16/08/2026
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে হুগলী জেলার কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ তথা ইতিহাসের সকল সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে কমিউনিস্টদের ভূমিকা গৌরবোজ্জ্বল। অসংখ্য পরিচিত ও অজ্ঞাতনামা মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও আদর্শের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই আজকের স্বাধীন ভারত গড়ে উঠেছে।
হুগলী জেলা সেইসব ঐতিহাসিক জেলার অন্যতম, যেখানে স্বাধীনতা সংগ্রাম, শ্রমিক আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলন পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। এই জেলার বহু তরুণ দেশপ্রেমিক প্রথমে জাতীয়তাবাদী ও বিপ্লবী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন; পরবর্তীকালে সমাজতান্ত্রিক ও কমিউনিস্ট আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেন।
শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি—
কমরেড মহীতোষ নন্দী, কমরেড বিজয় মোদক, কমরেড পরিতোষ চট্টোপাধ্যায়, কমরেড কমল চট্টোপাধ্যায়, কমরেড ভবানী মুখার্জী, কমরেড দয়াল কুমার, কমরেড বিনোদ দাশ, কমরেড আনন্দ পাল (হুগলী জেলা পার্টির প্রথম সম্পাদক), কমরেড তুষার চট্টোপাধ্যায়, কমরেড দীনেন ভট্টাচার্য, কমরেড পঞ্চানন মেট্যা, কমরেড ডলি আজাদ, কমরেড প্রতিভা গাঙ্গুলী — যিনি স্বাধীন ভারতে ২৭ এপ্রিল ১৯৪৯ কলকাতায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া চারজন মহিলা সংগ্রামীর অন্যতম — কমরেড কুঞ্জলাল দাশগুপ্ত, কমরেড সুশীতল রায়চৌধুরী, কমরেড মনোরঞ্জন হাজরা, কমরেড কালীচরণ সেনগুপ্ত, কমরেড কালীচরণ ঘোষ, কমরেড পাঁচুগোপাল ভাদুড়ী, কমরেড ফণীন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, কমরেড মুক্তা কুমার, কমরেড স্মৃতিশ বন্দ্যোপাধ্যায়, কমরেড পুষ্প ঘোষ সহ হুগলী জেলার অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দকে।
তাঁদের অধিকাংশই গত শতকের তিরিশের দশকে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেছিলেন। তাঁরা কেবল রাজনৈতিক কর্মীই নন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সক্রিয় সৈনিকও ছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম, আদর্শ এবং শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির স্বপ্ন আজও আমাদের পথ দেখায়।
স্বাধীনতা, সাম্য ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে হুগলী জেলার কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দের অবদান চিরস্মরণীয়।
বিঃদ্রঃ যে সকল সংগ্রামী নেতৃবৃন্দের ছবি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, তাঁদের ছবিই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।