24/05/2026
মাত্র ছয় মাস আগেও ফলতা বিধানসভার এই ফলাফল রাজ্যের সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরলে অনেকেই হয়তো তা নিছক কল্পনা বলেই উড়িয়ে দিতেন। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে বাস্তব আর কল্পনার ব্যবধান যে অনেক সময় শুধুই সময়ের অপেক্ষা — তা প্রমাণ করে দিলেন ফলতার ভোটাররাই।
যে ডায়মন্ড হারবার মডেল একসময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে তৃণমূলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, সেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভাতেই এবার বড় ধাক্কা খেল তৃণমুল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট শতাংশ নেমে এলো মাত্র ৩.৮ শতাংশে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ — টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছিল।
অন্যদিকে,সিপিআইএম প্রার্থী প্রায় ২০ শতাংশ ভোট অর্জন করে দীর্ঘদিনের মন্দার মাঝে বাম শিবিরে কিছুটা হলেও নতুন অক্সিজেন জোগালেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
তবে গোটা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বার্তা এসেছে বিজেপির ফলাফল থেকে। বিজেপি প্রার্থী এক লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়েছেন এবং শতাংশের বিচারে অতিক্রম করেছেন ৭০ শতাংশের গণ্ডি। শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি নেতৃত্বের ধারাবাহিক প্রচার, তৃণমূল বিরোধী জনমত এবং ভোটের আগেই তৃণমূল প্রার্থীর এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে এই ফলাফলের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আপাতদৃষ্টিতে এই ফলাফল হয়তো শুধুমাত্র একটি উপনির্বাচনের পরিসংখ্যান বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতির গতিপথ ও বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরিতে ফলতার এই রায় গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।