18/06/2026
“হ্যাঁ, আমরা বোকা। মূল্যবান সময় নষ্ট করছি এসব করে।”
কিছু কিছু মানুষের মুখের দিকে তাকালে মনে হয়, ঠিক এই উত্তরটাই যেন তারা শুনতে চান।
অবাক চোখে প্রশ্ন করেন—
“এসব করে কী পাও?”
আমি হেসে বলি,
“আপনি বুঝবেন না।”
তবু
“না না, বলো না শুনি।”
ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি
একটি গাছ একটি প্রাণ।
কিন্তু যখন একটু বড় হলাম, যখন প্রকৃতিকে নতুন চোখে দেখতে শিখলাম, তখন বুঝলাম
একটি গাছ আসলে অসংখ্য প্রাণ।
একটি বৃক্ষকে ঘিরে গড়ে ওঠে এক বিশাল জগৎ।
মাটির গভীরে থাকা অদৃশ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া, কেঁচো, পিঁপড়ে, অসংখ্য কীটপতঙ্গ, ডালে ডালে পাখির বাসা, ফুলকে ঘিরে মৌমাছিদের জীবন, ফলের অপেক্ষায় থাকা প্রাণীদের জীবন—সব মিলিয়ে এক অদৃশ্য কিন্তু নিখুঁত সম্পর্কের বুনন। এক বিরাট অদৃশ্য বিনুনি একে অপরের সাথে।
সৃষ্টির এই অদেখা বিনুনি একে অপরের পরিপূরক।
এই ভারসাম্যকে রক্ষা করাই প্রকৃতির সেবা।
এই ভারসাম্যকে টিকিয়ে রাখাই পঞ্চতত্ত্বের পূজ।
ভগবান শব্দটিকেও আমি যেন নতুন করে বুঝতে শিখেছি—
ভ — ভূমি
গ — গগন (আকাশ)
ব — বায়ু
ন — নীর (জল)
একটি গাছ শুধু মাটিকে বাঁচায় না,
শুধু বাতাসকে শুদ্ধ করে না,
শুধু জলধারণ ক্ষমতা বাড়ায় না।
আরও সূক্ষ্ম স্তরে এটি মানুষের চেতনাকে স্পর্শ করে।গাছ কেবল ভূমি শুদ্ধি,বায়ু শুদ্ধি বা প্রকৃতি শুদ্ধি করে না মানুষের জীবনে সব থেকে বড় পাওয়া বুদ্ধি, চেতনা ,কর্ম কেও শুদ্ধি করে।
ধৈর্য শেখায়, দায়িত্ব শেখায়, সংযোগ শেখায়।
প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হলে মানুষ নিজের সঙ্গেও সম্পর্ক খুঁজে পায়।
এ এক বিরাট দর্শন।
হঠাৎ থামিয়ে দিয়ে
“কি বলছিস বলতো?”
আমি মুচকি হেসে উত্তর দিই
“আমি তো প্রথমেই বলেছিলাম,
আপনি বুঝবেন না...
সময় নষ্ট হবে।”— ✍🏻 Healer Sourav 🌱
#হাওড়া