18/10/2026
মানিকতলায় আমার নিজের ওয়ার্ড থেকে আজ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমার ছোট বোন সুমন সোনকার আর নেই। কাল চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ও। তিরিশের একটু বেশি বয়স। অত্যন্ত মিষ্টি স্বভাবের মেয়েটি একাই পুরো সংসারটা চালাত। কত দায়িত্ব ছিল ওর কাঁধে, কত স্বপ্ন ছিল চোখে। আজ সব থেমে গেল।
অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে ওর পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। ওর মা শকুন্তলা কাকিমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো ভাষা আমার জানা নেই। তাঁর পাশে গিয়ে বুঝলাম, শূন্য দুটো চোখ শুধু নিজের মেয়েকেই খুঁজে চলেছে। সন্তানহারা একজন মাকে কী বলে সান্ত্বনা দেব? কোন কথায় তাঁর বুকের এই অসহ্য যন্ত্রণা একটু কমবে?
সুমনের শেষকৃত্যের জন্য নিমতলা ঘাটে যাওয়ার পথে কাকিমা, ওর মাসি, কাকি, বউদি এবং পরিবারের অন্যদের সঙ্গে ম্যাটাডোরে গেলাম। তাঁদের পাশে বসে তাঁদের দুঃখের একটু ভাগ নেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সেই কান্না, সেই হাহাকারের সামনে সমস্ত কথা হারিয়ে যায়। যে মেয়েটি গোটা পরিবারটাকে আগলে রাখত, আজ সেই মেয়েকেই শেষবিদায় জানাতে চলেছেন তাঁরা।
মা দুর্গা, তোমার পুজোর সময় এক মায়ের কোল এভাবে শূন্য হয় কেন? চারদিকে এত আলো, এত উৎসব, অথচ শকুন্তলা কাকিমার পৃথিবীটা আজ অন্ধকার হয়ে গেল। তোমার কাছে প্রার্থনা, কাকিমাকে ও তাঁর পরিবারের সকলকে এই অসহ্য শোক সহ্য করার শক্তি দাও। ঈশ্বর যেন আর কোনো মায়ের কোল এভাবে শূন্য না করেন।
সুমন, ছোট বোন আমার, তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি। তোমার মায়ের শোকাতুর হৃদয় যেন একদিন একটু শান্তি পায়, সেই প্রার্থনাই করি। তোমার পরিবারের প্রত্যেকের কান্না, বুকভাঙা হাহাকার সঙ্গে নিয়ে ফিরলাম।
আজ সত্যিই কিছু বলার ভাষা নেই।
এ কেমন দুর্গাপুজো, মা?