Ratibati Colliery

Directions Website

Ratibati Colliery about Ratibati ,kashinathpur ,chapui area. in between Asansol & Raniganj! Buss stop Chanda More!

স্মৃতির সরণিতে অমর প্রাপ্তি:-​গভীর রাত। চালকুমড়োর মাচায় জোনাকিদের লুকোচুরি খেলা থামেনি এখনো। বাঁশবাগানের মাথার ওপর দিয়ে ...
05/09/2026

স্মৃতির সরণিতে অমর প্রাপ্তি:-

​গভীর রাত। চালকুমড়োর মাচায় জোনাকিদের লুকোচুরি খেলা থামেনি এখনো। বাঁশবাগানের মাথার ওপর দিয়ে একফালি চাঁদ উঁকি মারছে। সেই মায়াবী চাঁদের আলো জানালার গরাদ গলে এসে পড়েছে রামানুজ বাবুর পুরনো কাঠের টেবিলটার ওপর। সেখানে রাখা আছে তাঁর একসময়ের প্রিয় ছাত্র অনিকেতের জেতা একটা পুরনো মেডেল, আর তার সেই জরাজীর্ণ কবিতার খাতাটা।
​আজকালকার দিনে শিক্ষার আঙিনায় যেখানে কেবলই অর্থের ঝনঝনানি, শিক্ষক আর ছাত্রের সম্পর্কটা যেখানে নিতান্তই বাজারের কেনাবেচার মতো রুক্ষ, রামানুজ বাবুদের সময়টা কিন্তু এমন ছিল না। তখন স্কুল মানে ছিল এক ছায়াসুনিবিড় তপোবন। সেই গভীর মমতার টানেই আজ মধ্যরাতে বৃদ্ধ মাস্টারের চোখের কোণে জল চিকচিক করে উঠল। বড় অকালে হারিয়ে যাওয়া অনিকেত আর তার বন্ধুদের সেই সোনালি কৈশোরের স্মৃতি আজ বড় বেশি করে মনে পড়ছে।
​সেই হারানো বসন্ত আর কালভার্টে ছাত্রদের আড্ডা আর দূর থেকে স্কুলের কোন শিক্ষককে আসতে দেখলেই পড়িমরি করে ছুটে পালানো!
​রামানুজ বাবুর চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে ওঠে নব্বইয়ের দশকের সেই পুরনো দিনগুলো। অনিকেতদের রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পেছনে আজকের মতো ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা নেটফ্লিক্সের কোনো হাত ছিল না। জীবনের প্রথম অগোছালো প্রেমই সে দায়িত্ব পরম যত্নে কাঁধে তুলে নিয়েছিল। আর বাকি যে পাঁচ শতাংশ ফাঁকিবাজি, তার রসদ জোগাত আসানসোল-রানিগঞ্জ অঞ্চলের সুভাষ, গোধূলি আর মনোজ সিনেমা হলগুলি।
​টিউশন থেকে ফেরার পথে সাইকেলের চেন পড়ে গেলে সবার মিলে কালিমাখা হাতে সেটা ঠিক করা, মোড়ের মাথায় কালভার্টের ওপর বসে বন্ধুদের সেই অন্তহীন আড্ডা, কিংবা একটা হাফ-কাটিং চা আর বাদলের সিঙ্গারা সবার মধ্যে ভাগ করে খাওয়ার যে অনাবিল আনন্দ ছিল, তা আজকের এই যান্ত্রিক যুগে কোথায়! খানিকটা রূপ কুমার রাঠোর, খানিকটা 'কেয়ামত সে কেয়ামত তক', আর অনেকটা হঠাৎ পাওয়া বসন্তকাল। গোলবাগান, ঊষাগ্রাম গার্লস স্কুল আর বি.বি কলেজের রাস্তায় কতশত স্মৃতির আনাগোনা!
​
​ রামানুজ বাবুর মনে পড়ে, ছাত্রদের তিনি কে.সি. নাগের 'নব গণিত' থেকে অঙ্ক শেখাতেন। সেই হলুদ মলাটের বইটা কারও কাছে ছিল অমৃতভাণ্ডার, আবার কারও কাছে দুঃস্বপ্ন। তেল চপচপে বাঁশে বাঁদরের ওঠানামা, কিংবা অঙ্ক কষে পিতার বয়স বের করা, সেই চিরন্তন গরু-মহিষের অঙ্ক এইসব পাটিগণিত কখন যে পরিবারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যেত, তা বোঝার আগেই মাধ্যমিকের গণ্ডি পার।
​
​আজ কালের নিয়মে কোথায় যেন সব হারিয়ে গেল! অনিকেত আজ আর নেই, কিন্তু তার বন্ধুরা আজ সবাই জীবনের সংগ্রামে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছে। সেই চিরন্তন গরু-মহিষের অঙ্ক ভুলে তারা আজ বাস্তব জীবনে গরুর দুধের খরচের অঙ্ক কষে, আর জীবনের শেষ অঙ্কে পৌঁছানোর অপেক্ষায় দিন গোনে।
​কিন্তু ওই গরিব অথচ মেধাবী ছেলেমেয়েদের জন্য রামানুজ বাবুর গড়া "অনিকেত স্মৃতি শিক্ষা তহবিল" আজও বেঁচে আছে। কত গরিব ঘরের ছেলেমেয়ে যে এই তহবিলের সাহায্যে পড়াশোনা চালিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা খেলোয়াড় হলো, তার ইয়ত্তা নেই। তারা যখন ফিরে এসে রামানুজ বাবুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে, তখন কোনো দেনা-পাওনার হিসেব থাকে না; থাকে কেবল এক বুক ভক্তি।
​রামানুজ বাবু আজ বুঝতে পারেন, সেই পুরনো প্রেমটা আসলে কোনো নির্দিষ্ট মানুষের সঙ্গে ছিল না; প্রেমটা ছিল ওই সময়টার সঙ্গে, সেই অনিকেতের মত ছোট ছোট ছাত্রদের সঙ্গে তারা সবাই যেন ছিল আত্মার আত্মীয়! যে সময় আর কোনোদিন ফিরবে না।

​স্ত্রী মিতা এসে এক কাপ ধোঁয়া-ওঠা চা নামিয়ে দিয়ে স্নিগ্ধ স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, "কী অত ভাবছো গো?" রামানুজ বাবু মেডেলটার ওপর পরম স্নেহে হাত বুলিয়ে বললেন, "আমরা মাস্টাররা জীবনে যা ভালোবাসা আর সম্মান পেয়েছি মিতা, আধুনিক যুগের কোনো হাটে-বাজারে কি তার দাম চোকানো যায়?"
​
​আজ ৫ই সেপ্টেম্বর, পবিত্র শিক্ষক দিবস। এই পুণ্য লগ্নে দেশের সমস্ত শিক্ষাগুরুদের জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম ও বিনম্র শুভেচ্ছা।
​
আজকের এই দ্রুত গতির ডিজিটাল জীবনে আমরা যেন বড্ড বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি। শিক্ষার আঙিনাও আজ প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড় আর বাণিজ্যিকীকরণের শিকার। আসুন না, আমরা আবার আমাদের সেই শেকড়ের কাছে ফিরে যাই। শিক্ষক আর শিক্ষার্থীর সম্পর্কটা শুধু সিলেবাস আর মার্কশিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তাকে একটা বটবৃক্ষের মতো ছায়াসুনিবিড় করে তুলি। মাঠের খেলাধুলা, বন্ধুদের সাথে নিঃস্বার্থ আড্ডা, আর সুস্থ সংস্কৃতির চর্চাই পারে একটা শিশুর মনের জানলাগুলো খুলে দিতে। আসুন, আমরা এমন এক সমাজ গড়ি যেখানে শিক্ষার অভাবে কোনো অনিকেত এর স্বপ্ন ঝরে না পড়ে, আর শিক্ষকরা পান তাঁদের প্রাপ্য নিখাদ সম্মান ও ভালোবাসা। কারণ, পুঁথিগত বিদ্যা হয়তো পেশা দেয়, কিন্তু সঠিক শিক্ষাই দেয় জীবন গড়ার দিশা।
​

® নরকিচাক্ষ

Yoga Guru

#শিক্ষকদিবস


31/08/2026

একদিন এই মাটিকে বলা হতো
🖤 “কালো হীরার দেশ”।
খনির সাইরেন, শ্রমিকের পদচারণা, রেললাইনে ছুটে চলা কয়লাবাহী ট্রেন আর শিল্পের গর্জনে মুখরিত ছিল রানীগঞ্জ–আসানসোল।
কিন্তু আজ?
মরচে ধরা যন্ত্রপাতি…
পরিত্যক্ত খনি…
বন্ধ শিল্প…
অবক্ষয়িত শ্রমিক কলোনি…
আর কোথাও কোথাও অবৈধ খননের অন্ধকার।
❓ কোথায় হারিয়ে গেল সেই শিল্পসভ্যতা?
ECL-এর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব?
প্রশাসনিক উদাসীনতা?
অবৈধ কয়লা অর্থনীতি?
দীর্ঘদিনের শিল্প-রাজনীতি ও কর্মসংস্কৃতির সংকট?
নাকি উন্নয়নের ভুল মডেল?
এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সময় শেষ।
কারণ খনি বন্ধ হলে শুধু কয়লা উৎপাদন বন্ধ হয় না ভেঙে পড়ে তার সঙ্গে যুক্ত হাজার মানুষের জীবন, বাজার, ব্যবসা এবং একটি সম্পূর্ণ আঞ্চলিক অর্থনীতি।
তবু সব শেষ হয়ে যায়নি।
⚒️ আধুনিক ও নিরাপদ খনি
🌱 পরিবেশ পুনরুদ্ধার
👷 যুবসমাজের বিকল্প কর্মসংস্থান
🏭 নতুন শিল্পায়ন
📈 স্বচ্ছ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
এসবের সমন্বয়েই হয়তো আবার জেগে উঠতে পারে কালো হীরার দেশ।
🔥 প্রশ্ন একটাই
আমরা কি ধ্বংসের শবযাত্রা দেখব,
নাকি পুনর্জাগরণের পথ তৈরি করব?

👇 আপনার মতামত কমেন্টে লিখুন।

#কালোহীরারদেশ #আসানসোল #রানীগঞ্জ #কয়লাখনি #শিল্পসভ্যতা #শিল্পাঞ্চল #কর্মসংস্থান #অবৈধকয়লা #পুনর্জাগরণ #রতিবাটিরস্মৃতি
Coal India Limited

®নরকিচাক্ষ
Yoga Guru

তিস্তার সেই হড়পা বান!কালিঝোরা- কালিম্পং জুলাই -২০০৭​নেপালের হিমবাহ হ্রদ ভেঙে নেমে আসা সেই সাম্প্রতিক হড়পা বানের দৃশ্যট...
27/08/2026

তিস্তার সেই হড়পা বান!
কালিঝোরা- কালিম্পং জুলাই -২০০৭

​নেপালের হিমবাহ হ্রদ ভেঙে নেমে আসা সেই সাম্প্রতিক হড়পা বানের দৃশ্যটা যখনই চোখের সামনে ভেসে ওঠে, বুকের ভেতরটা আচমকা কেঁপে ওঠে। অবচেতন মন মুহূর্তে ছিটকে চলে যায় প্রায় দু’দশক আগের এক বর্ষণমুখর পাহাড়ি উপত্যকায়; ২০০৭ সালের সেই স্মৃতি এখনও আমার মজ্জায় গেঁথে রয়েছে।
​তখন আমি কাজ করছি ‘কেলার গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর হয়ে, কর্মক্ষেত্র কালিম্পং জেলার কালিঝোড়ায় তিস্তা লো-ড্যাম প্রজেক্ট। এনএইচপিসি-র তত্ত্বাবধানে হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (HCC) তখন পাহাড়ের বুক চিরে এক বিশাল কর্মযজ্ঞে মেতেছে। তিস্তার স্বাভাবিক গতিপথকে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরিয়ে দিয়ে মূল নদীর গর্ভেই প্রায় ষাট মিটার গভীরে খননকাজ চলছিল। চারপাশে বিশাল মাটির বাঁধ, আর সেই বাঁধকে নিশ্ছিদ্র ও সুরক্ষিত রাখতে অবিরাম ড্রিলিং করে পাম্পের সাহায্যে পাঠানো হচ্ছিল সিমেন্ট, বেন্টোনাইট আর সোডিয়াম সিলিকেটের ঘন মিশ্রণ বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে গ্রাউটিং।
​ল্যাব সুপারভাইজার হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। সকাল থেকে কাঁচের জার, সিলিন্ডার আর মোন্ড নিয়ে কেটে যেত সময়। সিমেন্ট, বেন্টোনাইট আর সিলিকা জলের নির্দিষ্ট অনুপাতের মিশ্রণে ছোট ছোট নমুনা তৈরি করে চলত সংঘনন বা কম্প্যাকশন টেস্ট। উদ্দেশ্য ছিল মিশ্রণটির অপটিমাম ময়েশ্চার কন্টেন্ট (OMC) আর ম্যাক্সিমাম ড্রাই ডেনসিটি (MDD) মেপে দেখা যাতে নদীগর্ভের প্রতি ইঞ্চি মাটির বাঁধ পাথরের মতো সুসংবদ্ধ ও নিশ্ছিদ্র থাকে।
​প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় সালুগড়ার মেস থেকে ট্রাভেরা গাড়িটা ছাড়ত। সেবকের জঙ্গল আর পাহাড়ি বাঁক পেরিয়ে কুয়াশাভেজা আলোয় আমরা যখন কালিঝোড়া সাইটে পৌঁছাতাম, সকালের নিস্তব্ধতা ভেঙে তিস্তার একটানা কলতান কানে আসত। তারপর সারাদিন ল্যাব আর ফিল্ডের ধুলো-কাদার মধ্যে কাজ সেরে সেই সন্ধ্যা ছ’টায় ঘরে ফেরা।
​দিনটা ছিল সম্ভবত জুলাইয়ের ১৪ কি ১৫ তারিখ। সকালের দিকে সাইট ঘুরে মাটির আর্দ্রতা আর গ্রাউটিংয়ের প্রেশার দেখছিলাম। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম, তিস্তার জল আর স্ফটিকস্বচ্ছ বা শান্ত নেই; কেমন এক ঘোলাটে কাদা নিয়ে তার স্রোতের গতিবেগ চোখের নিমেষে বাড়তে শুরু করেছে। ঠিক তখনই সাইটের সাইরেনগুলো তীব্র আর্তনাদ করে উঠল। এনএইচপিসি-র ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম লাউডস্পিকারে মরিয়া হয়ে চিৎকার করতে লাগল “সবাই এক্ষুনি সাইট ছাড়ুন! ওপরে উঠে আসুন! ওপরে হড়পা বান এসেছে!”
​সতর্কবার্তার রেশটুকু বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই প্রকৃতির রূপ নিমেষে বদলে গেল। উপত্যকা কাঁপিয়ে নেমে এল এক রাক্ষুসে গর্জন। তিস্তার সেই চিরচেনা রূপ উধাও হয়ে গিয়ে সেখানে নেমে এল এক উন্মত্ত দানব। জলের তোড়ে ভেসে আসছে শতাব্দীর প্রাচীন বিশালাকার উপড়ে পড়া গাছপালা, বিশাল পাথরের চাই। মানুষের তৈরি যাবতীয় প্রযুক্তি, বিশালাকার ড্রেজার, ভারী খননযন্ত্র আর প্রকাণ্ড লোহার কন্টেইনারগুলো সেই কাদাজলের ঘূর্ণিতে যেন কাগজের নৌকার মতো খড়কুটোর মতো ভেসে গেল।
​প্রাণভয়ে আমরা শ্রমিক-ইঞ্জিনিয়াররা সাইটের সেই কাঁপতে থাকা অস্থায়ী সাঁকো পেরিয়ে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে খাড়াই পথ বেয়ে দৌড়াতে শুরু করলাম। যখন কোনওমতে হাঁপাতে হাঁপাতে কালিঝোড়া গেস্ট হাউজের নিরাপদ চত্বরে উঠে এসে পেছনে তাকালাম, তখন পায়ের তলার দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। যেখানে আধঘন্টা আগেই মানুষের কর্মচাঞ্চল্য আর যন্ত্রের গর্জন ছিল, সেখানে বইছে এক সর্বগ্রাসী জলপ্রলয়। যা কিছু মানবনির্মিত ছিল, সবই অতল গহ্বরে বিলীন হয়ে গেছে। যারা সময়মতো ওপরে উঠতে পারেনি, তারা কোথায় তলিয়ে গেল তিস্তার সেই চিরন্তন, ভয়াল গর্জন ছাড়া আর কোনও উত্তর অবশিষ্ট ছিল না।
​মানুষ প্রকৃতির বুকে উন্নয়নের দাগ কাটে, হিসেব কষে ঘনত্ব আর স্থায়িত্বের; কিন্তু পাহাড় যখন তার রুদ্র রূপ প্রকাশ করে, তখন সমস্ত অহংকার এক নিমেষে বালির বাঁধের মতো ধসে যায়,কালিঝোড়ার সেই দিনটি আমার জীবনে সেই চিরসত্যের এক জীবন্ত দলিল হয়ে রয়ে গেছে।
#কালিম্পং #কালিঝোরা

©নরকিচাক্ষ

রতিবাটির সেই কোয়ার্টার: ​স্মৃতির পাতা উল্টাতে গেলে মনের অলিন্দে এক অদ্ভুত আলো-আঁধারি খেলা করে। মানুষের জীবন তো নদীর মতো...
23/08/2026

রতিবাটির সেই কোয়ার্টার:

​স্মৃতির পাতা উল্টাতে গেলে মনের অলিন্দে এক অদ্ভুত আলো-আঁধারি খেলা করে। মানুষের জীবন তো নদীর মতোই বহমান, কিন্তু কিছু কিছু বাঁক চিরকালের জন্য হৃদয়ে নোঙর ফেলে থেকে যায়। আমার সেই নোঙর ফেলা শৈশব বাঁধা পড়ে আছে রতিবাটি কলিয়ারির ৩ নম্বর স্টাফ কোয়ার্টারে। একদিকে কাশিনাথপুর গ্রাম, অন্যদিকে ঢেউখেলানো রানাডাঙ্গা মাঝখানে বারোটি স্টাফ কোয়ার্টার আর দুটি ম্যানেজারের বাংলো নিয়ে গড়ে ওঠা এক স্বয়ংসম্পূর্ণ সংসার। চারপাশে ওড়িশা থেকে আসা খেটে-খাওয়া মানুষগুলোর ঘর,

পিটু-সিটুদের বাড়ি আর কোণের মেসবাড়িটি ঘিরে দিনরাত এক বিচিত্র কোলাহল লেগে থাকত। সুরের, ভাষার আর রন্ধনপ্রণালির কত শত বৈচিত্র্য!
​বামদিকের পথটা ধরে এগোলেই পার্থদা আর বিবেকদাদের কোয়ার্টার। পার্থদার পায়ের জাদুতে মাঠ মাতত, শিল্পাঞ্চল মুগ্ধ হয়ে দেখত এক অসামান্য ফুটবলারের দাপট। প্রসূনদা ছিলেন অসম্ভব মেধাবী, আর প্রকাশ? তার ডানপিটে স্বভাবের ভয়ে আমরা ছোটরা তটস্থ থাকতাম। বাড়ির পাশে ‘ইনচার্জ পুকুর’ আর ‘কমলা পুকুর’। সেই ঘাট, আমবাগান আর দূরে বয়ে চলা নুনিয়া নদীর জলছাপ আজও আমার রক্তে বয়ে চলেছে রূপকথার মতো।
​কার্তিক মাসের এক বুধবারের সাঁঝবেলার কথা আজও ভারী স্পষ্ট মনে পড়ে। কালীপুজো সবে শেষ হয়েছে। রেডিওতে মৃদু স্বরে বেজে চলেছে ‘দধীচি আত্মত্যাগ’ নাটক। বাবা আর অনিলকাকু ব্রিজের আসর জমিয়ে বসেছেন। এমন সময় যেন কালবৈশাখীর ঝড় আছড়ে পড়ল দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকল একদল ডাকাত। ভয়ে সারা ঘর তখন থমথমে। মা আর জ্যেঠুমা কয়লার উনুনে রুটি সেঁকছিলেন। মায়ের সেই অপার্থিব সাহস আজও আমাকে স্তব্ধ করে দেয়; ডাকাত সর্দারের চোখের দিকে তাকিয়ে সটান বলে উঠলেন, “এই, আমার ঠাকুরঘরে খবরদার ঢুকবি না!” মায়ের তেজে ঠাকুরঘর অক্ষত রইল বটে, কিন্তু ছোট দিদির ভাইফোঁটায় জমানো মাটির ভাঁড়ের পয়সাগুলো নির্মমভাবে লুটিয়ে পড়ল মেঝেময়। শ্যামলদার খাটের কোণে কুঁকড়ে যাওয়া, আর ডাকাতকে বোঝাতে গিয়ে অনিলকাকুর মুখের আধপোড়া বিড়ি সমেত লুঙ্গি খসে পড়ার সেই দৃশ্য ভয় ও হাসির এক অবিশ্বাস্য স্মৃতি হয়ে বুকে বিঁধে আছে। বোমা ফেলে ডাকাতরা চম্পট দেওয়ার পর পুলিশ এল, জঙ্গল থেকে উদ্ধার হলো তাজা বোমা। কিন্তু সেই রাতের পর থেকেই যেন রতিবাটির ছন্দপতন শুরু হলো। মানুষগুলো একে একে বদলি হয়ে চলে গেল; আম, জাম, কাঁঠালের গাছগুলো নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে রইল তাদের ছায়া নিয়ে।
​কালের অমোঘ নিয়মে আজ বাবার পর মা-ও চলে গেলেন সেই সুদূর আকাশের তারাদের দেশে। একটি স্বর্ণযুগের চিরতরে অবসান ঘটল। মা আমাদের সবার প্রিয় ‘বারুমাসি’। রতিবাটির সেই মেঠো বাতাসে কয়লার উনুনের নীল ধোঁয়া হয়তো বহু আগেই মিলিয়ে গেছে, কিন্তু আজও রাতের নিঃশব্দতায় কান পাতলে শুনতে পাই দূর থেকে ভেসে আসা সেই চেনা ডাক বারুমা, বারুমাসি! চোখ বুজলেই দেখতে পাই লালপেড়ে সাদা শাড়ির আঁচলটি আলতো করে জড়িয়ে ভোরের শিশিরভেজা ফুলবাগানে নিঃশব্দে হেঁটে চলেছেন আমার মা। মাঝরাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন মনে হয়, মা যেন শিয়রে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ঘুমের ঘোরে বিড়বিড় করছেন একথালা ভাত আর পোস্তবড়া’।
কোয়ার্টারের সেই পুরনো দেওয়ালগুলো হয়তো আজও আমাদের ফেরার প্রতীক্ষায় দীর্ঘশ্বাস ফেলে, কিন্তু যে মানুষগুলো সেই ইটের খাঁচাকে ‘ঘর’ করে তুলেছিল, তারা তো আজ অনন্তের যাত্রী। এই সংস্কৃতি ও অমলিন ভালোবাসার বিলুপ্তি বর্তমান আর ভবিষ্যৎকে নিঃস্ব করে দিল পৃথিবী হয়তো কোনোদিন হিসেব করেও বুঝতে পারবে না, ঠিক কতখানি অমূল্য সম্পদ চিরতরে হারিয়ে গেল।

#রতিবাটিরস্মৃতি
#বারুমাসিররুপকথা
#মা
#জয়দেবভট্টাচার্য

Yoga Guru

Address

Chanda To Ratibati
Asansol

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ratibati Colliery posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share