02/03/2026
পেঞ্চের শেষবেলা -->
# # # # # # # # # # # # #
৪ র্থ পর্ব - ৪/১/২০২৬
>>>>>>>>>>>>>>>
বাঘ - না অশরীরী আত্মা!!!
~~~~~~~~~~~~~~~
Rudyard Kipling এর অমর সৃষ্টি Jungle Book এর নায়ক মৌগলি বাদে সব চরিত্রের সাথেই সিওনি জেলার পেঞ্চ গ্রামে এসে দেখা হয়ে গেল। Kipling এর child fantacy Robert Baden Powell স্কাউট এর সিলেবাসে ঢুকিয়ে দেওয়ায় Rik Chowdhury দের স্কুলে স্কাউট ক্লাসের সময় থেকে পেঞ্চ নিয়ে একটা কাল্পনিক ধারণা হয়েছিল। Kipling ভদ্রলোক কখনো পেঞ্চে আসেননি, অথচ কি শিল্পীস্বত্বা দেখুন, তার Jungle Book পড়লে মনে হবে, যেন আপনি সত্যি সত্যি পেঞ্চে বসে আছেন এবং সাহেবের কাছে গল্পটা শুনে চলেছেন ।
পেঞ্চের অরণ্যশোভা, পাহাড়ি রাস্তায় সাফারির এডভেঞ্চার, অনেক অচেনা পাখির সমারোহ, জঙ্গলের ডাক এর ওপর নির্ভর করে পশুর গতিশীলতা পর্যবেক্ষণ ; সত্যিই অনন্য অভিজ্ঞতা।
শেষ সকালে কুয়াশা ঘেরা রাস্তা দিয়ে জিপসি টুরিয়া গেটে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরী করে জঙ্গলে প্রবেশের সময় মাঝবয়সী এক গাইড গাড়িতে উঠে এলেন। সামনের রাস্তায় বেশ ঘন কুয়াশা থাকায় ১০০ মিটার দূরের বস্তু ও দেখতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল। আজ জঙ্গল একদম নিঝুম, দুপাশের গাছগুলো সূর্য ওঠার অপেক্ষায় মাথা ঝুঁকিয়ে ট্রাফিক পুলিশের মতো ঝিমিয়ে রয়েছে।
কিছুদূর চলে আসার পরে Tabaqui এর দলের সাথে মোলাকাত হলো। মৌগলীর এক পার্শ্বচরিত্র হলো এই Tabaqui বা ভারতীয় শিয়াল - সাধারণত Golden Jackel, Black Backed Jackel প্রভৃতি প্রজাতির সাথেই আমাদের জঙ্গলে বেশি দেখা হয়ে থাকে। শিয়ালের দল রাস্তার ধারে প্রাতকৃত্য সারার সাথে সাথে সঙ্গিনীদের সাথে প্রাক প্রজননকালীন প্রেমের আদবকায়দা গুলি বজায় রেখে deep commitment স্থাপন করে চলছিল। জানুয়ারীর শীতে স্ত্রী প্রজাতির যে প্রাণীটি প্রথমবারের জন্য রজস্বলা হয়ে ওঠে, পুরুষ মহলে তাকে পাওয়ার জন্য একটা আলোড়ন সৃষ্টি এবং সেই সঙ্গীনিকে পাওয়ার আকাঙ্খায় একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। বিজয়ী সঙ্গী এরপরে তার সঙ্গিনীর সাথে একত্রে ঘুরে বেড়ানো, ও স্প্রে মারফত এলাকা দখলে রাখার সাথে স্ত্রী প্রাণীটি তার লেজটা উপরে তুলে জননাঙ্গ প্রদর্শন করে , গায়ের লোম খাড়া করে সঙ্গী কে আকৃষ্ট করে। তাদের মধ্যে হাল্কা একটা আদরসুলভ মারপিট এবং যৌনাঙ্গ স্বাদ কোরকের দ্বারা পরখ করে নেওয়ার পরে তাদের মধ্যে সংগম হয়, এর সময়সীমা দফায় দফায় সপ্তাহখানেক ধরে চলতে থাকে এবং সংগমের শেষদিকে ৫-৭ মিনিট পর্যন্ত দুজনের যৌনাঙ্গ আটকে থাকে। স্ত্রী গর্ভবতী হয়েছে বোঝার পরে পুরুষ শিকার করে এনে খাবারটা বমি করে তাকে খেতে দেয়। মার্চ এপ্রিলে এদের বাচ্ছা জন্ম নেয়।
কিছুক্ষন তাদেরকে দেখার পরে আমরা সামনে এগিয়ে একটা গাউরের পরিবারের দেখা পেলাম, তারা অলসভাবে দাঁড়িয়ে জাবর কেটে চলেছিল।
গাইড ড্রাইভারকে বাঘিন নালা থেকে কালাপাহাড় গিয়ে তারপর আলিকাট্টা তৃণভূমিতে পৌঁছতে বলল। বাঘিন নালায় কাল বিকালেও আমরা এসেছি, এখানে যে চওড়া নালাটা আছে, গ্রীষ্মে সাফারিতে এসে কোথাও বাঘ না দেখতে পেলেও এখানের ছায়াঘন শীতল পরিবেশে নিশ্চিতভাবেই বাঘের দেখা পাওয়া যাবে।
আমরা পাশের একটা শালগাছের ওপর একটা crested serpent eagle দেখতে পেলাম, বাঁদিকে সোনালী রঙা ঘাসজমিতে দারুন ক্যামোফ্লেজ করে বসে থাকা ঝাঁকে ঝাঁকে Blyths Pipit , যা একপ্রকার চড়াই প্রজাতির পাখি দেখতে পেলাম , এরা শস্যখেতে বসবাস করে থাকে। এদের সাথে Paddyfield Pipit কে প্রায়ই গুলিয়ে ফেলা হয়। কাছাকাছি আরেকটা অন্য প্রজাতির পাখি বসে থাকতে দেখলাম , এগুলো একটু বড়ো আকারের অনেকটা সারসের মত দেখতে, নাম Thick Knee, একটু বড়ো আকারের আর গায়ে বাদামি ডোরা দাগ , এরা মাঠ থেকে পোকামাকড় খায়। আরেকটু এগিয়ে রাস্তার একটা বাঁকে একটা তালাও দেখলাম যা জুনেওয়ানি লেক নামে পরিচিত , এখানেও জলের ওপরে কয়েকটি গাছ খাড়া ভাবে দাঁড়িয়ে বেঁচে রয়েছে । একটা White breasted kingfisher সামনের একটা শাল গাছের শুকনো ডালে বসে বসে পালকের পরিচর্যা করে চলেছিল।
এবারে জিপসি লেক ছেড়ে এগোতে এগোতে ক্রমশ একটা উঁচু পাহাড়ের দিকে উঠতে শুরু করলো, রাস্তার বাঁকে বাঁকে পাথরের স্তুপগুলো পাহাড়ের ওপর পর্যন্ত বিস্তৃত। পাহাড়ের ওপরে প্রধানত শালের জঙ্গলে কোনো পশুর দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে হলো। হঠাৎই একটা চুলের কাঁটার মতো বাঁক ঘোরার পরে গাইডের ইশারায় গাড়িটা থামতে বাঁদিকে ১০ ফুট উঁচু ও ত্রিশ ফুট চওড়া একটা পাথর চোখে পড়লো , যা পাহাড়ের ঢাল বরাবর নেমে এসেছে, স্লেটের মতো পাথরটির বেশ কয়েকটা খাঁজের মধ্যে ছ সাতটা বুনো কুকুর অঘোরে ঘুমিয়ে রয়েছে দেখলাম। দীর্ঘ একটা রাত জাগার পরে তারা সকালে একটা শান্তির নিশ্চিন্ত ঘুম ঘুমাচ্ছে। আমাদের কথাবার্তা তাদের নিদ্রায় কোনো ব্যাঘাত ঘটাতে পারল না অথবা তারা আমাদের গলার শব্দকে পাত্তা না দিয়ে শুয়ে রইল । তাদেরকে ছেড়ে আমরা পাহাড়ের রাস্তা ধরে আরো সামনে উঠতে লাগলাম। হঠাৎ পাশের ঘেসো জমিতে একটা বড়োসড়ো বনবরাহ দৌড়ে চলে যেতে দেখলাম, টাডোবা থেকে নাগপুরে ফেরার সময় অন্তত তিনটি বুনো শুয়োর কে হাইওয়ে রাস্তায় মরে পরে থাকতে দেখেছিলাম, হয়তো মিসকালো রঙ এর জন্তুটিকে রাতে দেখতে না পেয়ে গাড়ি চাপা দিয়ে ফেলেছিল, আর বনদপ্তর তাদের সদগতি করতে না আসায় এই সরকারি সম্পত্তি রাস্তায় ঐভাবে ই পড়ে ছিল । আমরা এর আগেও বনবরাহ দেখেছিলাম চিতওয়ানে ।
জঙ্গলের মধ্যে আবার আমরা এগোতে থাকলাম। জিপসি একটা পাহাড়ের ধাপে এসে দাঁড়ালো, এখানে পাহাড় আমাদের ওপরে যতটা উঁচুতে, নিচ থেকে ও ততটা উঁচুতে আমরা রয়েছি, অর্থাৎ আমরা পাহাড়ের মাঝামাঝি। নিচের উপত্যকা দিয়ে দুটো কালো পিঠওয়ালা শিয়াল দৌড়ে এগোচ্ছিল, হঠাৎই আমাদের গাইড মুখের দুদিকে হাত রেখে অবিকল ভাবে শিয়ালের ডাক ডেকে ওঠায় তারা চমকে একবার ওপরে তাকিয়ে আমাদের দেখতে পেয়ে আবার দৌড়োলো, সামনে পাহাড়ের ওপরে আরো খানিকটা ওঠার পরে আমরা একটা সমতল জায়গায় এসে পৌঁছলাম, এখানে একটু দাঁড়িয়ে, আমরা বাঁদিকে একটা বাঁক ঘুরে জিপসিটা যেখানে থামলো, তার সামনে রাস্তার দুদিকে ছ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট এবং কুড়ি ফুট চওড়া পাথর দুদিকে অবস্থান করে মাঝে একটা গলিপথ সৃষ্টি করেছে, জিপসিটা এগিয়ে যেইমাত্র গলিটা পার হয়েছে, তখনি সামনে ডানদিকে, উপত্যকা থেকে একদল চিতল হরিণের দফায় দফায় উৎকন্ঠীত ও ভয়ার্ত ডাক ভেসে এলো। সাথে সাথে আমাদের জিপসিটা আর এক পা 'ও না এগিয়ে স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে গেল। কিছুক্ষনের মধ্যে আবার একটানা হরিণের উৎকণ্ঠা মিশ্রিত ডাকের শব্দ সামনের দিক থেকে আসতে থাকায় এবার আমরা জোরে জিপসি চালিয়ে সামনের দিকে এগোলাম। কিছুটা এগোতে, ডানদিকের উপত্যকায় কয়েকটা ভীত সন্ত্রস্ত চিতলকে ওপরের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। আমরা দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করতে শুরু করলাম যে হরিণ গুলো বাঘ দেখেই ভয় পেয়ে গিয়েছে।
এই জায়গাটার একটা বর্ণনা দরকার, জায়গাটার নাম কালাপাহাড় জোন। দুদিকে ঢাল হয়ে নেমে যাওয়া উপত্যকার মাঝে একটা ত্রিশ ফুট চওড়া রাস্তা, ঠিক মোষের পিঠের মত সামনের দিকে চলে গিয়েছে। জিপসি টা আরো এগোতে আমাদের সামনের রাস্তার ওপর ৭-৮ ফুট সামনেই টাটকা রক্তের দাগ দেখতে পেলাম। গাইড আমাদের বাঁদিকে ঝোপের দিকে দেখতে দেখতে ফিসফিসিয়ে বলল বাঁদিকের ঝোপে লেপার্ড, স্যার দেখে নিন। আমরা সকলে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ঝোপঝাড়ের ফাঁকে ফাঁকে দেখতে দেখতে লেপার্ড এর গোল গোল ছাপওয়ালা হলুদ শরীরটা দেখতে পেলাম। গাইড বলে চলল, লেপার্ড টি একটা হরিণ ডান দিকের উপত্যকা থেকে শিকার করে তা টেনে নিয়ে রাস্তা পাড় হয়ে বাঁদিকের উপত্যকায় আমরা আসার কয়েক মুহুর্ত আগে নেমে গিয়েছে। এর পরেই আমরা লেপার্ড টার নড়াচড়া স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলাম। সেটি শিকারকে মাটিতে রেখে দাঁড়িয়ে পড়ে দেখছিলো, তারপর একটু সামনের দিকে চলে, আবার পিছনে ঘুরে ঘুরে বারবার সন্দীগ্ধ ভাবে কিছু দেখা বা বোঝার চেষ্টা করে চলেছিল। আর অবশেষে বনের ভিতর অদৃশ্য হয়ে পড়লো। গত কাল বিকালের লেপার্ডটা ছিল মাদী বা স্ত্রী প্রজাতির, আর আজকেরটি পুরুষ বা মদ্দা। লেপার্ড টি জঙ্গলের ভিতর চলে যাওয়ার পরে ড্রাইভার জিপসিটা উল্টো দিকে মুখ করে ঘুরিয়ে রাখলো।
আমরা এখানে লেপার্ড টা বেরিয়ে আসতে পারে আশা করে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবো ঠিক করলাম। দূর থেকে বনদপ্তরের একটা সাদা রঙের মাথা ঢাকা দেওয়া জিপ আসতে দেখা গেল। জিপসিটা আমাদের পিছনে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার সময় দেখলাম ভেতরে একজন ভদ্রমহিলা ও দুটি শিশু বসে আছে। দুজন গাইড তাদের সামনের সিটে বসে। আমাদের গাইড জানাল উনি DFO সাহেবের স্ত্রী, বাচ্ছাদের নিয়ে জঙ্গলে ছুটিতে ঘুরতে এসেছেন । গাড়িটা আমাদের জিপসি থেকে ৩০ মিটার দুরত্বের একটা গ্যাপ রেখে দাঁড়িয়ে পড়লো। ঐদিকে আরো দুটি জিপসি এসে সাদা গাড়িটার পাশে এসে দাঁড়িয়ে গেল।
লেপার্ড এর জঙ্গলে ঢুকে পড়ার পরে জঙ্গল শান্ত হয়ে গিয়েছিল। আচমকা আমাদের বাঁদিক থেকে চিতলের পরপর কয়েকটা সতর্কিকরণ সূচক ডাক শুনতে পাওয়া গেল, এবং সাথে সাথে এই গাড়িগুলি থেকে আসা মৃদু গুঞ্জন থেমে গেল। কোনো এক অজানা আশ্চর্যজনক ঘটনার পূর্বাভাস আমার মনে ঝিলিক দেওয়ায়, আমি ড্রাইভার কে জিপসি টার স্টার্ট বন্ধ রাখতে বললাম। আমার ও ড্রাইভারের মুখ ছিল গাড়ির সামনের দিকে। গাইড বাঁদিকের হরিণের দলটা দেখে চলেছিল। আর Rik সিটে দাঁড়িয়ে ডানদিকে লেপার্ড এর অস্তিত্ব খুঁজতে খুঁজতে ক্যামেরায় হাত রেখে ঝোপ গুলির দিকে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছিলো, হঠাৎ ফিসফিস করে বলল, "বাপি পিছনে টাইগার! " আমি ও গাইড সাথে সাথে ১৮০°ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি ডানপাশের ঝোপটা থেকে একটা পুরুষ বাঘ বেরিয়ে এসে পুলিশ কুকুরের মত রাস্তায় পড়ে থাকা হরিণ এর রক্তটা শুঁকতে শুঁকতে রাস্তাটার মাঝ বরাবর আসছে। তারপর রাস্তা থেকে বাঁদিকের নাবালে খানিকটা নেমে গিয়ে আবার উঠে এসে রাস্তা পেরিয়ে ডানদিকে লেপার্ড টার চলে যাওয়া পথ বরাবর খানিকটা সোজা এগিয়ে, আবার পিছনে ঘুরে ঠিক লেপার্ড টার মত একই পথে জঙ্গলের গভীরে ঢুকে পড়লো।
আমরা ঘটনার আকস্মিকতায় অন্তত মিনিটখানেক হতভম্ব হয়ে গেছিলাম। Rik বলল, "আমি লেন্সের ওপর ধুলো পড়েছে কি না সেদিকে দেখছিলাম, আর মাঝে মাঝে লেপার্ড এর চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম, হঠাৎই একটা ঝোপের ফাঁকে চোখটা আটকে গেলো, ঝোপটা দুলে উঠল, আর একটা বড়োসড়ো বাঘ বেরিয়ে এসে রাস্তার দিকে আসতে দেখে তোমাকে ডাকলাম।"
বাঘটা জঙ্গলে ঢুকে যাওয়ার পরে ভেবেছিলাম ওটা লেপার্ড এর খোঁজে জঙ্গলে ঢুকে শিকারটা কেড়ে নেবে, অথবা লেপার্ড টাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু পরক্ষনেই মনে হলো লেপার্ড ও অত্যন্ত ক্ষীপ্র ও ধূর্ত প্রাণী, তাই তার থেকে শিকার কেড়ে নেওয়া বা তাকে মেরে ফেলা খুব সহজ হবেনা, বিপদ বুঝলে সে আত্মরক্ষা করতে কোনো উঁচু গাছে উঠে পড়বে ।
মিনিট দশেক অপেক্ষায় থেকে আমরা ফিরতে শুরু করলাম। আমরা পাথরদুটির মাঝে গলিটা পেরোনোর পরে গাইড ডানদিকে একটা জারুল গাছের কাণ্ডে বাঘটির নখের গভীর আঁচড়, এবং মার্কিং স্প্রের তরল দেখাল, যা এখনো ভিজে রয়েছে দেখলাম। কয়েক মিটার এগিয়ে রাস্তার ওপর বাঘটির বিষ্ঠা পড়ে থাকতে দেখলাম। বিড়াল গোষ্ঠীর প্রাণীরা যেমন বিষ্ঠা ত্যাগের পরে পা দিয়ে মাটি আঁচড়ায় সেরকম আঁচড়ের দাগ বাঘটি করার পরে ধুলো দিয়ে বিষ্টা ঢেকে আমাদের অভিমুখ বরাবর চলছিল।
আমরা এখানে দাঁড়িয়ে পড়ে স্তভিত ভাবে আলোচনা করছিলাম যে, বাঘটা কতখানি নিঃশ্বব্দে আমাদের থেকে আন্দাজ ত্রিশ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে আমাদের ঠিক পিছনে পিছনে আসছিলো, তারপর চিতাটার গায়ের গন্ধ পেয়ে বাঁদিকের ঢালে নেমে গিয়ে মৃত হরিণটির রক্ত শুঁকে রাস্তায় উঠে এসেছিলো, একটা পাতা ঝরে পড়লেও যে শব্দ হয়, ন্যূনতম সেটুকু শব্দও না করে, একটা প্রেতের মতো অতি নিঃশ্বব্দে তার এই চলাফেরা বইতে পড়েছি, আজ অনুভব করলাম । শুধুমাত্র খুব কাছে আসার পরে তার গায়ের গন্ধ পেয়ে হরিণ গুলো ডেকে না উঠলে, এবং Rik বাঘটির আসার পথের দিকে তাকিয়ে না থাকলে বাঘটা রাস্তায় উঠে আবার বনে ঢুকে যাওয়া পর্যন্ত আমাদের কারো পক্ষেই তার উপস্থিতি ঘুনাক্ষরে ও বুঝতে পারা সম্ভব হত না।
সাফারি সেরে ফিরে, স্নান করে লাগেজ নিয়ে বেরিয়ে পড়ে, মিঃ চৌহান কে বিদায় জানিয়ে গাড়িতে উঠে রামটেক নামলাম। শ্রীরামের চরণ স্পর্শের পরে রাস্তায় একটা ধাবায় দুপুরের খাওয়া শেষ করে, বিকালে নাগপুর পৌঁছে রাতে বিশ্রাম,এবং পরদিন ভোরে কুয়াশাঘন আকাশ ফুঁড়ে কলকাতার কনকনে আবহাওয়ায় এসে পৌঁছানো ।
🪔🪔🪔🙏🪔🪔🪔
(শেষ )

02/03/2026
02/03/2026