রংপুর
Rangpur is one of the oldest Municipality in Bangladesh, which was established in the year 1869. "Rangpur" declared as a District headquarter as on 16 Dece
30/05/2026
রংপুর জিলা স্কুলে একজন স্যার ছিলেন। আজহার স্যার। স্যারের জোড় হাতের চড় ছিল খুবই বিখ্যাত। দুই হাত দিয়ে একসঙ্গে ছাত্রের দুই গালে চড় বসিয়ে দিতে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। রংপুর জিলা স্কুলে আমার ঘোরতর বন্ধু ছিল স্বপন। সে আর আমি পাশাপাশি বসতাম ফার্স্ট বেঞ্চে। একদিন ওর সঙ্গে কী নিয়ে দুষ্টুমি করছি, আজহার স্যার দেখতে পেয়ে দুই হাত আমার দুই গালে একসঙ্গে দ্রুতগতিতে চালিয়ে দিলেন। জোড়া চড়। বললেন, ‘চিরকাল মনে রাখবা, অতিরিক্ত কথা এবং কাজ বিপদ ডাকিয়া আনে।’
আপনার সেই উপদেশ আমি ভুলিনি, জনাব। আমি মেনে চলার চেষ্টা করি অতিরিক্ত কথা না বলতে, অতিরিক্ত কাজ না করতে।
তবে শারীরিক শাস্তি মোটেও কাম্য নয়। কোনো অবস্থাতেই কোনো শিক্ষক ছাত্রের গায়ে হাত তুলতে পারেন না। এটা আমাদের আজকের শিক্ষা।
রংপুর জিলা স্কুলে অনেক শিক্ষক ছিলেন, যাঁরা আমার খুবই প্রিয়। একদিন শিশু একাডেমির জাতীয় পুরস্কার প্রতিযোগিতায় থানা পর্যায়ে তিনটিতে প্রথম হয়ে স্কুলে এসেছি। আবুল হোসেন স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘কমপিটিশনের ফল কী?’ জানালাম। তখন সেভেনে কি এইটে পড়ি। আমাকে কোলে তুলে নিলেন। কোলে করেই নিয়ে গেলেন হেড স্যারের রুমে। ‘স্যার, আনিসুল তো তিনটায় ফার্স্ট হয়েছে।’
সিরাজুল ইসলাম স্যার এলেন। নতুন। তিনিও বাংলাই পড়াতেন। তিনি আমাদের বটগাছের নিচে একটা অপরূপ অনুষ্ঠান করেছিলেন। ১৯৭৭ সালের দিকে, রংপুরের একজন স্কুলশিক্ষক, এমন একটা অনুষ্ঠানের নকশা করেছিলেন, আমি আজও বিস্ময়ে অভিভূত বোধ করি। একটা ছেলের বুকে লেখা ‘লাপ’। এখন চারটা ছেলের বুকে লেখা, ‘আ’, ‘সং’, ‘প্র’, ‘বি’। ‘আ’ এসে ‘লাপ’-এর সামনে দাঁড়াল, হয়ে গেল ‘আলাপ’, তারা আলাপ করতে লাগল। ‘বি’ এসে ‘বিলাপ’ বানাল, তারা বিলাপ করতে লাগল। ‘সং’ এল, হলো ‘সংলাপ’।
তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক ছিলেন আবদুল আলীম। বাংলা ব্যাকরণ পড়াতেন। একদিন দেয়ালপত্রিকায় আমি স্টেশন বানান মূর্ধন্য ষ দিয়ে লিখেছিলাম। তিনি বললেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন অনুসারে ইংরেজি এস-এর বাংলা হবে দন্ত্য স। বিদেশি শব্দে ষ বসবে না।
জিলা স্কুলে ফজলার স্যার, মোস্তাফিজ স্যার, কাইয়ুম স্যার, মোনায়েম স্যার, জয়েনউদ্দীন স্যার, সুবোধ স্যার, মোজাম্মেল স্যার, ওয়ালিউল স্যার—স্যারদের কথা কি আর বলে শেষ করা যাবে!
কারমাইকেল কলেজেও স্যারদের পেয়েছিলাম, যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ যত্ন নিতেন আমাদের। ইসহাক স্যার, নূরননবী খান স্যার, রফিকুল হক স্যার, ইসা স্যার।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও স্যারদের বিশেষ রকমের ভালোবাসা পেয়েছি। ড. ইনামুল হক স্যারের ক্লাস পাইনি, কিন্তু শিল্প-সাহিত্যের এলাকায় তিনিই ছিলেন আমাদের প্রধান প্রেরণা। সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেয়েছি জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যার আর আইনুন নিশাত স্যারের কাছ থেকে। এখনো পাই। আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং না করে সংবাদপত্রে যোগ দিই, তখন জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যার আমাকে ফোন করে উৎসাহ দিতেন, বলতেন, ‘থাকো, আমাদের একজন ইঞ্জিনিয়ার সাহিত্য-সাংবাদিকতায় থাকুক, আমাদের দরকার আছে।’ বইমেলায় গিয়ে স্যার আমার বই কিনেছেন। আইনুন নিশাত স্যার দেখা হলেই আমার আগের সপ্তাহের লেখায় কী আছে, তা নিয়ে একটা বিবরণ দেন। বলেন, ‘পড়েছি, বুঝেছ তো!’
জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যার একদিন বাসায় এসে হাজির। মেয়ের বিয়ের কার্ড দিতে নিজে এসেছেন। মনে হয়, সেই দিনই লিফট বন্ধ ছিল, সিঁড়ি দিয়ে চারতলায় উঠলেন।
সর্বশেষ জামিল স্যার ফোন করলেন, ‘আনিস, তুমি সাক্ষাৎকারে বলেছ, নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ পেলে তুমি ইংরেজি শিখবে। শোনো, ইংরেজি শেখার জন্য নতুন করে জীবন শুরু করতে হবে কেন? এখনই শুরু করো।’
যাঁরা আমার সরাসরি শিক্ষক নন, তাঁদের কাছেও তো কত শিখি। সৈয়দ শামসুল হক ১৯৮৪ সালে রংপুর গিয়ে আমাকে বলেছিলেন, ‘নতুন লেখকদের উদ্দেশে আমার তিনটা উপদেশ আছে—পড়ো, পড়ো এবং পড়ো।’
আমি তাঁর উপদেশ মনে করার চেষ্টা করি। আমি তখন বুয়েটে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরুর জন্য অপেক্ষা করছি। তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনার বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ আছে।’ সৈয়দ শামসুল হক বললেন, ‘অশ্লীলতার প্রশ্নটি সামাজিক প্রশ্ন। সাহিত্যিক প্রশ্ন নয়।’ আমি মেনে নিলাম। পরে বন্ধুরা বলল, ‘কেন মেনে নিলে? বলতে, সাহিত্য কি সামাজিকতার বাইরের কিছু?’
হায়, এই প্রশ্নের আজও সমাধান হলো না। সাহিত্য, সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী একটা পোয়েটিক লাইসেন্স চায়, তাদের দরকার অনন্ত স্বাধীনতা। সামাজিকেরা বলবেন, কী লেখা উচিত, কী নয়। কিন্তু সেটা মাথায় করে বসে থাকলে কোনো লেখকই লিখতে পারবেন না। আমাদের দেশে লেখকের স্বাধীনতার বলয় ছোট হয়ে আসছে, শ্বাসরোধী একটা অবস্থা!
তেমনিভাবে শিক্ষক না হয়েও যাঁর কাছে বিপদে এবং সম্পদে যাই, তিনি হলেন আনিসুজ্জামান। কত সিনিয়র একজন মানুষ, ফোন করলে ফোন ধরেন। তিনি কী অবস্থায় আছেন, খাচ্ছেন, ঘুমোচ্ছেন, নাকি অনুষ্ঠানের মঞ্চে, বিচার না করেই বলি, ‘স্যার, যারা ভোর এনেছিল নামের একটা উপন্যাস লিখব। বঙ্গবন্ধু, মাওলানা ভাসানী, তাজউদ্দীন, এঁরা হবেন চরিত্র, ভয়ে লিখব নাকি নির্ভয়ে লিখব?’ স্যারের স্পষ্ট উত্তর, নির্ভয়ে লিখবে।
কত স্যারদের কথাই তো বলা যায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে কবির স্যারের ঘরে গিয়ে দেখেছিলাম সঞ্চয়িতা ও সঞ্চিতা, যিনি আমাকে পড়ে শোনাতেন ‘খুকি ও কাঠবেড়ালি’। একদিন বগুড়ার সোনাতলা পিটিআইতে কবির স্যার ব্ল্যাকবোর্ডে লিখলেন ‘খুকী’। আমি বই দেখে বললাম, স্যার, খুকি বানান হ্রস্ব ই–কার হবে। পরে দেখি, পুরো স্কুলে হইহই রব, স্যার সবাইকে বলে বেড়িয়েছেন, আনিস আমার বানান ঠিক করে দিয়েছে। নিজের ভুল রাষ্ট্র করে বেড়িয়ে যিনি ছাত্রের গৌরব প্রচার করেন, তিনিই তো শিক্ষক।
কথায় বলে, একজন শিক্ষক কেবল নিজের ছাত্রের কাছেই পরাজিত হলে গৌরব বোধ করেন। ক্লাস টুয়ে আমি আমার কবির স্যারের কাছে সেই শিক্ষা পেয়েছিলাম।
এবার আরেক শিক্ষকের কথা বলব। তিনি বুয়েটে পড়াতেন। কিন্তু আমার সরাসরি শিক্ষক নন। আমি তাঁকে স্যার বলেই ডাকি। গোলাম কবির। আমেরিকার নিউ জার্সিতে থাকেন। স্যারকে বললাম, স্যার, নিউইয়র্কে আছি। নিউ জার্সিতে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান। প্রথিতযশা বিজ্ঞানী এম জাহিদ হাসানের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিন। স্যার বললেন, আচ্ছা অমুক দিন। সেদিন স্যার দুই ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে এলেন। আমি তঁার গাড়িতে উঠলাম। প্রিন্সটনে জাহিদ হাসানের সঙ্গে দেখা করলাম। পৃথিবী, মহাকাশ, সাহিত্য–দর্শন নানা বিষয়ে এই গবেষকের কথা শুনলাম। টনি মরিসন (নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন লেখক, সম্প্রতি প্রয়াত) কোথায় বসেন, আইনস্টাইন কোন ল্যাবে কাজ করতেন, দূর থেকে দেখলাম।
সন্ধ্যায় গোলাম কবির স্যার তাঁর বাড়িতে নিয়ে গেলেন। অতিথিও এসেছেন কয়েকজন। স্যার বললেন, আনিস, সারা দিন তোমাকে কথাটা বলা হয়নি। কাল বেশ রাতে, মানে আজ ভোরে ঢাকা থেকে খবর এসেছে, আমার মা মারা গেছেন। তোমাকে দেওয়া কথা আমি রক্ষা করতে চেয়েছি। আর সারা দিনে তোমার মনটা আমি খারাপ করে দিতে চাইনি।
মা হারানোর বেদনা আমি বুঝি। ২০১৮ সালের নভেম্বরে আমি মা হারিয়েছি। আবার গোলাম কবির স্যারের বাস্তবতাও আমি বুঝি।
কোনো কোনো সময় উপস্থিত ছাত্র একজন শিক্ষকের জন্য অনেক বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। স্যার, আপনাকে কী বলে ভালোবাসা জানাব, জানি না। স্যার, আপনার মাধ্যমে আমি সব শিক্ষককেই ভালোবাসা জানাই।
20/05/2026
এই দেখেন ধর্ষকের শাস্তি!
এতক্ষণ রসু খার বর্তমান অবস্থা জানতে উইকিপিডিয়া পড়লাম, প্রথম আলো পড়লাম নিচের লিখার ক্রস-ম্যাচের জন্য।রসু এখনো ভালোই আছে!
"আজকালকার পোলাপানরা হয়তো একে চিনবে না। এর নাম হইলো রসু খাঁ। ২০০৯ সালে একে এরেস্ট করা হয় ১১ জন নারীকে ধর্ষণ+হ'ত্যা করার জন্য।
নারীদের যোনীপথে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া, স্তন কে**টে ফেলা সহ এমন জঘন্য কিছু জিনিস করতো যা লিখতেও মন চাচ্ছে না।
রসু খাঁ'র স্বপ্ন ছিলো ১০১ টা নারী ধর্ষোন করে তারপর তওবা করে ভালো হয়ে যাওয়া, তো ২০০৯ সালে এরে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।
কিন্ত এখন ২০২৬ সাল চলে, এখনো এর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় নাই। ১৭ বছর ধরে জেলে বসে রিলাক্সে জনগনের ট্যাক্সের টাকায় ফ্রিতে খাওয়া দাওয়া, চিকিৎসা পাচ্ছে। কাদের টাকা এগুলা? ওই ১১ জন ভিক্টিমের পরিবারের ট্যাক্সের টাকাও তো ওখানে ব্যয় হচ্ছে!
পশ্চিমা আইনব্যবস্থা এত জঘন্য যে, যেই ব্যক্তি আপনার মা, বোন, মেয়েকে ধরষোন করবে তাকে আপনি আপনার টাকা দিয়ে পালবেন। সে জেলে বসে খাবে, ঘুমাবে আর পাশের কয়েদিদের সাথে বসে রসিয়ে রসিয়ে আপনার মা, বোনের উপর হওয়া অত্যাচারের বর্ণনা দিবে আর সেসব কয়েদিরাও কল্পনায় আপনার মা, বোনকে আরেকবার ধর্ষন করবে।
রাষ্ট্র ট্যাক্স নিবে অথচ ন্যায়বিচার দিতে পারবে না। এখানে শরিয়াহ আইন থাকলে ১ সপ্তাহে বিচার হতো, তাও জনসম্মুখে। গতবছরের আফিয়া নামের মেয়েটা যে মারা গেলো, ন্যায়বিচার পাইছে? এইবারের রামিশাও পাবে না। বাদ দেন এসব, কয়েকদিন পরে আবার বিশ্বকাপ। ওইটায় ফোকাস দেই আপাতত সবাই!"
লেখা : Emon dewan
14/05/2026
রংপুর নগরীতে ৫ কোটি টাকার বিলাসবহুল বাড়ি- স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে সাড়ে ৫ কোটি টাকার রেস্টুরেন্ট।
11/05/2026
একটা মেডিকেল রিসার্চ পাবলিকেশন এ দেখলাম। সবচেয়ে বেশি জীবাণু থাকে, থালাবাসন মাজার এই মাজুনিতে। একটা টয়লেটে যতটা ব্যাকটেরিয়া থাকে, তারচেয়েও বেশি ব্যাকটেরিয়া এটাতে থাকে।
এবং ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম কারণের মধ্যে এটা একটা।
তাই বলা হচ্ছে প্রতিদিন থালা বাসন মাজার এটা বদলে ফেলুন। কিন্তু এটা তো সম্ভব না। তাই প্রতিদিন ফুটন্ত পানিতে এটা ডুবিয়ে পরিস্কার করুন। এতেই এটা ডিজইনফেকটেড হয়ে যাবে।
ব্যাপারটা কিন্তু খুব সহজ। রাতে একটা ছোট্ট হাড়িতে পানি ফুটন্ত অবস্থায় এটা জাস্ট ডুবিয়ে রাখুন। সকালে আবার ব্যাবহার করবেন।🖤
তাজহাট জমিদার বাড়ি
29/04/2026
ইতিহাস বড় নির্মম, আবার ইতিহাস বড় সত্যনিষ্ঠ।
আজ যখন রূপপুরের গম্বুজ আকাশ ছুঁতে চাইছে, তখন আমাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। যারা বলেন রূপপুর হঠাৎ করে হয়েছে, তারা মিথ্যে বলছেন। যারা এর কৃতিত্ব নিতে চান, তাদের জানা উচিত এই ইটের নিচে কতটা রক্ত আর মেধা মিশে আছে।
১৯৬১ সালে যখন ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলো, তখন বাংলার মানুষের চোখে ছিল এক সোনালী স্বপ্ন। কিন্তু সেই অগ্রগতির রথ থমকে গেল কেন? উত্তরটা পরিষ্কার, তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক নীতি।
১৯৬৩ সালে রূপপুরের জন্য একটি রিয়্যাক্টর অনুমোদিত হয়েছিল। কোথায় গেল সেই রিয়্যাক্টর? সেটি কৌশলে করাচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (KANUPP) সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বাঙালির পকেটের টাকায় বরাদ্দ হলো, অথচ আলো জ্বললো করাচিতে।
বারবার রূপপুরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করা হয়েছে। এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম ছিল না, এটি ছিল একটি জাতির মেধা ও ভবিষ্যতের ওপর চরম আঘাত। তারা জানত, পূর্ব বাংলা যদি একবার জ্বালানি শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, তবে তাদের দাসত্ব থেকে আমরা মুক্তি পাব।
১৯৭১-এ দেশ স্বাধীন হলো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দায়িত্ব নিয়েই ১৯৭৩-৭৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে নতুন করে আলোচনার টেবিলে বসলেন। তিনি বুঝতেন, শিল্পায়ন ছাড়া মুক্তি নেই। কিন্তু ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, সেদিন বাংলাদেশের 'নিউক্লিয়ার ড্রিম' বা পারমাণবিক স্বপ্নকেও সপরিবারে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এরপর যে সরকার গুলো এসেছে, তারা ছিল নতজানু। কোনো সরকার বড় ধরনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি নিতে চায়নি, কারণ তাদের দেশপ্রেম ছিল ঠুনকো। তারা চেয়েছিল এ দেশ আমদানিনির্ভর হয়ে থাকুক।
আজ এই মহান দিনে দাঁড়িয়ে আমি একজনের নাম উচ্চারণ না করলে পাপ হবে। তিনি ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। লোকে তাকে চেনে বঙ্গবন্ধুর জামাতা হিসেবে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বামী হিসেবে কিন্তু আমি তাকে চিনি এই প্রকল্পের 'ত্রাতা' হিসেবে।
ড. উসমানী ছিলেন পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্ণধার এবং ড. ওয়াজেদ মিয়ার মেন্টর। ১৯৬৩ সালের মূল পরিকল্পনায় ড. উসমানীর যে স্বপ্ন ছিল, তাকে কারিগরিভাবে পূর্ণতা দিয়েছিলেন ড. ওয়াজেদ মিয়া।
পঁচাত্তর পরবর্তী দীর্ঘ সময় যখন রূপপুর ছিল একটি পরিত্যক্ত ধূলিময় ফাইল, তখন ড. ওয়াজেদ মিয়া হতাশ হননি। পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি লড়াই করেছেন জমিটুকু রক্ষা করার জন্য। তিনি জানতেন, জমি একবার হাতছাড়া হলে এই স্বপ্ন আর কোনোদিন বাস্তবায়ন হবে না।
তিনি কোনো পলিটিক্যাল লিডার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন খাঁটি বিজ্ঞানী। তিনি বই লিখেছেন, গবেষণাপত্র তৈরি করেছেন এবং রূপপুরের কারিগরি ও প্রশাসনিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
২০০৯ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন এই প্রকল্পের দায়িত্ব নিলেন, তখন তাকে জিরো থেকে শুরু করতে হয়নি। ড. ওয়াজেদ মিয়া যে রোডম্যাপ তৈরি করে দিয়েছিলেন, সেই নকশাই ছিল আমাদের মূল শক্তি।
ড. ওয়াজেদ মিয়া তার মেধা দিয়ে রূপপুরকে নথিপত্রে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন বলেই আজ আমরা রাশিয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে পারছি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আজ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, এটি ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার দেশপ্রেম এবং ধৈর্যের এক জীবন্ত স্মৃতিস্তম্ভ।
ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, আবার কাউকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে ভুল করে না। আজ রূপপুরের প্রতিটি ইউনিট যখন চালু হবে, তখন বাংলার প্রতিটি ঘরে যে আলো জ্বলবে, সেই আলোর ভেতরে আমি ড. ওয়াজেদ মিয়ার সেই নিরলস পরিশ্রমের ছায়া দেখতে পাই।
এটিই তার প্রতি জাতির শ্রেষ্ঠতম শ্রদ্ধা।
Haga clic aquí para reclamar su Entrada Patrocinada.
Localización
Contacto la empresa
Página web
Dirección
GUPTA PARA
Quito
5400
