24/06/2026
রামকৃষ্ণ মহাশ্মশান।।
কলকাতার বরাহনগরের কাছে এই শ্মশানঘাটটি যশোরের নড়াইলের জমিদার রামরতন রায় (বা রামরতন দত্তরায়) তৈরি করেছিলেন। এটি সাধারণ্যে 'রতন বাবুর ঘাট' বা 'রতন বাবুর শ্মশান' হিসেবেও সুপরিচিত। ১৮৮৬ সালের ১৬ আগস্ট শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের দেহত্যাগের পর, তাঁর পবিত্র মরদেহ এই শ্মশানেই দাহ করা হয়েছিল। শ্রীরামকৃষ্ণের শেষকৃত্যের স্থান হওয়ায় এবং তাঁর পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত থাকায় পরবর্তীকালে এই স্থানটির নামকরণ করা হয় রামকৃষ্ণ মহাশ্মশান। বর্তমানে এখানে তাঁর একটি স্মৃতিমন্দিরও রয়েছে।
রায় পরিবারের সপ্তম প্রজন্মের প্রণব রায়ের ভাষ্যমতে, “রতন বাবুর তৈরি মূল শ্মশানটি স্নানঘাট থেকে ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি রতন বাবু শ্মশানঘাট নামে পরিচিত। তবে, শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের দাহকার্যের পর, প্রণবের পিতামহ বনোবিহারী রায় এর নাম পরিবর্তন করে রামকৃষ্ণ মহাশ্মশান রাখেন। মজার ব্যাপার হলো, শ্মশানঘাটের একটি আলাদা ঘরে শ্রী রামকৃষ্ণের সমাধি ও তাঁর ভস্ম রয়েছে। সেই থেকে, মহান গুরুর প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ আমরা আমাদের পরিবারের জন্য শ্মশানঘাটটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছি।
রামরতন দত্তরায়, আসল নাম দত্ত, (১৭৮৫-১৮৬০) ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলার নড়াইলের জমিদার। কথিত আছে যে, তিনি ব্রিটিশদের আরোপিত নীল করের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। ব্রিটিশরা নীলের উপর থেকে কর তুলে দিয়ে রামরতন দত্তকে 'রায়' উপাধি প্রদান করে সম্মানিত করে। এরপর থেকে তাঁর পরিবার 'রায়' উপাধিটি তাদের পদবি হিসেবে ব্যবহার করে হতো।