24/04/2026
অনুলোম বিলোম বা নাড়ি শোধন প্রাণায়াম কেবল একটি শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম নয়,
এটি আমাদের শরীরের ভেতরকার এক গভীর ভারসাম্য রক্ষার বিজ্ঞান।
যখন তুমি চোখ বন্ধ করে শান্ত হয়ে বসে এক নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস নাও এবং অন্যটি দিয়ে ছাড়ো, তখন তোমার শরীরের ভেতরে মূলত এই পরিবর্তনগুলো ঘটে:
১. ইড়া ও পিঙ্গলা নাড়ির ভারসাম্য
আমাদের শরীরে দুটি প্রধান এনার্জি চ্যানেল বা নাড়ি আছে—ইড়া (বাম নাসারন্ধ্র, যা শীতলতা ও মনের সাথে যুক্ত) এবং পিঙ্গলা (ডান নাসারন্ধ্র, যা উষ্ণতা ও শারীরিক শক্তির সাথে যুক্ত)। অনুলোম বিলোম করার সময় এই দুই শক্তির মিলন ঘটে, যা তোমার সুষুম্না নাড়িকে জাগ্রত করতে সাহায্য করে। এটি অনেকটা ব্যাটারির পজিটিভ ও নেগেটিভ টার্মিনালকে ব্যালেন্স করার মতো।
বিজ্ঞান বলে, আমাদের মস্তিষ্কের বাম অংশ লজিক্যাল চিন্তা আর ডান অংশ ক্রিয়েটিভিটি নিয়ন্ত্রণ করে। এই প্রাণায়াম করার সময় যখন অল্টারনেট ভাবে শ্বাস চলে, তখন মস্তিষ্কের এই দুই গোলার্ধের (Hemispheres) মধ্যে চমৎকার একটি ছন্দ তৈরি হয়। এতে তোমার ফোকাস বাড়ে এবং মানসিক স্বচ্ছতা আসে।
শ্বাস যখন ধীর এবং গভীর হয়, তখন তা আমাদের ভেগাস নার্ভকে (Vagus Nerve) উদ্দীপিত করে। এটি শরীরকে সংকেত দেয় যে "সব ঠিক আছে, তুমি নিরাপদ।" ফলে তোমার শরীরের 'ফাইট অর ফ্লাইট' মোড বন্ধ হয়ে যায় এবং 'রেস্ট অ্যান্ড ডাইজেস্ট' মোড অর্থাৎ প্যারা-সিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়।
এর ফলে রক্তচাপ কমে এবং হার্ট রেট স্বাভাবিক হয়।
গভীর শ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসের প্রতিটি কোণায় অক্সিজেন পৌঁছায়। এটি রক্ত থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। দীর্ঘক্ষণ এটি অভ্যাস করলে তোমার রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়, যার উজ্জ্বলতা তোমার ত্বকেও (গ্লো) ফুটে ওঠে।