03/07/2026
এই হাসির নাম লড়াই, এই হাসির নাম অগ্নিকন্যা ও তাঁর সেনাপতির আত্মবিশ্বাস ও কোটি কর্মীর অপরাজেয় জেদ!
আপনারা একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন এই ছবিটির দিকে। কত ঝড়-ঝাপটা, কত ষড়যন্ত্র, কত শত আক্রমণের পরেও কী অসীম ভরসা আর আত্মবিশ্বাসের হাসি ফুটে উঠেছে আমাদের জননেত্রী এবং আমাদের প্রধান সেনাপতির মুখে! এই হাসিই বাংলার কোটি কোটি তৃণমূল কর্মীর সবচেয়ে বড় শক্তি, আর বেইমান-গদ্দারদের বুকের কাঁপন!
এই সময়ে আমাদের বুক ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু সেই যন্ত্রণা এই সময়ে প্রতিবাদের বারুদ হয়ে ফেটে পড়ার সময়। আমাদের প্রিয় প্রধান সেনাপতির সেই শব্দগুলো মনে আছে তো? তিনি বুক চিতিয়ে দিল্লির দলদাসদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন—
"গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, এসটিএফ (STF) / সিআইডি (CID) কোনো যথাযথ নোটিশ ছাড়াই, স্রেফ জিজ্ঞাসাবাদের নামে আমার অফিসের সাথে যুক্ত বা আমার সাথে সম্পর্কিত প্রায় ২৫ জন মানুষকে হঠাৎ তলব করেছে অথবা যত্রতত্রভাবে তুলে নিয়ে গেছে। তাঁদেরকে ভয় দেখানো হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আপনারা যা পারেন করুন। আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাথা নত করব না।"
আজ শুধু এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো নয়, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে আমাদের জননেত্রীর নিজের রক্তে-ঘামে গড়া দল, দলের প্রতীক আর নাম পর্যন্ত কেড়ে নেওয়ার এক জঘন্য চক্রান্ত চলছে। আর এই চক্রান্তের পেছনে হাত মিলিয়েছে ঘরের সেই সব বেইমানেরা, যাদের আমাদের নেত্রী নিজে হাত ধরে রাজনীতি শিখিয়েছিলেন, যাদের মানুষের কাছে পরিচিতি দিয়েছিলেন, বিধায়ক বানিয়েছিলেন! ক্ষমতা আর লোভের কাছে বিক্রি হয়ে আজ তারা দলের সাথে, বাংলার মানুষের সাথে গদ্দারি করেছে।
কিন্তু এই গদ্দারেরা একটা মস্ত বড় ভুল করেছে। তারা ভুলে গেছে, এই দলটার আসল মালিক কোনো বিধায়ক বা সাংসদ নয়, এই দলের আসল মালিক হলেন মাঠের সেই নিঃস্বার্থ কর্মীটি, যে রোদ-জল-ঝড় মাথায় নিয়ে বুথ পাহারা দেয়!
গদ্দারেরা দল ছাড়তে পারে, কিন্তু লাখো-কোটি বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা, যাঁরা প্রতিদিন বুথে বুথে দলের ঝান্ডাটা বুক দিয়ে আগলে রাখেন, তাঁরা কখনো দল ছাড়েন না। আমাদের শীর্ষ নেতৃত্ব আজ যে এত বড় চক্রান্তের মুখে দাঁড়িয়েও এভাবে হাসিমুখে লড়াইয়ের ময়দানে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন, তার আসল শক্তি কিন্তু আপনারা—আমাদের বুথ স্তরের কর্মীবৃন্দ। আপনাদের একতা, আপনাদের নিষ্ঠা আর আপনাদের ভালোবাসাই হলো আমাদের নেত্রী ও প্রধান সেনাপতির আসল রক্ষাকবচ। আপনারা আছেন বলেই আজ সমস্ত বিষবাণ নিজের বুকে সয়েও আমাদের অভিভাবকেরা ময়দানে অবিচল দাঁড়িয়ে আছেন।
নেতারা বেইমানি করতে পারে, কিন্তু কর্মীরা কখনো বেইমানি করে না। আর যতদিন আপনাদের মতো একজন কর্মীও বাংলার মাটিতে লড়াইয়ের ময়দানে থাকবে, ততদিন এই তৃণমূল পরিবারের মাথা কেউ নত করতে পারবে না।
আসুন, এই ছবিটিকে বুকে নিয়ে আজ আমরা মাঠের কর্মীরা নতুন করে শপথ নিই। যত অত্যাচার হবে, আমাদের একতা তত মজবুত হবে। আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বের এই হাসিমুখের মর্যাদা আমরা আমাদের বুথ স্তরের লড়াই দিয়ে রাখব। লোভের কাছে মাথা নোয়াবে না বাংলা, বেইমানদের যোগ্য জবাব দেবে এই মা-মাটি-মানুষের আসল যোদ্ধারা!
নেতৃত্ব যখন ময়দানে অবিচল, কর্মীর গর্জন তখন অবধারিত!
জয় হিন্দ, জয় বাংলা 💚
Mamata Banerjee
Abhishek Banerjee
All India Trinamool Congress