24/09/2026
আগামী ২৮/২৯/৩০ সেপ্টেম্বর ৩, দিনের ব্যাংক ধর্মঘট - একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন।
দেশের ব্যাংক কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, চাকুরীর শর্তাবলী - সবই নির্ধারিত হয় ব্যাংক কর্মচারী - অফিসারদের সংগঠন সমূহের প্রতিনিধিত্বকারী কেন্দ্রীয় সংগঠন UFBU (ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস) এবং সমস্ত ব্যাংক গুলির পরিচালক দের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন IBA বা ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস এসোসিয়েশন এর মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে। ১৯৬৬ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল এবং এখনও চলছে।
২০২৪ সালের ৩০ মার্চ ব্যাংক মালিক সংঘ বা IBA এর সাথে UFBU একটি চুক্তি সম্পাদন করে যে ব্যাংক সপ্তাহে ৫, দিন খোলা থাকবে (5 days banking)।
ব্যাংক কর্মচারী ও অফিসার দের যুক্তি ছিল যে
সারা বিশ্বের আর্থিক বাজার, শেয়ার বাজার সমূহ শনি এবং রবিবার বন্ধ থাকে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, শনিবার ও রবিবার বন্ধ থাকে। দ্বিতীয়ত ব্যাংক গুলির কাজের বৈচিত্র্য বেড়েছে, ব্যাংক গুলিকে ইন্স্যুরেন্স এর ব্যবসা, মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবসা সহ গ্রাহক পরিষেবার নিত্য নূতন বিচিত্রধর্মী কাজের মধ্যে যুক্ত থাকতে হয়, ফলে ব্যাংক কর্মী অফিসার দের ধারাবাহিক চাপের মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত করতে হয়। দুদিন ছুটি পেলে কর্মচারীদের কিছুটা শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি মেলে তাছাড়া রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সপ্তাহান্তে দুদিন ছুটি থাকে। এর বিনিময়ে ব্যাংক কর্মচারীরা প্রতিদিন আরও ৪০ মিনিট করে গ্রাহক পরিষেবার কাজে যুক্ত থাকবে।
ব্যাংক মালিক সংঘ বা IBA ব্যাংক কর্মচারীদের দাবি মেনে নেয় এবং ৩০ মার্চ ২০২৪ তারিখে 'সপ্তাহে ৫ দিন ব্যাংক ' সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক এই চুক্তিতে সীলমোহর দিলেই সেটি চালু হয়ে যাবে।
৩০ মাস অতিক্রান্ত হতে চলছে কিন্তু কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক এই চুক্তিকে এখনও মান্যতা দেয়নি। যেটুকু খবর - দেশের বৃহৎ পুঁজিপতি সপ্তাহে ৫, দিন ব্যাংক চালু থাকার ব্যাপারে তাদের অনীহা জানিয়েছে।
দৃশ্যত সরকার এখানে বৃহৎ পুঁজিপতি দের পক্ষ নিয়েছে।
৩০ মার্চ ২০২৪ এর পর থেকে অসংখ্য ছোট বড় চিঠি লেখা হয়েছে, বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে কিন্তু তারপরও সরকারের চৈতন্য ফেরেনি। অবশেষে UFBU র পক্ষ থেকে ধর্মঘটের নোটিশ দেওয়া হলো।সেই অনুযায়ী ১১সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেশব্যাপী ১ দিনের ব্যাংক ধর্মঘট সফল ভাবে পালিত হয়।
এই আন্দোলন কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৮/২৯/৩০ সেপ্টেম্বর একটানা তিন দিন ব্যাংক শিল্পে ধর্মঘট পালিত হবে। সরকারের সম্বিৎ না ফিরলে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ব্যাংক শিল্পে দেশ ব্যাপী লাগাতর ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই ধর্মঘটে যারা যোগ দেবেন তাদের সেই তিনদিনের বেতন কাটা যাবে, তা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্মচারীরা এই ধর্মঘট সফল করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ব্যাংক কর্মী এবং অফিসাররা মনে করেন যে দ্বিপাক্ষিক দর কষাকষির মাধ্যমে দাবি আদায় করার চিরাচরিত প্রথাকে মান্যতা না দিয়ে সরকার ইউনিয়ন গুলিকে এবং কর্মী ও অফিসারদের অমর্যাদা এবং অপমান করেছে এবং এটি তাদের আত্মসম্মানের পক্ষে একটি মারাত্মক আঘাত।
CITU সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় সংগঠন ব্যাংক কর্মীদের এই ধর্মঘট কে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।