23/12/2025
এক হাদী ভক্তের ওয়াল থেকে নেয়া শাউয়া ছেঁড়ার গল্প :
পড়ন্ত বিকেলে নিভু নিভু আলোয় শহীদ শরীফ ওসমান হাদী ভাইয়ের কবর জিয়ারতের উদ্দেশে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে থেকে রিকশায় উঠলাম । যথারীতি ভাড়াও ঠিক করেছিলাম । কিন্তু নামার পর বাঁধে বিপত্তি ।
রিকশাওয়ালা মামা হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন, “মামা কি হাদী ভাইয়ের কবর জিয়ারত করতে আইছেন ?”
আমি উত্তর দিতে দিতে পকেট থেকে টাকা বের করছিলাম । মুহূর্তেই তিনি বেঁকে বসলেন — আমার কাছ থেকে ভাড়া নেবেন না ! কেনো নেবেন না, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই । সমাধি চত্বরে কিছুক্ষণ নীরবে তাকিয়ে থেকে রিকশা ঘুরিয়ে চলে গেলেন । জোর করেও আর টাকা দিতে পারলাম না ।
কবর জিয়ারত শেষে দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে যখন বাসায় ফিরবো ভাবছি, তখন কেনো যেনো অস্থিরতা কাটছিলোই না। হাদী ভাইয়ের মুখটা বারবার ভেসে উঠছিল । তাই বাসায় না গিয়ে ভাবলাম একটু চন্দ্রিমা উদ্যানে হাঁটাহাঁটি করি — হয়তো মনটা হালকা হবে । সে উদ্দেশ্যেই বাসে করে চলে গেলাম চন্দ্রিমা উদ্যানে ।
ভিতরে ঢুকে একান্ত মনে হাঁটছি । মাথার ভেতর শুধু হাদী ভাইয়ের কথাই ঘুরছে — এমন সময় হঠাৎ গাছের আড়াল থেকে এক গায়েবী কণ্ঠ, “মামা লাগাবেন ? মামা লাগাবেন ?”
আমি আচমকা থতমত খেয়ে গেলাম । ভালো করে তাকিয়ে দেখি, এক মেয়ে — কিছু একটা 'লাগানোর' কথা জিজ্ঞেস করছে । কাছে গিয়ে জানতে চাইলে সে বললো, “আপনি খুব বিষন্ন মনে হাঁটতেছেন । সেই বিষণ্নতা দূর করার ওষুধ আমার কাছে আছে । গাছের চিপায় আসেন ।”
আর বুঝতে বাকি রইলো না । প্রথমে একটু হেজিটেট করলেও, হঠাৎ করেই আমার অবুঝ মনে ভেসে উঠলো প্রিয় বিপ্লবী হাদী ভাইয়ের সেই জোরালো আহ্বান —
“ শাউয়া মাউয়া ছিঁড়া ফালাইতে হইবো ”
ভাবলাম, হাদী ভাইয়ের শোক কাটানোর জন্য তার আহ্বানে সাড়া দেয়ার চেয়ে বড় উপায় আর কী হতে পারে ! তাই চট করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম ।
আর দেরি না করে পায়জামাটা নামিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লাম ঝোপের আড়ালে ।
মেয়েটা যতোবার 'মাগো আহা উহু' করছিলো, আমার কানে ততোবারই ভেসে আসছিলো প্রিয় হাদী ভাইয়ের সেই তেজদীপ্ত ভাষণ — “শাউয়া মাউয়া ….”
অবশেষে সফলভাবে 'শাউয়া ছিঁড়া কর্মসূচি' সমাপ্ত করে পায়জামার ফিতা বেঁধে যখন পকেটে হাত দিলাম ভাসমান মেয়েটিকে টাকা দেওয়ার জন্য, সে হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো, “মামা, আপনি কি আমগো শহীদ হাদী ভাইয়ের ভক্ত ?”
আমি অবাক হয়ে বললাম, “তুমি বুঝলা কীভাবে ?”
সে বললো, “আপনি যখন আমার শাউয়া ফাটাচ্ছিলেন, বারবার ‘ও হাদী ভাই, ও হাদী ভাই’ বলে গোঙানি দিচ্ছিলেন — সেখান থেকেই বুঝেছি ।”
আমি উত্তর দিতে দিতেই পকেট থেকে টাকা বের করছিলাম । ঠিক তখনই মেয়েটি বেঁকে বসলো — সে নাকি আমার কাছ থেকে চো*দা খাওয়ার টাকা নেবে না ! কেনো নেবে না, তারও কোনো ব্যাখ্যা নেই ।
চলে যেতে যেতে শুধু বললো — “এই দুনিয়ায় একমাত্র হাদী ভাই -ই শাউয়ার যথাযথ মর্যাদা দিছে । সেই হাদী ভাইয়ের ভক্তদের কাছ থেকে শাউয়া ছিঁড়ার জন্য টাকা নেওয়া মানে হাদী ভাইকেই অপমান করা ।” এই কথা বলেই মেয়েটি টাকা না নিয়েই অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো ।
আর আমি সেই অন্ধকারের দিকেই কিছুক্ষণ অপলক তাকিয়ে থেকে, একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে, হাদী ভাইয়ের শাউয়ার কথা একবার মনে করে চুপচাপ বাসায় ফিরে এলাম । একই দিনে পরপর দুইটা একইরকম ঘটনা হাদী ভাইয়ের স্মরণে ঘটলো আমার সাথে ।
হাদী ভাই দেখো, তুমি কতো মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছো !! 😢 😭
টাইমলাইন কার্টেসি : শেখ আহমেদ