20/04/2020
# স্বার্থপর
# তমসা চক্রবর্তী
অভ্র আর শাশুড়ি মায়ের কথা কাটাকাটির আওয়াজে সকাল সকাল ঘুমটা ভেঙে গেল পৌলমীর। বিয়ের পর থেকেই অভ্র আর পৌলমী প্রতি মাসে দুটো করে শুক্রবার অফিস করেই চলে আসে দূর্গাপুরে অভ্রর বাবা মায়ের কাছে। দু'দিন কাটিয়ে রবিবার আবার ফিরে যায় কলকাতায়। প্রথম দিকে মাঝেমাঝে অল্প কিছু মনোমালিন্য হত অভ্র আর ওর মায়ের মধ্যে কিন্তু এখন এটা প্রায় প্রতিবারের ঘটনায় দাঁড়িয়ে গেছে।একটা রবিবারও পৌলমী একটু বেশিক্ষন ঘুমাতে পারে না মা ছেলের ঝগড়ার জ্বালায়।আজ আবার কি নিয়ে শুরু হল কে জানে।বিছানা থেকে নেমে আস্তে আস্তে শাশুড়ির ঘরের দিকে পা বাড়ালে অভ্রর গলা পায় পৌলমী,"শোনো মা,এর থেকে বেশী কর্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়"।
-"তা সম্ভব হবে কেন! অকৃতজ্ঞ সব", শাশুড়ির গলা চড়ছে আস্তে আস্তে। ঘরে ঢুকে পৌলমী দেখে অভ্র উত্তেজিত হয়ে মাকে বলছে,"তোমার যদি মনে হয় দিদার প্রতি আমার আরো কর্তব্য পালন করা উচিত তাহলে আগে দিদাকে এখানে এনে রাখো, তারপর দেখো আমি কর্তব্য করি কি না! কিন্তু বারবার মামার বাড়ি যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না"। শাশুড়ি মা ভীষন রেগে গিয়ে বললেন, "বোকাবোকা কথা বলিস না অভ্র, মা কখনো মেয়ের বাড়িতে থাকে! যাদের ছেলে নেই তাদের কথা আলাদা, কিন্তু যাদের ছেলে আছে,তারা প্রথমে স্বামীর কাছে,আর স্বামীর অবর্তমানে ছেলের কাছেই থাকে,এটাই নিয়ম।আর মেয়ের বাড়িতে থাকাটা মায়ের কাছে খুব একটা সম্মানজনকও নয়"।
-"কোন যুগে পড়ে আছো তুমি মা, মায়ের দায়িত্ব শুধু ছেলেদের! মেয়েদের কোনো দায়িত্ব নেই! আসলে তোমার মত কিছু স্বার্থপর মেয়ে বাবা মায়ের দায়িত্ব নেওয়া থেকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্যেই আজকের দিনে দাঁড়িয়েও এইসব নিয়মের অজুহাত দেখিয়ে যাচ্ছে"।
অভ্রর কথা শুনে পৌলমির শাশুড়ি মা রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললেন,"আমি স্বার্থপর,বাবা মায়ের দায়িত্ব নেওয়া থেকে এড়িয়ে গেছি!মেয়ে হিসেবে আমি কোন কর্তব্যটা করিনি শুনি"!
-"গোটা বিশ্ব যখন চিৎকার করে বলছে ছেলে মেয়ে সবাই সমান,তখন তোমার মুখে এই 'মেয়ে হিসেবে কর্তব্য' শুনে হাসবো না কাঁদবো বুঝে উঠতে পারছি না মা",প্রচন্ড বিস্মিত হলেও একটা বিদ্রূপের হাসি হেসে মাকে কথাগুলো বলল অভ্র।
-"তোমার এইসব জ্ঞানের বাণী অন্য কাউকে শুনিও।ভুলে যেও না তুমি নিজের মায়ের সাথে কথা বলছো",রাগে ফুঁসতে থাকা অভ্রর মা ওখান থেকে বেরিয়ে যেতে গেলে অভ্র চিৎকার করে ওঠে,"এটাই তো প্রবলেম মা, সত্যি কথা শোনার সৎ সাহস নেই তোমার"।
-"আমার সাহস নেই সত্যি কথা শোনার!এটাই শোনা বাকি ছিল। বেশ আজ আমিও শুনতে চাই,এমন কি সত্যি আছে যেটা শোনার সৎ সাহস নেই আমার"!মা ছেলে কেউ থামছে না দেখে পৌলমী অভ্রকে চুপ করানোর চেষ্টা করলে অভ্র ওকে থামিয়ে দিয়ে মাকে বলে,"কোনো দিন ভেবে দেখেছো, মামার উপর তুমি আর মাসি কি পরিমান মানসিক অত্যাচার করে আসছো প্রথম থেকে"।
-"তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে,যা নয় তাই বলে যাচ্ছিস।আমরা ভাইয়ের উপর মানসিক অত্যাচার করছি",
-"হ্যাঁ করছো।আজ নয়,একযুগ ধরে করে আসছো। শুধু মাত্র তোমাদের জন্য মামা মামী আজ একযুগ ধরে বাড়ির বাইরে একদিনের বেশি কাটাতে পারে না।কেন, কেননা দিদাকে বাড়িতে একা রেখে সাতদিন কোথাও যাওয়া সম্ভব নয়। ওরা তো সব কর্তব্য করছে, কিন্তু তাই বলে কি ওদের নিজস্ব কোনো জীবন নেই! আমি তো নিজে দেখেছি,আগের বার কত সখ করে বিবাহ বার্ষিকীতে সোনাই মামা মামীকে পুরীর টিকিট কেটে দিয়েছিল, কিন্তু তুমি আর মাসি ভুল ভাল অজুহাত দেখিয়ে দিদার কাছে গিয়ে থাকলে না বলে ওদের যাওয়াটা ক্যানসেল করতে হলো।মুখে কখনো প্রকাশ না করলেও মনে মনে খুব দুঃখ পেয়েছিল ওরা", অভ্রর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে ওর মা বলে,"ভুলভাল অজুহাত!নিজের ভাইয়ের পরীক্ষাটা তোর কাছে ভুলভাল অজুহাত"।এই বাকবিতণ্ডার মধ্যে অনেক আগেই ঘুম থেকে উঠে বোকার মত বসেছিল অভ্রর ছোট ভাই শুভ্র। কিন্তু ঝামেলায় তার নাম জড়িয়ে পড়তেই সে মাকে বলে,"আমার পরীক্ষার সাথে তোমার কী সম্পর্ক।আমি কি ছোট বাচ্চা নাকি যে আমার পরীক্ষা বলে তুমি দিদার কাছে গিয়ে থাকতে পারবে না"!পৌলমী দেখলো ওর শাশুড়ি মা যুক্তিতে না পেরে উঠে এবার চিৎকার করতে শুরু করেছেন,"এখন তো এইসবই বলবে, অকৃতজ্ঞ দুটো ছেলের জন্ম দিয়েছি আমি"। অভ্র একটা বাঁকা হাসি হেসে বলল,"এটা কিন্তু তোমার জন্যেও প্রযোজ্য মা"।
-"এত বড় কথা তুই বলতে পারলি আমাকে!আমি অকৃতজ্ঞ"! ছেলের আচরণে সাংঘাতিক কষ্ট পেয়ে বলেন অভ্রর মা।
-"তোমার মনে আছে মা,শুভ্র যখন হয় তখন আমার ক্লাস-V এর অ্যাডমিশন টেস্ট ছিল। আমাকে কত প্রিপারেশন করিয়ে ছিলে তুমি একবছর ধরে, কিন্তু টেস্টের ঠিক পনেরো দিন আগে শুভ্র হওয়ার পরেই দিদার সাথে তুমি কলকাতায় চলে গিয়েছিলে।আমি এখানে একা বাবার কাছে ছিলাম। খুব ভয় পেতাম জানো,যদি পরীক্ষা খারাপ হয়।তারপর পনেরো দিন পর অ্যাডমিশন টেস্ট দিয়ে সোজা কলকাতায় গিয়েছিলাম তোমার কাছে। সেদিন যখন আমার সত্যি তোমাকে প্রয়োজন ছিল তখন কিন্তু তোমার কাছে নিজের ছেলের পরীক্ষার থেকে অনেক বেশী জরুরী নিজের বিশ্রাম আর ছোট ছেলের পরিচর্চা ছিল,যেটা একমাত্র দিদার কাছে থাকলেই সম্ভব হত।কারন মা যেভাবে মেয়ের যত্ন করবে সেটা আর কেউ করবে না। আর আজ যখন দিদার পরিচর্চার দরকার হলো তখন তুমি ছেলের কলেজের পরীক্ষার বাহানা দেখিয়ে দিলে! এবার বল তুমি অকৃতজ্ঞ কিনা"! অভ্রর কথায় মা একেবারে চুপ হয়ে গেল,সবাই চুপচাপ একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছে তখনই অভ্র মায়ের কাছে গিয়ে আবার বলে,"মা আমরা সবাই আসলে স্বার্থপর।নিজেদের জীবনে এত ব্যস্ত আমরা যে বাবা মাকে প্রয়োজন ছাড়া মনেই করি না।এটা ভেবেই খুশি থাকি মাসে মাসে টাকাতো পাঠিয়ে দিচ্ছি,ওরা নিজের বাড়িতে ভালোই আছে। কিন্তু মা কর্তব্যটা তো শুধু আর্থিক নয়, বাবা মাকে বুড়োবাচ্ছার মত আগলে রাখাটাই তো আসল কর্তব্য। ছোটবেলায় বাবা মা যখন তার কোনো সন্তানের মধ্যে বিভেদ করে না, তখন কেন মেয়েরা দায়িত্ব নেওয়ার বেলায় জোর গলায় সমান অধিকারে এগিয়ে আসবে না? তখন কেন সব দায়িত্ব ছেলের উপর গিয়ে বর্তাবে! তোমাকে দুঃখ দেওয়ার উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলি নি মা, এখন যখনই মামার বাড়ি যাই,ওদের সবাইকে এমনকি দিদাকে দেখলেও মনে হয় দায়িত্বের যাঁতাকলে সম্পর্কগুলো আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাই বললাম তোমায়"।
সেদিন সারাদিন অভ্রর মা তৃপ্তিদেবী আর কারুর সাথে বিশেষ কোনো কথা বলেনি, শুধু বিকেলে অভ্ররা চলে আসার সময় ওদের বলেন সাবধানে যেতে।
বিকেল সাড়ে চারটের সময় পৌলমীর ফোনটা পেয়েই অভ্র করুনাময়ী থেকে দূর্গাপুরের বাস ধরে যখন বাড়ি পৌছাল তখন প্রায় সাড়ে আটটা বাজে। কিন্তু বাড়ি পৌঁছে দেখে বাড়িতে সবাই বার্থডে পার্টির প্রিপারেশন করছে। অভ্র কিছুতেই মনে করতে পারলো না আজ কার জম্মদিন। হঠাৎ ই মায়ের ঘর থেকে মামার গলার আওয়াজ পেয়ে গিয়ে দেখে মামা,মামী,সোনাই আর দিদাকে বসে থাকতে দেখে অভ্র জোর চমকালো।ওর মাথায় কিছুই ঢুকছে না কি হচ্ছে। সেই সময় আচমকাই সোনাই ওকে ওখান থেকে উদ্ধার করে বারান্দায় নিয়ে এসেছে বলে, "ব্যাপারটা কি বলতো দাদাভাই"?
-"আরে আমি তো কিছু বুঝতে পারছি না,এসব হচ্ছেটা কি",অভ্র সত্যিই কিছু বুঝে উঠতে না পেরে বললো।
-"আরে,আজ সকালে পিসিমনি বৌদিকে নিয়ে হঠাৎ ই আমাদের বাড়িতে হাজির।আর তারপর থেকে একের পর এক বাউন্সার দিয়ে যাচ্ছে"।
-"মা! পৌলমীকে নিয়ে তোদের বাড়ি গিয়েছিল!তারপর"? অভ্রের প্রশ্নের উত্তরে সোনাই বলে,"প্রথমে দেখলাম ঠাম্মীর সাথে কিসব গোপন সলা পরামর্শ করলো,তারপর বাবা মাকে ডেকে বললো,'তোদের সঙ্গে নিজের অজান্তেই অনেক অন্যায় করেছি। মায়ের সব দায়িত্ব তোদের উপর দিয়ে আমরা নিজেদের মত করে জীবনটাকে উপভোগ করেছি এতদিন, কিন্তু ভুলে গিয়েছিলাম তোদেরও একটা নিজস্ব জীবন আছে, কিছু সখ আছে।অথচ তোরা সবসময় হাসি মুখে মায়ের সব দায়িত্ব কর্তব্য পালন করেছিস।আমি মেয়ে হয়ে যা করিনি,মনি বৌমা হয়ে তার থেকে অনেক বেশি করেছে। আজ আমি বড় হয়েও তোর থেকে ক্ষমা চাইছি ভাই,পারলে এই স্বার্থপর দিদিটাকে ক্ষমা করে দিস'। হতভম্বের মত সোনাই এর কথা শুনতে থাকা অভ্র জিজ্ঞেস করল,"তারপর"!
-"তারপর বললো,'মাকে আমি আজ আমার সাথে নিয়ে যেতে চাই ভাই,না করিস না please, অনেক কষ্টে মাকে রাজি করিয়েছি'। তখন বাবা বললো, 'মায়ের যদি আপত্তি না থাকে তাহলে আমাদের কেন বারণ করবো'। পিসিমনি তারপর বৌদির থেকে একটা খাম নিয়ে মায়ের হাতে দিয়ে বলল, আমাদের জন্য আগেরবার তোদের টিকিট ক্যানসেল করতে হয়েছিল, এবার নিশ্চিন্তে ঘুরে আয়, আমি মায়ের খেয়াল রাখবো। কিন্তু তার আগে আজকে মায়ের জম্মদিনটা তোরা সবাই আমাদের সাথে দূর্গাপুরেই সেলিব্রেট করবি',এই বলে আমাদের পুরো কিডন্যাপ করে এখানে নিয়ে এল"। পুরো ঘটনার একটা কাল্পনিক ভিডিও ইন্সট্যান্টলি মাথায় চালিয়ে নিয়ে অভ্র এক ছুটে রান্নাঘরে এসে মাকে জড়িয়ে ধরে বলে,"I Love You মা, পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও, সেদিন আমি তোমাকে সত্যিই দুঃখ দিতে চাই নি"। অভ্রর মাথায় পরম স্নেহে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে তৃপ্তি দেবী বললেন,"তোর কথায় সেদিন খুব রাগ হয়েছিল।কিন্তু তারপর যখন সত্যির আয়নায় নিজের মনটাকে দেখলাম, খুব নোংরা লাগলো জানিস, নিজের আসল রূপটা দেখে নিজেরই ঘেন্না হচ্ছিলো। ভেবে দেখলাম নিজের বাবা মা স্বামী সন্তান কারুর প্রতিই আমি নিজের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করতে পারিনি। নিজের ভিতরেই গুমরে ছিলাম, কিন্তু পৌলমী বুঝতে পেরেছিল আমি ভিতরে ভিতরে ভীষন কষ্ট পাচ্ছি,ও ফোন করতে কিভাবে যেন বিনা দ্বিধায় ওকে সব বলে ফেললাম। সব শুনে তোর বৌ বলল,'শোনো মা দোষে গুনেই মানুষ। তাই তোমার একটা ভুল নাই তোমাকে দায়িত্ব কর্তব্যহীন প্রমান করতে পারে না আর নাই সংসারে তোমার অবদানকে অস্বীকার করতে পারে। তাই নিজেকে দোষারোপ করে কষ্ট পাওয়াটা বন্ধ করো।সবাই নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে না মা, কিন্তু তুমি পেরেছো। আর নিজের ভুলটা যখন বুঝতে পেরেছো,তখন কান্নাকাটি না করে ভুলটাকে শুধরে নাও, সমস্যাটা কোথায়'!তারপর ভাইদের বেড়াতে যাওয়ার টিকিট কাটা থেকে শুরু করে আজ গাড়ি পাঠিয়ে আমাকে নিয়ে যাওয়া,তোর দিদাকে এখানে আসার জন্য রাজি করানো, বার্থডে পার্টি সবটাই তোর বৌ একার হাতে সামলেছে। কপাল করে একটা বৌমা পেয়েছি"! অভ্র কপট রাগ দেখিয়ে বলে,"হ্যাঁ এখন তো বৌমাই সব, আমি তো বানের জলে ভেসে এসেছি"।
"ছোটরাও মাঝে মাঝে জীবনের কিছু বড় শিক্ষা দিয়ে যায় আমাদের।তুই না থাকলে তো আমি জীবনের এত বড় ভুলটা বুঝতেই পারতাম না"। মৃদু হেসে ছেলেকে বলেন তৃপ্তি দেবী। ইতিমধ্যেই পৌলমী এসে কেক কাটার জন্য সবাই কে ডেকে নিয়ে গেলে,কেক কাটার পর তৃপ্তিদেবীর মা বলেন,"ছেলে মেয়েরা নিজেদের সংসারে ব্যস্ত হয়ে পড়লে নিজেরাই ভেবে নেয়, মায়ের কোনটা ভালো লাগবে কোনটা খারাপ লাগবে, কিন্তু মা কি চায়,সেটাই জিজ্ঞেস করতে ভুলে যায়।আজ প্রথম বার আমার মেয়ে আমার থেকে জানতে চাইলো যে আমি কি চাই।এর থেকে বড় পাওনা আর কি আছে। একটা বয়সের পর তো বাবা মা শুধুই ছেলেমেয়ে নাতি নাতনী এদের সঙ্গ পেতে চায়। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেই সঙ্গটুকু দিতেও ছেলে মেয়েরা অপারক। আমার সৌভাগ্য যে আমরা সন্তানরা মায়ের জীবনের থেকে চাহিদাটা বুঝেছে। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি যাতে ওদের সন্তানরাও ভবিষ্যতে ওদের বুঝতে পারে"।
# সমাপ্ত
© ভিনদেশী তারা-bhindeshi tara-কলমে তমসা চক্রবর্তী
# ভালো লাগলে লেখিকার নাম সহ শেয়ার করুন