09/05/2022
একটি অজানা বার্তা
আজ কবিগুরুর জন্মদিন. সাহিত্য, সংস্কৃতির সবক্ষেত্রে এই মানুষটি গোটা যুগ, সমাজ আর হৃদয়কে অধিকার করে রেখেছেন ? আমাদের সবটুকু ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা তাকে আবারও দিলাম I কিন্তু তবুও আজ আনন্দের সাথে এক গোপন ব্যাথায় হৃদয় আহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত I জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে বুকের ভিতরটা I কারণ আর কিছু নয়. সেটা হলো আমাদের প্রাণের ঠাকুরের আর একটা অদেখা দিক, যা নিয়ে কেউ কথা রাখল না I হ্যাঁ, বলছি কুস্তির কথা I বাংলার গর্ব, বাংলার প্রাচীনতম আত্মরক্ষামূলক ক্রীড়া কুস্তি, যার সাথে যুক্ত ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ I
চোখ রাখছি মুর্শিবাদ জেলায়I গ্রামীণ মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে জাতীয় কুস্তি প্রতিযোগিতা হয়ে উঠল এক অনন্যসাধারণ আকর্ষণ আর সরকারের জনসংযোগের প্রত্যক্ষ্য মাধ্যম I প্রমান হল যে কুস্তি এখনো বিপুল জনপ্রিয় I প্রশ্নতো এখানেইI যেখানে কুস্তি সরকারের জনসংযোগের মাধ্যম, সেখানে রবীন্দ্রনাথের মতো মানুষের কুস্তিভূমি সংরক্ষিত হয় না কেন ? কোথায় আছে এর উত্তর ! আমরা কি এতই স্বার্থপর !
জোড়াসাঁকোর ঐতিহ্যময় ভবন অনেকদিন ধরেই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়I এখানেই এক প্রান্তে কুস্তি শিখতেন কবিগুরু I মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের ব্যবস্থাপনায় কানা পালোয়ানের প্রশিক্ষণে ছিল এই শিক্ষা এবং চর্চা I কিন্তু সেই যেখানে তিনি কুস্তি শিখতেন সেখানে তার কোনো পদচিহ্ন রইল না I এতদিন সেখানে কিছুই ছিল না I তবে মনে সান্তনা ছিল যে , এই ঐতিহাসিক পবিত্র স্থানটি সমাজের মান্যগন্যদের দ্বারা স্বীকৃত হবে, স্মারক তৈরী হবে রবীন্দ্রনাথ আর কুস্তির ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য I এই আন্তরিক ইচ্ছার কথা বারবার জানানো হয়েছে কয়েক দশক ধরেI কালে কালে আসা উপাচার্যদের অনেকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে স্থানটিকে আলাদাভাবে রক্ষণ করবার জন্য I এমনকি শেষেমেষে সরকার ও তার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের বারবার বলা হয়েছে I তবু কোনো কাজ হল না I সত্যি কি কবিগুরু অবহেলিত হয়ে গেলেন আজ ! অথচ এই বিস্ববিদ্যালয়তেও এক সময় কুস্তিচর্চা হত রীতিমতো এবং আন্তর্বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতাতেও অংশগ্রহণ করেছে তারাI
তাও আশা ছিল, দুঃখ বহন করে নিয়ে যাওয়ায় ছিল একটা না বলা যন্ত্রনা I কিন্তু আজ কি দেখা যায় ! সরকার আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের হাত ধরে সেই পবিত্র কুস্তিস্থলে হচ্ছে অন্য কোনো নির্মাণকার্য I প্রশ্ন করতে পারি কেন হবে ! কেন এতটুকু মাটি দেওয়া হবে না গুরুদেবের জন্য ! কেন এতটুকু মাটি দেওয়া হবে না বাংলার সংস্কৃতি আর কুস্তির ইতিহাসের জন্য !
চোখের সামনে দিয়ে ধীরে ধীরে মুছে যাবে কবিগুরুর কুস্তির এই অদেখা দিক ! আর কি ভাবে মেনে নেবো এই যন্ত্রনা ! কোথায় সরকার ! কোথায় কর্তৃপক্ষ ! ঠাকুরবাড়ির সবকিছু অধিগ্রহণ করলেও কি ইতিহাস অধিগ্রহণ করা যায় ! স্মৃতিকে অধিগ্রহণ করা যায় ! কে দেবে এই উত্তর ! একটি যুগকে যিনি নির্মাণ করে গেলেন বাংলার সংস্কৃতি দিয়ে, তার বুকের উপর এ কোন কংক্রিটের নির্মাণ ! এ মেনে নেয়া যায় না , ইতিহাস ক্ষমা করবে না I ওই নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ হোক . শুরু হোক কুস্তির স্মারক নির্মাণ . আজ তার জন্মদিনে নেওয়া হোক এই শপথ I কুস্তিও যে সংস্কৃতির অঙ্গ, এটাও তো বোঝা দরকারI যে গুরুদেবকে নিয়ে জনসংযোগ চলে, যে কুস্তি নিয়ে জনসংযোগ ক্রমশ সরকারকে সাফল্যের দিকে নিয়ে আসে, তার প্রতি মনে হয় সরকারের ও একটা দায়িত্ব আছে I
আজ রবীন্দ্রনাথের পুন্য জন্মদিনে আমাদের চাওয়া আর দাবি এটুকুই I

22/03/2022