01/05/2022
আজ ১লা মে।আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস।দিনটা বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামো আর পাঁচটা ছুটির দিন হিসেবেই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে।ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে শ্রমিক দের অধিকার রক্ষার আন্দোলন এর ইতিহাস কে
প্রতি দিন শ্রমিক দের অধিকার খন্ডন করা রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিজেদের শ্রমিক দরদী দেখাতে নানা লোকভোলানো কর্মসূচি নেন যাতে চাপা পড়ে যায় নূন্যতম দিনে ৮ ঘন্টা কাজের গণতান্ত্রিক অধিকার ও।
১৮৮৬ র আজকের দিনেই আমেরিকায় দিনে ৮ ঘন্টা কাজের দাবীতে ধর্মঘট ডেকেছিলেন আমেরিকার শ্রমিক রা।তারপরের রাষ্ট্রের দমন ও হে মার্কেট এর মতো ঘটনা র উদাহরণ ইতিহাসের ছত্রে ছত্রে।
আজ ভারত রাষ্ট্রে সাধারণতন্ত্র র ৭২ বছরেও পাশ হয় শ্রম আইন এর মতো শ্রমিক বিরোধী আইন।যেখানে নূন্যতম সুরক্ষা ও বেতন এর অধিকার থেকে যেমন একদিকে শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হয় ঠিক উল্টোদিকে পুঁজিপতি দের ব্যবসার সুবিধা করে দিতে শ্রমিক ছাঁটাই ও ঠিকা শ্রমিক এর পথ সুগম করা হয়।তাই এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সারা দেশ তথা বিশ্বের শ্রমিক দের হে মার্কেট এর মতো নিজেদের রক্তে রাঙানো পতাকা কে সামনে রেখে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে লড়াই এ।তাই শাসক তথা পুঁজিপতি শ্রেণী কে তাড়া করে বেড়ায় এই লাল পতাকা আপোষহীন সংগ্রামের প্রতীক এর পতাকা।শ্রমিক এর অধিকার কোনো আপোষ এর মাধ্যমে আসবে না আসবে রক্তক্ষয়ী শ্রেণী সংগ্রাম এর মাধ্যমে।
মে দিবস তাই ডাক দেয় সমস্ত শ্রমিক কে নিজের অস্বীকার বুঝে নিতে নিজের অধিকার কেড়ে নিতে।যতদিন না সর্বহারাশ্রেণীর একছত্র রাজ প্রতিষ্ঠিত হয় ততদিন সংগ্রাম চলবে।
29/04/2022
*পুঁজি- প্রকৃতির* দ্বন্দ্ব যে অপরিবর্তনীয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করে ফেলেছে তা পুঁজি নির্মিত উন্নয়নের ন্যারেটিভের বিপ্রতীপে এক নতুনতর দার্শনিক অন্বেষণের একগুচ্ছ প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসছে প্রত্যহ। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শক্তির ব্যবহার এবং বন্টনের গোটা কাঠামোটা।
এবারের *'বিকল্প'* তে আমরা পরিবেশ এবং শক্তি বিষয়ক তাত্ত্বিক বিতর্কগুলোর আগে; গত ৩০ বছরের কপের ইতিহাস, পরিবেশ পরিবর্তনের মূর্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরলাম, সাথে আমাদের বোঝাপড়ায় শক্তির উৎপাদন-বন্টন-ভোগের বৈষম্যের প্রেক্ষিত থেকে প্রবেশবিন্দুটিকে উত্থাপিত করতে চাইছি।
*সংগ্রহ করুন আমাদের পত্রিকা*
09/02/2022
“তোমার চিঠিখানি পেয়ে খুশি হলুম। অনেকদিন পরে মুক্তিলাভ করেছ—এখন দিনে দিনে শান্তি ও শক্তিলাভ করো, এই কামনা করি। দেশে অনেক কাজ আছে, যা অচঞ্চল ও সমাহিত চিত্তে সাধন করবার যোগ্য । দুঃখভোগের অভিজ্ঞতা তোমার জীবনে পূর্ণতা দান করুক, এই আমি আশীর্বাদ করি।”
চিঠির প্রেরক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর প্রাপক চট্টগ্রাম বিপ্লবী আন্দোলনের অগ্নিকন্যা কল্পনা দত্ত
১৯৩৩ সালের ১৪ ই আগস্ট সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদার এর ফাঁসির আদেশ ও একই মামলার রায়ে কল্পনা দত্তের মহিলা বন্দী ও ১৮ বছরের নাবালিকা হওয়ায় যাবজ্জীবন দিপান্তর এর সাজা হয়।
রবীন্দ্রনাথ ও দীনবন্ধু এন্ড্রুজ এর মিলিত প্রতিবাদ ও লড়াই এ তাঁর আন্দামান এ দিপান্তর এর সাজা রড করা হয়।কিন্তু ১৯৩০-১৯৩৯ সাল পর্যন্ত বাংলার বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ছিলেন কল্পনা দত্ত।
যার কারাগার থেকে মুক্তির পর রবীন্দ্রনাথ ও দীনবন্ধু এন্ড্রুজ তাকে চিঠি লেখেন।
কল্পনা দত্তের জন্ম হয় ২৭শে জুলাই ১৯১৩ চট্টগ্রাম জেলা অধুনা বাংলাদেশে।তাঁর বাবা বিনোদবিহারি দত্তগুপ্ত ছিলেন তদানীন্তন সরকারী কর্মচারী।১৯২৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে কল্পনা দত্ত কলকাতায় আসেন ভর্তি হন বেথুন কলেজ এ বিজ্ঞান বিভাগে।সেখানে তিনি যোগদান করেন ছাত্রী সংঘে তার সাথী ছিলেন বীনা দাস ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
বেথুন কলেজে পড়াকালীন তাঁর যোগাযোগ হয় বিপ্লবী পূর্ণেন্দু দস্তিদার,মনোরঞ্জন রায় দের সাথে।
পূর্ণেন্দু দস্তিদার তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন মাস্টারদা র সাথে সেই থেকে যাত্রা শুরু।
তাঁর স্মৃতিকথা র ছত্রে ছত্রে রয়েছে মাস্টারদা র প্রতি শ্রদ্ধা ও বিস্ময়।
তখন জেল বন্দী বিপ্লবী অনন্ত সিং গণেশ ঘোষ কে ছাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে।কল্পনা দত্তের মাধ্যমেই জেলবন্দী অনন্ত সিং গনেশ ঘোষ এর সাথে যোগাযোগ রাখতেন মাস্টারদা।
১৯৩২ সালে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের ১ সপ্তাহ আগে কল্পনা দত্ত ধরা পড়েন পুলিশের হাতে।প্রীতিলতা র সাথে ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমনের কথা ছিলো কল্পনা দত্তের ও।ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে ডিনামাইট ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করে।২ মাস পর জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর শুরু হয় তাঁর পলাতক জীবন।এই সময় মাস্টারদা ধরা পড়েন।এর তিনমাস পর তারকেশ্বর দস্তিদার ও কল্পনা দত্ত ধরা পড়েন গহিরা গ্রামে পূর্ণ তালুকদার এর বাড়ী থেকে।
১৯৩৯ সালের ১ লা মে জেল থেকে মুক্তি পান কল্পনা দত্ত।১৯৪০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং কমিউনিস্ট পার্টি তে যোগদান করেন।এবং তৎকালীন বাংলা র দুর্ভিক্ষ নিয়ে পার্টির পত্রিকা "পিপলস ওয়ার" এর লেখা লিখতে থাকেন।পার্টির কমরেড হিসেবে তিনি কিষান সভা অফিস ও ট্রাম ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন এ কাজ শুরু করেন।১৯৪০ সালে যুদ্ধ পরিস্থিতি তে তাকে ব্রিটিশ পুলিশ বাড়িতে গৃহ বন্দী করে রাখে।১৯৪২ সালে বোম্বে তে চট্টগ্রাম এর প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন তিনি।
ফিরে এসে ১৯৪৩ এর দুর্ভিক্ষের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন
১৯৪৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম এ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান এই ক্ষুদ্র পার্টির তরুণী প্রার্থী কে ভোটে হারানোর সংকল্পে নামেন স্বয়ং জওহরলাল নেহেরু।তাঁর আবেদন আগাগোড়াই কমিউনিস্ট দের নিন্দাতে পরিপূর্ণ হলেও কল্পনা দত্ত নিয়ে তার মন্তব্য ছিলো সম্ভ্রমে ভরা।যার পিছনে ছিল দুর্ভিক্ষের সময় ত্রাণকার্য ও ভারত জোড়া সাংস্কৃতিক গণআন্দোলন এবং ছিলো ১৯৩০ এর অভ্যুত্থান এর জ্বলজ্বলে স্মৃতি।
১৯৪৫ সালে বম্বে থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা Chittagang Armoury Raiders: Reminiscence যে বই এ তাঁর স্মৃতিকথা য় উজ্জ্বল মাস্টারদা অনন্ত সিং গনেশ ঘোষ প্রীতিলতা সুহাসিনী গাঙ্গুলি র পাশাপাশি জালালাবাদ র যুদ্ধের প্রথম শহীদ টেগরা র কথা।
১৯৯৫ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ৮ ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয় এই বিপ্লবী কমিউনিস্ট এর।
27/01/2022
*অবিলম্বে কোভিদবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে।
*শুধু ১০ থেকে ১২ নয়, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থাও চালু করতে হবে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষাই ছাত্রছাত্রীর শিক্ষার ভিত গড়ে ওঠে৷
* শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিরোধী NEP বাতিল করতে হবে।
* শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ মানছি না৷
* বিনামূল্যে শিক্ষা চাই, শিক্ষান্তে স্থায়ি কাজ চাই৷
এই সমস্ত দাবীতে PDSF এর পক্ষ থেকে গোটা রাজ্য জুড়ে প্রচার অভিযান, পথসভা, লিফলেটিং করা চলছে৷ আজ হাওড়ার ফুলেশ্বরের লকগেটে পথসভা, লিফলেটিং, সই কালেকশন করা হলো৷
27/01/2022
প্রায় দু বছর হয়ে গেল একের পর এক করোনার ঢেউ এর সুযোগ নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার একের পর এক লকডাউন করেই চলেছে। এর ফলে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমাজের শ্রমজীবী শ্রেণি। একদিকে মানুষের চাকরি চলে যাচ্ছে। ফলে মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বেড়েই চলেছে। আর অন্যদিকে শ্রমজীবী পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনলাইন নামক বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা চলছে এই দু'বছর ধরে। যে সমস্ত শ্রমজীবী পরিবারের দুবেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না, যারা ঠিকমতো চিকিৎসা পায় না, টাকা না থাকার ফলে, তারা কিভাবে স্মার্ট ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাস করবে? এইরকম পরিবারের বহু ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। ছেলেদের কাজে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে পরিবারের মানুষ, এর কারণ বাবা-মার কাজ চলে যাচ্ছে বা বাজার দর এতটাই বেশি যে, পরিবারে একজন রোজগার করে সংসার চালাতে পারছে না। আর মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। এই সুযোগে মালিকরা বেগার শ্রমিক পেয়ে যাচ্ছে, যাদের দিয়ে কম পয়সায় খাটিয়ে নেওয়া যায়।
এই রকম পরিস্থিতি সব জায়গাতেই দেখা দিচ্ছে। ফলে এই রকম সমস্যার মুখে হাওড়ার শ্রমজীবী মানুষরাও পড়ে আছে। বন্ধ এবং কারখানার লেবার লাইনগুলোয় গেলেই দেখা যায় বেশিরভাগ ছেলে, মেয়ে আর পড়াশোনা করতে পারছে না। কারণ তাদের না আছে স্মার্ট ফোন কেনার পয়সা, না আছে ইন্টারনেট কেনার পয়সা আর না আছে টিউশনি পড়ার পয়সা। শুধু লেবার লাইন কেন, বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমজীবী পরিবারেরই একই অবস্থা। আর 'সরকারি চাকরি' বা 'স্থায়ী চাকরি'পাওয়া এখন স্বপ্নের মত। দেশে বেকার সমস্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। এই সমস্যাগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার জন্য বেকার ছেলেপুলেদের নিয়ে বিজেপি পাড়ার মোড়ে মোড়ে আড্ডা বসাচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিচ্ছে। আবার অন্যদিকে তৃণমূল সরকার আসল সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার জন্য একের পর এক হাবিজাবি প্রকল্প চালু করছে। মেয়েদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নাম করে, বিজেপির 'বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও' প্রকল্প এবং তৃণমূল সরকারের 'কন্যাশ্রী' প্রকল্প চালাচ্ছে। অথচ সেই প্রকল্পের টাকাতেই মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্কুল-কলেজ না চলার ফলে।
শুধু স্কুল-কলেজ চালু করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। কেন্দ্র সরকারের নয়া শিক্ষানীতি, যার মাধ্যমে শিক্ষাকে কর্পোরেট মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টায় আছে কেন্দ্রীয় সরকার, সেই চেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের রাজ্য সরকার একটার পর একটা লকডাউনের সুযোগ নিয়ে স্কুল-কলেজ সব কিছু বন্ধ করে রেখেছে। আর পড়াশোনা করলেও এখন চাকরির কোনো নিশ্চয়তা থাকছে না। ফ্লিপকার্ট অ্যামাজন এইরকম কোম্পানিগুলো স্কুল-কলেজে পড়া কম বয়সী ছেলেমেয়েদের কম টাকায় খাটিয়ে নিচ্ছে। স্কুল কলেজগুলো শিক্ষা কাঠামো ঝরঝরে করে দিয়েছে। স্কুল-কলেজে স্থায়ী শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের বদলে অস্থায়ী ভাউচার টিচার নিচ্ছে। যার ফলে ইচ্ছে করলে চাকরি দেবে আবার যখন ইচ্ছে চাকরি থেকে বের করে দিতে পারে।
এই রকম পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীর নয় সমস্ত দেশের জনসাধারণকে লড়াইয়ের মাঠে নামতে হবে। এই ঝরঝরে পরিকাঠামোকে শিখর থেকে উপরে ফেলতে হবে। এক নতুন সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
আজ ২৬ শে জানুয়ারি, আজকের দিনে ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকারী হয়েছিল। সেই সংবিধানই ভারতের সমস্ত মানুষকে শিক্ষার অধিকার দিয়েছে। অথচ এই কয়েকবছর ধরে শ্রমজীবী পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে পারছে না৷ তাই আজ হাওড়ার চেঙ্গাইল অঞ্চলে ছাত্রছাত্রীরা মিলে পোষ্টারিং করা হলো৷
25/01/2022
*অবিলম্বে কোভিদ বিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে হবে।
*শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিরোধী NEP বাতিল করতে হবে।
*শিক্ষাকে খোলা বাজারে পণ্য হিসেবে বিক্রি করা যাবেনা।
*সবার জন্য শিক্ষা চাই, শিক্ষান্তে স্থায়ী কাজ চাই।
*কেউ পড়বে, কেউ পড়বে না, তা হবে না।
এই সমস্ত দাবিকে সামনে রেখে গোটা রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রচার অভিযান চলছে। যতদিন না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে এবং শিক্ষার পরিকাঠামো ঠিক করা হচ্ছে, ততদিন ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। কেন্দ্র সরকার NEP এর মাধ্যমে শিক্ষাকে খোলা বাজারে বেচে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরনের মাধ্যমে শ্রমজীবী পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হবে। এর ফলে কর্পোরেট মালিকরা বেগার শ্রম এর জন্য শ্রমিক পেয়ে যাবে। এই আইনের মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে গৈরিকীকরণ করে ছোট ছোট বাচ্চাদের মনে সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বীজ বপন করার চেষ্টা করছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা শিক্ষালাভের পরে যখন চাকরি করতে যাচ্ছে,তখন তারা দেখতে পাচ্ছে কোনো সরকারি স্থায়ী চাকরি নেই। শ্রম কোডের মাধ্যমে সমস্ত স্থায়ী চাকরি তুলে দিয়ে, অস্থায়ী চাকরি করে দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। সময়ও ৮ ঘন্টার বদলে ১২ ঘন্টার চাকরিকে আইনি স্বীকৃতি দিচ্ছে।
এদিকে আবার আমাদের রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, যিনি ভোট নিয়ে এতই ব্যস্ত যে সাধারণ মানুষের কথা ভাবার সময় নেই। তার মতে, স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখে ভোট করা উচিত। তিনি গঙ্গাসাগর মেলা করাচ্ছেন এবং তিনি বলছেন, নোনা জলে নাকি করোনা দূর হয়।
কেউ বলছেন,"বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও", আবার কেউ শিক্ষা গ্রহণকারী মেয়েদের হাতে কন্যাশ্রীর টাকা তুলে দিচ্ছেন। কিন্তু স্কুল কলেজ বন্ধ রাখার ফলে বহু মেয়ের সেই কন্যাশ্রীর টাকাতেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে পরিবারের লোক।
এই সমস্ত করপোরেট মালিকদের পা চাটা নেতাদের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এবং দেশের মানুষদের নিয়ে কোন চিন্তা নেই। শুধু ভোট এবং সাম্প্রদায়িক ভাবনা সরাতে ব্যস্ত।
তবে যতদিন না ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে নিচ্ছে সরকার, ততদিন ছাত্রছাত্রীরা লড়াইয়ের মাঠেই থাকবে।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ। ✊
14/01/2022
রাজ্যে আপাতত "উৎসব" এর মরশুম একদিকে পুরসভা ভোট আরেকদিকে বড়দিন নিউইয়ার পেরিয়ে এখন গঙ্গাসাগর মেলা র আমেজ।সাথে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা র দাপট।আবার একটি নুতন ঢেউ তাই জনদরদী রাষ্ট্র র কপালে ভাঁজ পড়েছে।ফল স্বরূপ লকডাউন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর গণপরিবহন আবার রাষ্ট্রের নেকনজরে, আবার মানুষের পেটে লাথি মারার সব বন্দোবস্ত পাকা।সস্তায় শিশুশ্রমিক বানিয়ে নেওয়ার যন্ত্র কেও রীতিমত প্রস্তুত করে ফেলা হয়েছে বাকি শুধু মগজধোলাই তারপর রাজনেতা রা মঞ্চ থেকে বলবেন "আজ থেকে পাঠশালা বন্ধ ওরা যত বেশি জানে তত কম মানে" একের পর এক সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কফিনে পেরেক পোঁতার পাশাপাশি বড় বড় কোম্পানি গুলোকে বড় মাপের মুনাফা তুলে দিতে ব্যস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা।
স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে ঝাঁ চকচকে ক্লাসরুম ওয়াইফাই স্পেশাল পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন এর চক ব্ল্যাকবোর্ড ডাস্টার কাঠের বেঞ্চ এসব এখন ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় বিদ্যুৎহীন পানীয় জলহীন ভারতবর্ষের মতো নিষ্প্রভ।ও বুলেট ট্রেন এর ইন্ডিয়ায় পরিযায়ী শ্রমিক দের মতোই ব্রাত্য।
তাই গঙ্গাসাগর মেলা বা পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বারবার আলোচনা নানাবিধ পদক্ষেপ এর রোডম্যাপ তৈরি হলেও কথা ওঠে না স্বাস্থ্য নিয়ে কথা ওঠে না শিক্ষা নিয়ে।গঙ্গার ঢেউ এ লাশ গুনতে ব্যস্ত থাকা রাষ্ট্রের সময় হয় না স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কে চাঙ্গা করার তাই ঢেউ আসে ঢেউ যায় সরকার বদলায় শুধু বদলায় না রাষ্ট্রচরিত্র আর প্রতি ঢেউ এর ছারখার হয়ে যায় আরো হাজার টা পরিবার।রাম মন্দির এর চুড়ো কত কিলো সোনায় বাঁধানো হবে প্রাইম টাইমে এই আলোচনা য় চাপা পড়ে যায় হাজারটা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।কারন সরকারী শিক্ষা স্বাস্থ্য গণপরিবহন সাবসিডি তে চলে।যখন সরকার রেভিনিউ খুঁজতে ব্যস্ত কখনো আদানি র হাতে বিমান রেল জল জঙ্গল জমিন তুলে দিতে ব্যস্ত।
তাই রাষ্ট্রের তৈরি করা কমিশন এর গুরুগম্ভীর আলোচনায় জায়গা পায় না শিক্ষা স্বাস্থ্যের অধিকার।ডিজিটাল ইন্ডিয়ার নাটুকে প্রচারে ঢাকা পড়ে যায় কিছু তথ্য যে শহরাঞ্চলে মাত্র ২৪ শতাংশ ছাত্রছাত্রী প্রতিদিনের পড়াশোনা র জন্য ইন্টারনেট এর ব্যবহার করতে সক্ষম আর গ্রামাঞ্চলে সংখ্যাটা প্রায় ৮ শতাংশ।গ্রামাঞ্চলে অনলাইন স্কুল শিক্ষা থেকে প্রতি বছর বঞ্চিত হচ্ছে স্কুলের প্রায় ৩৭% ছাত্রছাত্রী।এবং স্কুলছুট এর সংখ্যা সরকারী হিসেবে বেড়েছে প্রায় ১৭%।
বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মতে গোটা ভারতে প্রায় ১ কোটি ছাত্রী শুধুমাত্র অনলাইন শিক্ষার কারনে শিক্ষাক্ষেত্র থেকে ছিটকে গেছে এই গত দু বছরে।পশ্চিমবঙ্গ এও সংখ্যাটা প্রায় সাড়ে সাত লাখ এর মতো।
এর ফল হিসেবে আমরা দেখেছি একের পর এক সরকারী স্কুল ছাত্রছাত্রীদের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে।দেখেছি সিমেন্ট কারখানা ইটভাটা য় নাবালক শ্রমিক দের ভিড়।অথচ সংবিধান এর এখনো পড়ানো হয় আমাদের দেশে নাবালক দের হ্যাজর্ডাস ইন্ডাস্ট্রি তে কাজ করানো অবৈধ।অবশ্য সংবিধান কে আজকাল যখন মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্ব দেন না সেখানে মালিকশ্রেণী র কাছে এই মহানুভবতা আশা আমরাই বা করি কিকরে।আর দিনের শেষে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে যান একের পর এক সরকারী স্কুল এ ছাত্রছাত্রী রা চলে যায় পাশের এমাজন বা ফ্লিপকার্ট বা সুইগি র কাজে।সস্তার শ্রমিক বানানোর কাজ পুরোদমে চলতে থাকে।একের পর ছাত্রী র কম বয়সে বিয়ে হয় যায়।হাজার হাজার নাম চাপা পড়ে যায় "কন্যাশ্রী" "বেটি বাঁচাও" এর প্রচারের ঝকঝকে আলোয়।একের পর এক সরকারী স্কুল ছাত্রছাত্রী র অভাবে বন্ধ হয়ে যায়।ওদিকে মল পানশালা র জৌলুস বাড়তে থাকে রাষ্ট্রের মদতে।আর কেনই বা থাকবে না রাজ্যের রেভিনিউ একটা বড় উৎস পানশালা আর বিলাসবহুল মল।ওদিকে সরকারী শিক্ষা স্বাস্থ্যে পরিবহন শুধু "অপচয়" "আয়" কিছু নেই।তাকে "বাঁচিয়ে রাখার কিসের দায়?" সে যতই মৌলিক অধিকার হোক না কেন।
কিন্তু বিরুদ্ধ জনমত ও উঠছে রাষ্ট্রের স্বৈরাচারীতা র বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য বিক্ষোভ হয়েছে ট্রেন রাত ১০ টা পর্যন্ত চালু করতে বাধ্য হয়েছে সরকার।
ইতিমধ্যে নানা হকার ইউনিয়ন বা নানা বাজার সংগঠন থেকে লকডাউন বিরোধী স্বর জোরদার হচ্ছে।নানা ছাত্রছাত্রী সংগঠন স্কুল কলেজ খোলার দাবীতে সোচ্চার হয়েছে
রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের দালাল এখনো ডিএম এক্ট দিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রী মানবিক নাগরিক সমাজ এর কন্ঠরোধ করতে চাইছে
আমরা রাষ্ট্র কে সতর্ক করে দিতে চাই রাষ্ট্রের লাঠি চোখ রাঙানি না জেল এর গারদ কোনো গণআন্দোলন কে আগেও আটকাতে পারেনি ভবিষ্যতে ও পারবে না
কোভিড বিধি মেনে স্কুল কলেজ খোলার দাবীতে গণপরিবহন স্বাভাবিক করার দাবীতে লড়াই চলছে শেষতক চলবে।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
12/01/2022
মাস্টারদা কে নিয়ে কিছু কথা-
আজ বারোই জানুয়ারী মাস্টারদা র শহীদ দিবস।যার সাহসিকতায় একদা সন্ত্রস্ত হয়ে উঠেছিলো ব্রিটিশ সরকার।একটা ছাপোষা স্কুল মাস্টার তার এত দুঃসাহস যে সে ব্রিটিশ দের অস্ত্রাগার লুঠ করে চট্টগ্রাম এর যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিন্ন করে দেয়।ব্রিটিশ রা কিছুতেই ভাবতে পারছিলেন না কয়েকজন সাধারণ নিপীড়িত ভারতবাসী এত পরিকল্পনা মাফিক কাজ কিকরে করে।
বহরমপুরে নিজের পড়াশোনা শেষ করে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন মাস্টারদা সূর্য সেন।কাঁধে তুলে নেন গণিত শিক্ষকের দায়িত্ব।তার
পাশাপাশি কংগ্রেস ও করতেন।কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন সশস্ত্র আন্দোলনেই স্বাধীনতা আসবে।রক্তের দামে কিনতে হবে স্বাধীনতা।তিনি যোগদান করলেন অনুশীলন সমিতি তে।মাস্টারদা র কথায় গণেশ ঘোষ লোকনাথ বল শশাঙ্ক দত্ত নরেশ রায় প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কল্পনা দত্ত যোগ দেন তাঁর গেরিলা বাহিনী তে।ঠিক করা হয় চট্টগ্রাম কে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে দেশের বাকি অংশ থেকে।পরিকল্পনা মাফিক দিন ঠিক হয় ১৮ই এপ্রিল ১৯৩০।দিনটি ছিলো গুড ফ্রাইডে।পার্বন এর মেজাজে ব্রিটিশ শাসক রা।৬৫ জন বিপ্লবী দুটো দলে ভাগ হয়ে অভিযানে নামেন।
প্রথমে রেললাইন উপড়ে টেলিগ্রাম এর খুঁটি ভেঙে চট্টগ্রাম কে আলাদা করে দেওয়া হোক বাকি দেশের থেকে।তারপর গণেশ ঘোষ এর নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার ঘিরে ফেলেন।অস্ত্র লুঠ করা হলেও গোলা বারুদ এর সন্ধান পাওয়া যায়নি।অভিযানের দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় স্বাধীন চট্টগ্রামে।
মিলিটারি কায়দায় কুচকাওয়াজ করে সংবর্ধনা দেওয়া হয় মাস্টারদা কে।সূর্য সেনের নেতৃত্বে অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠিত হয়।সূর্য সেন ঘোষণা করেন"the oppressive British government has closed to exist.The national flag is flying high.It is our duty to defend it with our life and blood"
চট্টগ্রাম ব্রিটিশ দের থেকে স্বাধীন ছিলো ৪ দিন।ব্রিটিশ রা মাস্টারদা র মাথার দাম ধার্য করেন ১০ হাজার টাকা।এর পর দেখা দেয় খাদ্যসংকট।বিপ্লবী রা আত্মগোপন করেছিলেন জালালাবাদ পাহাড়ে।২২ শে এপ্রিল তাদের ঘিরে ফেলে ব্রিটিশ বাহিনী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে মৃত্যু হয় ১২ জন বিপ্লবীর।মাস্টারদা ছোট ছোট দলে বিপ্লবী দের পাঠিয়ে দেন নানান গ্রামে।নিজেও আত্মগোপন করেন।অবশেষে ১৯৩৩ সালে নেত্র সেনের বিশ্বাসঘাতকতায় ধরা পড়েন মাস্টারদা পুরস্কার এর লোভে।নেত্র সেন কে দা এর আঘাতে মরতে হয়েছিলো।কিন্তু পুরস্কার তাঁকে পেতে হয়নি।ঘাতক বলে গেছিলেন " মাস্টারদা র সাথে বেইমানি করার এটাই উপযুক্ত শাস্তি"
নেত্র সেনের বিধান স্ত্রী সব দেখেছিলেন কিন্তু কোনোমতেই ব্রিটিশ পুলিশ এর কাছে মুখ খোলেননি।
তাঁকে রাখা হয় কনডেমড সেলে কড়া পাহারায়।মৃত্যুর আগে তিনি বিপ্লবী কালিকিঙ্কর দে কে পেন্সিলে লিখে একটি বার্তা পাঠান।বার্তায় লেখেন"আমার শেষ বাণী আদর্শ ও একতা"।
১৯৩৪ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ১২ ই জানুয়ারি ফাঁসি দেওয়া হয় মাস্টারদা কে।
বলা ভালো তার অচেতন শরীর টাকে টেনে হিঁচড়ে ফাঁসি র মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়।পুলিশ এর প্রচন্ড অত্যাচারে আগেই সংজ্ঞা হারিয়েছিলেন তিনি।হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় তার সব দাঁত।উপড়ে নেওয়া হয় নখ।শরীরের প্রত্যেকটা জয়েন্ট মেরে মেরে ভেঙে দেওয়া হয়।ফাঁসি র পির শেষকৃত্য ও হয়নি।তার দেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় বঙ্গোপসাগরে আর ভারতমহাসাগর এর সংলগ্ন কোনো জায়গায়।
মাস্টারদা আজো জেগে আছেন আজো বেঁচে আছেন।আজ তার মৃত্যুর ৮৮ বছর পর আবার এক ফ্যাসিস্ট শক্তি ভারতে তার নখ দাঁত ফোটাচ্ছে।মাস্টারদা ভগৎ সিং এর আদর্শ ভুলিয়ে সভারকার তথা হিন্দু মহাসভা এর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
বাঙালি এটাই সময়।রুখে দাও এই শক্তি কে দেখিয়ে দাও বাঙালি সেদিনও স্বাধীন ছিলো আজও আছে।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
04/01/2022
সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গায়ের জোরে পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার বিরুদ্ধে আজ PDSF এর পোষ্টারিং কলেজস্ট্রীট এবং হাওড়ায়।
অবিলম্বে স্কুল-কলেজ খুলতে হবে। বাতিল করতে হবে নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি। শিক্ষার অধিকার রক্ষার্থে আগামীদিনে লড়াকু ছাত্রছাত্রী আন্দোলন গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।
10/12/2021
হাওড়া জেলার ফুসফুস, ডুমুরজলা কে খেল নগরীর মত পুঁজিবাদী দানবীয় পদক্ষেপের হাত থেকে বাঁচাতে, দিকে দিকে আমরা লড়াই জারি রেখেছি। আপনারাও এই লড়াইয়ে যোগ দিন।
08/12/2021
"হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়
সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে"
হয়তো জীবনানন্দ ফিরে এলেও তাঁর বাংলা কে তিনি চিনতে পারতেন কি সন্দেহ।
কারন উন্নয়নের প্রগতির গুঁতোয় বাংলা দশকের পর দশক জুড়ে আড্ডা খেলা র নিশ্চিন্ত স্থান। বাংলার সবুজ মাঠ গুলো আজ নিয়ন ও তীব্র ফ্লাডলাইট এ ধূসর।যেটুকু বেঁচে আছে তার উপর প্রমোটার ও পুঁজিপতিদের শ্যেন দৃষ্টি সর্বক্ষণের।হাওড়া র ডুমুরজলা যা হাওড়া র ফুসফুস নামে পরিচিত তা এই সবুজ নিধন যজ্ঞের নবতম সংযোজন।নবতম বলা টা হয়তো ঠিক নয়।ডুমুরজলা এলাকায় গত তিন দশক ধরেই চেষ্টা চলেছে এই জাতীয় উন্নয়ন যজ্ঞের।তিন দশক আগে ডুমুরজলায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম তৈরি করার পরিকল্পনা করে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই মাঠের একটা অংশে গড়ে ওঠে হাওড়া ইন্ডোর স্টেডিয়াম, উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক খেলার আয়োজন দেখা যায়নি কোনো সময়েই। এর সাথে আন্তর্জাতিক মানের কোনো ক্রিকেট বা ফুটবল স্টেডিয়ামও গড়ে ওঠেনি। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে এসেছে এই অঞ্চলের সবুজ।
সরকার পরিবর্তন হলে ২০১৩ সালে হাওড়া উন্নয়ন সংস্থা এইচআইটির থেকে জমি চলে যায় আর্বান ডেভলপমেন্ট করপোরেশনের হাতে। তারপর শেষমেশ এই জমি তুলে দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ হাউজিং ইনফ্রাসট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশান বা হিডকোর হাতে।
মাঝে ২০১৫ সালে রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র দফায় দফায় ডুমুরজলায় এসে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং এখানে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী হন। সেই অনুযায়ী মাস্টার প্ল্যানও তৈরি হয়। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ঠিক হয় ওই ৫৫ একর জমিতে পাব্লিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মোডে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প হবে। সেখানে স্টেডিয়াম তৈরির পাশাপাশি আয়ের জন্য জন্য গড়ে তোলা হবে বহুতল আবাসন ও শপিং মল।
গত তিন দশকে গঙ্গায় পলি জমেছে যেমন,তার চেয়েও বেশি দ্রুত হারে কমেছে হাওড়া থেকে সবুজ এর সমারোহ।একের পর এক মাঠ-জলায় উঠেছে বড় বড় হাউসিং কমপ্লেক্স।হাওড়া হয়ে ওঠে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল।নির্বিচারে উন্নয়নের নামে গাছ কাটা চলতে থাকে।২০১৫ সালে সরকারের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠে এবং সরকার পরিকল্পনা স্থগিত রাখে।কিন্তু ডুমুরজলা আবার শিরোনামে আসে যখন ২০১৯ সালে কোনো আলোচনা ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য হেভিওয়েট নেতাদের যাতায়াত শুরু হয় তখন থেকে।এর জন্য মাঠের উত্তর দিকে তৈরি হয় হেলিপ্যাড।বন্ধ হয়ে যায় ওই স্থানে হওয়া এথলেটিক্স প্র্যাকটিস এবং নিরাপত্তা র অজুহাত দেখিয়ে মাঠ থেকে মানুষকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও নতুন নয়।সরকারী সূত্র অনুযায়ী ২০১৫র পিপিপি মডেলে গড়ে তোলা হবে খেলনগরী অর্থাৎ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ, তাতে পাবলিক এর মর্জি কতখানি থাকবে?যারা গত কয়েক দশক ধরে ভারত উপমহাদেশের নানা পিপিপি মডেল এর প্রজেক্ট পর্যবেক্ষণ করেছেন তাদের নতুন করে বলার নেই।সরকারী মতে এখানে ক্রিকেট ফুটবল হকি খেলার স্টেডিয়াম এর পাশাপাশি ৬০ তলার শপিং কমপ্লেক্স,হাউসিং কমপ্লেক্স,পার্কিং প্লট,ওয়াটার বডি সুইমিংপুল তৈরি করা হবে।ইতিমধ্যেই সিএবি অর্থাৎ ক্রিকেট এসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল কে ১৪ একর জমি পাইয়ে দেওয়ার বরাত দেওয়া হয়েছে।
আবার সরকার পরিকল্পনা নিয়েছে বা বলা ভালো সরকার এর মাথায় বসে থাকা সংস্থা রা পরিকল্পনা নিয়েছে হাওড়া ডুমুরজলা কে খেলনগরী করে তোলার।
হাওড়া ভৌগলিক ভাবেই একটি নিচু জলাভূমি অঞ্চল যা গাঙ্গেয় অববাহিকায় পলি পড়ে তৈরি।এবং প্রাকৃতিক কারণেই এখানে বিভিন্ন গাছ ও পাখির বৈচিত্র লক্ষ করা যায়।এখানে যেমন আছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, তেমনই আছে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বাস্তুতন্ত্র। পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে সাইবেরিয়ান পাখি তাইগা ফ্লাই ক্যাচার বিশেষ উল্লেখ্য। এছাড়াও বেনে বৌ, শিকরা বাজ, কূবো, ঘুঘু, মাছরাঙা, টিয়া, বক, জাকাণা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি; সাপ, বেজি, বিভিন্ন প্রজাতির কীটপতঙ্গ, প্রজাপতি — এদের সবার অবাধ বিচরণক্ষেত্র এই অঞ্চল। এমনকি বিখ্যাত পরিযায়ী পাখি অ্যামর ফ্যালকম অবধি দেখা যাচ্ছে ডুমুরজলায়। এমনটা বলা বাড়াবাড়ি হবে না যে সাঁতরাগাছি ঝিলের পরে ডুমুরজলাই হতে চলেছিল হাওড়ার পরবর্তী পরিযায়ী পাখিদের জায়গা, ইকোলজিকাল হটস্পট।
এবং হাওড়া জেলায় ছোট্ট সবুজ বাটির মতো এই মাঠ কে নগরায়ন করে যে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রের শুধু বারোটা বাজানো হবে তাই নয় খেল নগরী হলে হাফ প্যান্ট, জার্সি গায়ে অবাধ যাতায়াত করা ছেলেমেয়েরা আর এখানে আসতে পারবে না। পারবে না ফুটবল, ক্রিকেট বা বাস্কেটবল খেলতে। কারণ ডুমুরজলা মাঠটাই আর থাকবে না। এর সঙ্গে হারিয়ে যাবে সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা, শরীরচর্চার অভ্যাস। বিভিন্ন বয়সের মানুষের প্রাতঃভ্রমণ, সান্ধ্যভ্রমণ, আড্ডা বন্ধ হয়ে যাবে। একাধিক ছোট ব্যবসায়ী কর্মসংস্থান হারাবেন, স্পোর্টস ক্লাবগুলি বন্ধ হয়ে যাবে।এবং আমরা বারবার শুনছি বিশ্বউষ্ণায়ন বিষয়ে রাজনৈতিক নেতা তথা দেশ ও রাজ্যের তাবৎ নেতা মন্ত্রী দের "সুচিন্তিত" মত!
কিন্তু যেখানে গাঙ্গেয় সমভূমি তে এই গত কয়েক বছরে কয়েক লক্ষ মানুষ নিজেদের সর্বস্ব হারিয়েছেন বারবার আসা ঘূর্ণিঝড়ে ও অকাল বর্ষণ এর জন্য বন্যায় সেখানে বছর এর পর বছর ধরে একের পর এক জলাভূমি বুজিয়ে লাখে লাখে গাছ কেটে নগরায়ন এর দায় সাধারণ মানুষকে আর কতদিন ভুগতে হবে।বারবার বর্ষায় হাওড়া র বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলের তলায় চলে যাওয়া স্বত্বেও সরকার এর টনক নড়ে না কারন হেলিকপ্টার থেকে দেখে আর নবান্নে মিটিং করে আর যাই হোক মানুষের দুর্ভোগ অনুভব করা যায় না।এবং ত্রাণের নামে রাজনীতি না করে বাংলার নানা অঞ্চলে জলাভূমি মাঠ কে রাতারাতি হাউসিং কমপ্লেক্স বানানো বন্ধ করা হোক।সেরকমই ডুমুরজলা।ডুমুরজলা র জমি নেওয়া হয়েছিলো শুধু খেলার জন্য সেখানে খেলার নামে কংক্রিট এর জঙ্গল এর বিরোধিতায় ইতিমধ্যে পথে নেমেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। লড়াইয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘সেভ ডুমুরজলা জয়েন্ট ফোরাম’। ফেসবুকে তৈরি হয়েছে ‘সেভ ডুমুরজলা’ নামের একটি গ্রুপ। নিয়মিত প্রচার, পদযাত্রা, কনভেনশনের মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া নিয়েছেন ফোরামের সদস্যরা। আইনীভাবে এই প্রোজেক্ট বন্ধ করার জন্যও নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ।"ডুমুরজলা থাক ডুমুরজলাতেই"স্লোগান এর গুরুত্ব বুঝুক সরকার।আমরা প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ছাত্র ছাত্রী ফেডারেশন ডুমুরজলা বাঁচানোর লড়াই এ থেকেছি ভবিষ্যৎ এও থাকবো।আমাদের মাঠ নিয়ে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না সরকারকে।সেটা সরকার যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন তত ভালো সরকারের উচিত শীঘ্র সেভ ডুমুরজলা জয়েন্ট ফোরামের সাথে আলোচনায় বসা এবং খেল নগরী প্রোজেক্ট বন্ধ করে স্থায়ী পরিবেশবান্ধব ডুমুরজলা প্ল্যানের দিকে যাওয়া। যদি কংক্রিটের জঙ্গলে বসবাস করে পোকামাকড়ের মত জীবন কাটাতে না চান, যদি খোলা হাওয়ায় বুক ভরে শান্তির শ্বাস নিতে চান, যদি ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন দিতে চান তাহলে উন্নয়নের ভেকধারী রাষ্ট্র-ব্যাবস্থা ও পুঁজিবাদী সমাজের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগদান করুন।
07/12/2021
ডুমুরজলা বাঁচাতে আজকে পাড়ায় পাড়ায় পথসভা। হাওড়া শহরের ফুসফুস বাঁচানোর এই লড়াইয়ে সবাই সামিল হোন।
|