20/01/2026
অনন্য বসিরহাটের বিভিন্ন প্রান্তর .....
Sab ka sath sab ka Bikash
20/01/2026
অনন্য বসিরহাটের বিভিন্ন প্রান্তর .....
15/01/2026
পার্সি জাতির ভারত আগমন : ধর্মরক্ষার সংগ্রাম ও ভারতীয় সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের ইতিহাস...
ইতিহাসে মানবজাতির বহু অভিবাসনের পেছনেই রয়েছে ধর্মীয় নিপী/*-ড়ন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদ । পারস্যের জরথুষ্ট্র ধর্মাবলম্বী পার্সি জনগোষ্ঠীর ভারত আগমনও তেমনই এক করুণ কিন্তু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় । সপ্তম শতকে আরব মুসলিমদের পারস্য আগ্রা/*-সনের পর ধীরে ধীরে জরথুষ্ট্র ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা হারাতে শুরু করে । এই পরিস্থিতিতে অষ্টম থেকে দশম শতকের মধ্যে বহু পার্সি পরিবার দলবদ্ধভাবে ইরান ত্যাগ করে ভারতবর্ষে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়, বিশেষ করে গুজরাটে । এই অভিবাসন ছিল ভৌগোলিক স্থানান্তর, একটি সভ্যতা, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম ।
ইসলামী শাসন কায়েমের পর পারস্যে জরথুষ্ট্র ধর্মাবলম্বীদের ওপর নানাবিধ নিপী/*ড়ন নেমে আসে । তাদের ধর্মীয় উপাসনা সীমিত করা হয়, অগ্নিমন্দির ধ্বংস হয় এবং ইসলাম গ্রহণের জন্য সামাজিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হয় । পাশাপাশি অমুসলিমদের ওপর আরোপিত ভারী কর জিজিয়া পার্সিয়ানদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে । এই পরিস্থিতিতে বহু জরথুষ্ট্র ধর্মাবলম্বী বুঝতে পারেন যে, মাতৃভূমিতে থেকে ধর্ম ও প্রাণ, দুটোই রক্ষা করা আর সম্ভব নয় । তাই তারা সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা করে ভারতবর্ষের দিকে পাড়ি জমান ।
প্রথমে তারা ভারতের পশ্চিম উপকূলে দিউ অঞ্চলে এসে পৌঁছান এবং পরে গুজরাটে প্রবেশ করেন । সেখানে তারা স্থানীয় শাসক যাদব রানার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন । পার্সি ইতিহাস ও লোককথায় সংরক্ষিত ‘কুইসা-ই সান্জান’ গ্রন্থে এই ঘটনার এক অনন্য প্রতীকী বর্ণনা পাওয়া যায় । বলা হয়, রাজা যাদব রানা পার্সিদের বোঝাতে দুধে ভর্তি একটি পাত্র পাঠান, এখানে ইঙ্গিত ছিল যে রাজ্যে আর নতুন লোকের জায়গা নেই । পার্সিরা সেই দুধের পাত্রে চিনি মিশিয়ে ফেরত পাঠান, এটা বোঝাতে যে তারা সমাজে মিশে যাবে, ভার হবে না বরং মিষ্টতা বাড়াবে । এই প্রতীকী উত্তরে সন্তুষ্ট হয়ে রাজা তাদের গুজরাটে বসবাসের অনুমতি দেন ।
ভারতে স্থায়ী হওয়ার পর পার্সিরা তাদের ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখেই স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে অভিযোজিত হন । তারা ধীরে ধীরে ফারসি ভাষা ছেড়ে গুজরাটি ভাষা গ্রহণ করেন, স্থানীয় সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেন এবং নারীরা শাড়ি পরিধান শুরু করেন । এই সাংস্কৃতিক অভিযোজন আত্মবিসর্জন ছিল না, এটা সহাবস্থানের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতি পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একসঙ্গে বিকশিত হয় ।
পার্সি জাতির ভারত আগমন ইতিহাসে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও মানবিক আশ্রয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । নিজেদের ধর্ম ও জীবন রক্ষার জন্য তারা মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হলেও, ভারতবর্ষে এসে তারা শুধু নিরাপদ আশ্রয়ই পাননি, দেশটির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্পক্ষেত্রের বিকাশে অসামান্য অবদান রেখেছেন । ভারতকে সমৃদ্ধ করতে একটা উদাহরণই যথেষ্ট, তিনি হলেন স্যার জামসেদজি টাটা ।
গুজরাট থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে বোম্বে (মুম্বাই) ও অন্যান্য অঞ্চলে পার্সিদের উপস্থিতি ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করেছে । এই ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ধর্মীয় সহনশীলতা ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানই একটি সভ্য সমাজের প্রকৃত শক্তি । তবে সেটাও সভ্য সমাজের সঙ্গেই হতে হবে, আগ্রাসী সমাজ ধর্মীয় সমাজের সঙ্গে সম্ভব নয়, যারা অন্যের সমাজ ধর্মীয় বিশ্বাসকে গ্রাস করতে চায় ।
একেবারেই অজানা পার্শিদের দুঃখ, কষ্ট এবং গর্বের ইতিহাসের তথ্য সমৃদ্ধ লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই অবশ্যই একটা লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো, এগুলো সকলেরই জানা প্রয়োজন । ধন্যবাদান্তে.... 🙏🙏
✍️ Sufal Sarkar II
সূত্র : উইকিপেডিয়া এবং অন্যান্য
ছবি : AI, কাল্পনিক
Legal Disclaimer : This content is intended solely for historical and academic discussion. Any references to religion, caste, or community are made strictly within their historical context and are not meant to target, stereotype, or offend any present-day group.
যে ভিত্তি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল,সেই ভয়াবহতা এখনও বয়ে চলেছে বাংলা। Part 9
যে ভিত্তি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল,সেই ভয়াবহতা এখনও বয়ে চলেছে বাংলা। Part 8
যে ভিত্তি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল,সেই ভয়াবহতা এখনও বয়ে চলেছে বাংলা। Part 7
যে ভিত্তি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল,সেই ভয়াবহতা এখনও বয়ে চলেছে বাংলা। Part 6
যে ভিত্তি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল,সেই ভয়াবহতা এখনও বয়ে চলেছে বাংলা। Part 5
যে ভিত্তি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল,সেই ভয়াবহতা এখনও বয়ে চলেছে বাংলা। Part 4
যে ভিত্তি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল,সেই ভয়াবহতা এখনও বয়ে চলেছে বাংলা। Part 3
যে ভিত্তি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল,সেই ভয়াবহতা এখনও বয়ে চলেছে বাংলা। Part 2
যে ভিত্তি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল,সেই ভয়াবহতা এখনও বয়ে চলেছে বাংলা। Part 1
যে ভিত্তি ২০০৯ সালে করা হয়েছিল,সেই ভয়াবহতা এখনও বয়ে চলেছে বাংলা।