সময় না দিয়ে তিনটি দল যদি প্রকাশ্যে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে, এই দেশকে টিকিয়ে রাখা যায় কীভাবে? এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বঙ্গবন্ধু।
০২.০৬.২৬
20260602
02/06/2026
সংসদ ও শহীদ মিনার বঞ্চিত জননেতা তোফায়েল আহমেদ: ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়
— মানিক লাল ঘোষ
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা কেবল তার ভৌগোলিক সীমানা বা শাসনতন্ত্র দিয়ে নির্ধারিত হয় না, বরং সেই জাতি তার মহান সন্তানদের বিদায়লগ্নে কতটা শ্রদ্ধাশীল, তার ওপরই নির্ভর করে ওই জাতির মানস ও নৈতিক উচ্চতা। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য নাম তোফায়েল আহমেদ—যিনি ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক, তৎকালীন ডাকসুর তুখোড় ভিপি এবং বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম প্রধান রূপকার। তিনি মুজিব বাহিনী গঠনেও রেখেছিলেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকে শুরু করে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দলের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যিনি জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন, সেই মহান নেতার শেষ বিদায়লগ্নে রাষ্ট্র এক নজিরবিহীন উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে যে আইনি হয়রানি চালানো হয়েছে এবং নিজ জেলা ভোলা—যেখানে সর্বত্র ছড়িয়ে আছে তাঁর উন্নয়নের ছোঁয়া—সেই ভোলার মাটিতে জানাজায় বিএনপির স্থানীয় সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে যে নক্কারজনক বাধা প্রদানের চেষ্টা করা হয়েছে, তা কেবল এক ব্যক্তির অপমান নয়; বরং এটি আমাদের জাতীয় রাজনীতির চরম সংকীর্ণতা ও দেউলিয়াত্বের এক নির্মম দলিল।
রাষ্ট্রের এই বৈরী আচরণের বিপরীতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১ জুনের জানাজায় ছিল এক অন্যরকম দৃশ্যপট। হাজারো শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে ঢাকার সেই প্রথম জানাজায় আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের শ্লোগান “জয় বাংলা” দিয়ে। যে মহানায়ক আজীবন রাজপথে লড়াই করেছেন, সেই বীরকে সেদিন নেতাকর্মীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে আর অগ্নিঝরা শ্লোগানে বিদায় জানিয়েছেন। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, সেই জানাজা শেষে যখন জাতি শোকাভিভূত, ঠিক তখনই অগণিত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি অভিযান চালিয়ে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়। যে মানুষটি আজীবন মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন, তাঁর বিদায়লগ্নে তাঁর অনুসারীদের ওপর এই দমন-পীড়ন ক্ষমতার চরম দম্ভেরই বহিঃপ্রকাশ।
তোফায়েল আহমেদ কোনো নির্দিষ্ট দলের গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সংসদীয় রাজনীতির এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদান থেকে শুরু করে স্বাধীনতার প্রতিটি লড়াইয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। রেকর্ড সংখ্যক ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন জনগণের সাথে তাঁর নাড়ির সম্পর্ক কত গভীর। যে সংসদকে তিনি দশকের পর দশক নিজের প্রজ্ঞা ও ক্ষুরধার যুক্তিতে মুখরিত রেখেছেন, সেই জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে তাঁর শেষ বিদায়ের আয়োজনটুকু না হওয়া কেবল এক প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি আমাদের সংসদীয় সংস্কৃতির এক গভীর ক্ষত। যেখানে একজন বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ানের প্রতি ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার প্রদর্শিত হয়নি, সেখানে এটি স্পষ্ট যে, সংকীর্ণতা আমাদের নীতিনির্ধারণী স্তরে কতটা বাসা বেঁধেছে।
ব্যথিত হওয়ার এখানেই শেষ নয়। বাঙালির ভাষা ও চেতনার প্রতীক—কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁকে নাগরিক শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগটুকুও কেন দেওয়া হলো না, সেই প্রশ্ন আজ সচেতন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এরপর ভোলার মাটিতে তাঁর শেষ বিদায়লগ্নে যে প্রতিহিংসামূলক আচরণ ও বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে, তা কেবল একজন জাতীয় নেতার প্রতি অপমান নয়, এটি আমাদের রাজনৈতিক নৈতিকতার চরম পরাজয়।
অথচ তোফায়েল আহমেদ নিজে ছিলেন এক উদার ও পরমতসহিষ্ণু রাজনীতির প্রতীক। চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের যুগেও তিনি যেভাবে ব্যক্তিগত সৌজন্য বজায় রেখে চলতেন, তা ছিল এক বিরল দৃষ্টান্ত। আজ যখন তাঁকে এবং তাঁর আদর্শকে সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতির প্রতিপক্ষ এমন দেউলিয়াত্বের পরিচয় দেয়, তখন বুঝতে কষ্ট হয় না যে, আমরা এক কতটা অসহিষ্ণু সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের ভাষায়, "রাজনীতি হলো সর্বোচ্চ মানবিক কল্যাণ সাধনের শিল্প।" তোফায়েল আহমেদ আজীবন সেই শিল্পকেই চর্চা করেছেন। যে মানুষটি নিজের প্রতিপক্ষকেও সর্বদা সম্মানের চোখে দেখেছেন, বিদায়বেলায় রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে ন্যূনতম নাগরিক সম্মানটুকু না দিয়ে নিজেদের দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করেছে। ইতিহাসের অমোঘ সত্য হলো, সাময়িক রাষ্ট্রীয় অবহেলা কিংবা সংকীর্ণতার দেয়াল দিয়ে তোফায়েল আহমেদের মতো বিশাল ব্যক্তিত্বকে ম্লান করা সম্ভব নয়। তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে থাকবেন অমর হয়ে। তবে, তাঁর জানাজায় বাধা প্রদান, আইনি হয়রানি এবং শহীদ মিনার ও সংসদ থেকে বঞ্চিত করার এই কলঙ্কিত অধ্যায় ইতিহাসের পাতায় এক চরম ধিক্কার হিসেবেই লেখা থাকবে। বীরদের সম্মান দিতে না জানা জাতি যে নতুন কোনো বীরের জন্ম দেওয়ার নৈতিক অধিকার রাখে না— এই সত্যটিই আজ আবারও প্রমাণিত হলো।
(মানিক লাল ঘোষ: সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা
সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)
#বাংলাদেশ #রাজনীতি