02/10/2026
গান্ধী উত্থানে বাঙ্গালীর সর্বনাশ -
গান্ধীজি ও তার ইজম/গান্ধীবাদের উত্থানের ফলে সর্বনাশ রচিত হয়েছিল বাঙ্গালীর - সেই সর্বনাশের শেষ হল দেশভাগে যার domino effect চলছে এখনও সম্পূর্ণ গতিতে ।....প্রশ্ন কোন বাঙ্গালী ? সেই বাঙ্গালী যে প্রচণ্ড শক্তিতে ১৯০৫র বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এক ব্রিটিশ-রাজ্ বিরোধী অভ্যুত্থান সৃষ্টিতে সক্ষম হয় , ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের ' অনুশীলন ' তত্ত্বে ও স্বামী বিবেকানন্দের ক্ষাত্রবীর্যের আহ্বানে তার জাতিসত্তার সমূহ পরিবর্তন ঘটে...শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিশেষতঃ যা ব্রিটিশ রাজের কাছে এক ভয়াবহ Challenge রূপে স্বীকৃত হয়, যার সবিশেষ বর্ণনা প্রথম মহাযুদ্ধের শেষে British Government র বিভিন্ন অতি গুরুত্বপূর্ণ document এ রয়েছে ।...এই ক্রান্তিলগ্নেই উত্থান গান্ধীজির ও তাঁর ধর্ম-বিবর্জিত, হাঁসজারু অহিংসা তত্ত্বের, যার সাথে তুলনীয় একমাত্র আজকের হালাল-সার্টিফিকেট অধিকারী হিন্দু বণিক ও crypto-Christianরা। ....অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর ও মুক্তিসঙ্ঘের (পরবর্তীতে বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স) শ্রেষ্ঠ বিপ্লবী নেতৃত্বের প্রশ্নের উত্তর ছিল না এই তথাকথিত মহামানবের মধ্যে কারণ বঙ্গজ সশস্ত্র বিপ্লবীদের শাস্ত্রপাঠে নিষ্ঠা ছিল, ব্যবসায়িক যোজনা নয় ।......সামরিক বাঙ্গালীর ধ্বংসের জন্যই আকস্মিক ধূমকেতুর ন্যায় (ব্রিটিশ আনুকূল্য ও আশীর্বাদে পরিপূর্ণ ) জাতীয় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গান্ধীর আবির্ভাব ও অকল্পনীয় গতিতে উত্থান ।
মহাবিপ্লবী, মহাবরেণ্য, শস্ত্রাচার্য শ্রী পুলিনবিহারী দাসের মতানুযায়ী - " ঋষি বঙ্কিমের সাহিত্যে ' অনুশীলন তত্ত্ব ' এবং পরবর্তী সময়ে বিবেকানন্দের বাণী আমাদের মূল জাতিগত প্রভাব হওয়াতে বাঙ্গালীর অন্তর্নিহিত বীরত্ব নিয়ে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়, তৎসত্ত্বেও, স্ত্রীস্বভাব, কবিতাপ্রিয়, আশুপ্রভাবিত, ব্যক্তি পুরোহিত হিসেবে সুপরিচিত বাঙ্গালী চিত্তকে বলবান না হওয়ার পেছনে মস্তবড় অনুঘটকের কাজ করেছে, "অহিংসা পরম ধর্ম" ও গান্ধীজির "এক গাল অপর গাল' দর্শন যাতে মূলত শরীরচর্চ্চা-অস্ত্রচর্চ্চার জনপ্রিয়তা হারায় । ফলস্বরূপ বাল্যকালে, আবশ্যিক কৌমার্যব্রত পালনের অভাবে আমাদের যুবমানসে চারিত্রিক কাপুরুষতা যেমন কু-অভ্যাস, স্ত্রীজাতিকে অশ্রদ্ধাপূর্বক দেখা, চাটুকারিতা, অর্থলালসা ইত্যাদি প্রকাশ পায়। পরিণতি হিসেবে আজকের দিনে দেহসৌষ্ঠব প্রদর্শন, সামরিক কলাশিক্ষা, জিমন্যাসিয়াম ইত্যাদিতে শরীরশিক্ষার দর্শন তো নেইই, এক ভীষণ ভাবে প্রসাধনী ব্যাপার-স্যাপার । ...কিন্তু গান্ধিবাদ জনপ্রিয় হওয়ার কারণ ?
শস্ত্রাচার্যের মতানুসারে, " এই সময়ে প্রথম মহাযুদ্ধ ও বিভিন্ন বিপ্লবী কর্মসূচি হইতে উদ্ভুত, তথা গভর্নমেন্ট হইতেও প্রাপ্ত বিবিধ লাঞ্ছনা, যন্ত্রণা, কারাভোগাদিতে নিমজ্জিত অবসাদ-জর্জরিত, নৈরাশ্য-প্রপীড়িত জনসাধারণও গান্ধীর এই "অহিংস-অসহযোগ-আন্দোলন"র মধ্যে যেন নুতন আশা ও পূর্ণ শান্তি এবং অসীম আরামের সন্ধান পাইল, - আরাম-প্রিয় ভারতবাসীগণের, বিশেষতঃ বাঙ্গালীগণের প্রকৃতিই বিরূপ; - তাই কোনও আরাম-প্রদায়ী নূতনের সন্ধান পাইলে, - তাহা প্রকৃত কিংবা অপ্রকৃত - ,বিচারহীন মত্ততায় মোহান্ধ হইয়া পুরাতনকে ভুলিতে কিংবা পদদলিত করিয়া আনন্দ উপভোগ করিতে তিলমাত্রও দ্বিধা বোধ করে না; - আরও আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে, আপন কর্মফলে ভুক্তভোগী হইয়া, এবং আপন ভ্রান্তি মর্মে উপলব্ধি করিয়াও সেই ভ্রান্তি দূর করিতে কিংবা স্বীকার করিতেও যেন ভরসা পাইয়া উঠে না। ".....মহাত্মাজী ভরসা দিয়াছিলেন, ' আমরা অহিংস থাকিলে গভর্নমেন্ট কঠোর আইন করিয়াও জনসাধারণকে বিপন্ন করিবার সুযোগই পাইবে না । - আমরা আইন ভঙ্গ করিব, পুলিশ আমাদিগকে মারিলেও বাধা দিব না, কিংবা প্রতিবাদও কৰিব না; নীরবে সহ্য করিব; - সে অবস্থায় জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধিতেই পারিবে না ।"........................