29/09/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন
ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি, আগরতলা।
ওয়ারেংবাড়িতে তিপ্রা মথার প্রার্থী ও কর্মীদের উপর গুলিচালনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা।অভিযুক্ত গাড়ি শনাক্ত করে দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা ও ওয়ারেংবাড়ি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি।
আগরতলা, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং।
গতকাল ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের দিন গামারিয়া ভিলেজের ওয়ারেংবাড়িতে তিপ্রা মথার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও কর্মীদের উপর গুলি চালনা ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন, ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।ভোট লুট ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীদের ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় জনগণের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুষ্কৃতকারীরা গাড়িতে করে এলাকায় এসে তিপ্রা মথার প্রার্থী ও কর্মীদের উপর গুলি চালায়। যার ফলে প্রার্থী সহ কয়েকজন গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িগুলির নম্বর সম্পর্কেও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এত গুরুতর একটি ঘটনায় অভিযুক্তদের এখনও গ্রেপ্তার না হওয়া এবং পুলিশের কার্যকর ভূমিকার অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন মনে করে, নির্বাচনের দিন সংঘটিত সশস্ত্র হামলা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের উপর সরাসরি আঘাত। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বা কর্মীর উপর সশস্ত্র হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্তরা বিজেপির লোক বলে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
উল্লেখ্য, এবারের ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে মাতাবাড়ি ব্লকের ১২টি ভিলেজ কমিটির মোট ৮৮টি আসনে বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে কোনো আসন সমঝোতা হয়নি। ফলে কার্যত দুই শরিক দলের প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলেও, কোনোভাবেই ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করা, ভয় দেখানো, বুথ দখলের চেষ্টা করা কিংবা সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা মেনে নেওয়া যায় না।
সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের অভিযোগ, মাতাবাড়ি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় বহিরাগত ব্যক্তিদের গাড়িতে করে ঘোরাফেরা এবং নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বাধার সম্মুখীন হওয়ার পর ওয়ারেংবাড়িতে এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে।এটি নির্বাচনী আচরণবিধি গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের ঘটনা। রিটার্নিং অফিসারের সাথে বৈঠকে বেআইনীভাবে বহিরাগতদের এনে ভোটারদের উপরে প্রভাব বিস্তার করার বিষয়ে বারবার সবাইকে সতর্ক করা হয়েছিল।তাই,অভিযোগগুলির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন :-
রাজ্য কমিটির আরও অভিযোগ, সম্ভাব্য গোলমালের আশঙ্কা এবং বহিরাগত দুষ্কৃতকারীদের চলাচল সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে তথ্য থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ও প্রশাসন সময়মতো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে নির্বাচনের দিনেই একটি গুরুতর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পর ওয়ারেংবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তার দাবিতে রাত পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করেন। পুলিশকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য সময় দেওয়া হলেও কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় আজ পুনরায় অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন মনে করে, জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে অবিলম্বে দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের ঊর্ধ্বে উঠে তদন্ত পরিচালনা করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
গামারিয়া স্কুলে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে:-
ওয়ারেংবাড়ি বুথে সংঘটিত ঘটনার পর নির্বাচনী সামগ্রী ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই স্ট্রং রুমে কোনো বহিরাগত বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির বেআইনি প্রবেশ রোধ করতে কঠোর ও নিরপেক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনী সামগ্রী ও ভোটের নিরাপত্তা সম্পর্কে সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
ওয়ারেংবাড়ি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি:-
সশস্ত্র হামলা, ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং নির্বাচনী পরিবেশের গুরুতর বিঘ্নের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়ারেংবাড়ি বুথের নির্বাচন যথাযথ তদন্ত ও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী পুনরায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছে সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন।
সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন, ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি নিম্নলিখিত দাবিগুলি জানাচ্ছে—
১)ওয়ারেংবাড়িতে গুলিচালনার ঘটনার অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।
২)প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য ও গাড়ির নম্বরের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
হামলায় ব্যবহৃত গাড়িগুলি শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী জব্দ করতে হবে এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করতে হবে।
৩)আহত সকলকে সরকারি খরচে উন্নত ও যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
৪)ওয়ারেংবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় নিরপেক্ষ ও পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫)স্ট্রং রুম ও নির্বাচনী সামগ্রীর নিরাপত্তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো বহিরাগত বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির বেআইনি প্রবেশ বন্ধ করতে হবে।
৬)নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ওয়ারেংবাড়ি বুথে পুনর্নির্বাচন করতে হবে।
৭)নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮)ভবিষ্যতে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসন ও পুলিশকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে।
সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে রক্ষা করা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্বাচনের নামে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভয়ভীতি, সশস্ত্র হামলা বা ভোট লুটের প্রচেষ্টা বরদাস্ত করা উচিত নয়।
ওয়ারেংবাড়ির ঘটনায় অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকায় শান্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য রাজ্য সরকার, নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছে সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন, ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি।
ইতি,
পার্থ কর্মকার
রাজ্য সম্পাদক
সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন
ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি
আগরতলা
তারিখ: ২৯/০৯/২০২৬