05/03/2026
শিশুর হাল হকিকতের খোঁজে 'শিশুর দেশ'
আজকের টেক দুনিয়ায় শিশুর আছে সবই,হারিয়ে গেছে শৈশব। অবকাশ যাপনে আদিগন্ত খেলার মাঠের বদলে আছে মুঠোফোন। প্রাকৃতিক হাওয়ার বদলে বাতানুকুল যন্ত্র। ঘরোয়া খাবারের বদলে ফাস্ট ফুড। খেলনাবাটি,পুতুল,গাড়ির জায়গায় এসে গেছে ডিজিটাল গেম এর বিপুল সম্ভার। চু কিত কিত কিত কিত,কুমীর তোমার জলকে নেমেছি প্রায় ক্লিশে। চাইল্ড ওবেসিটি এক গুরুতর সমস্যা। কারণ শিশুদের দৈহিক কসরত কমে যাওয়া। কম্পিউটার বিশারদ হতে গিয়ে চশমাওয়ালা শিশুর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। শিশুদের মন ও শরীর যেন বার্ধক্যে আক্রান্ত। শৈশবই নিশ্চিন্ততার সময় এ কথাও মিথ্যে প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে প্রায়শই। কারণ একটি শিশুকে বলতে শুনলাম 'আমার স্ট্রেস হচ্ছে।' শিশুর দেশ তার ভিন্ন ধারার শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নিরলস কাজ করে চলেছে। এই স্কুলের উদ্দেশ্য হল শিশুকে খেলার ছলে শিক্ষা দেওয়া যাতে সে হোমওয়ার্কের চাপে স্ট্রেসের কবলে না পড়ে। কম্পিউটারবিহীন অথচ স্মার্ট শিক্ষার দরজা শিশুর সামনে খুলে দিয়েছে এই স্কুল যা তার চোখের দীপ্তিকে অক্ষুন্ন রাখবে। সবুজের সাহচর্যে প্রকৃতির কোলে পলাশ কুড়োতে কুড়োতে শিশুরা এখানে পড়াশোনা করে। শিশুকে উপহার দিয়েছে উঠোন যা আজ প্রায় দুর্লভ। এখানে দ্বাররক্ষক বলে আলাদা কেউ নেই। শিক্ষক,আয়া সকলেই প্রহরী। শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এখানে গান,নাচ,আবৃত্তি,অভিনয় শিখে নেয়। সত্যজিত রায় ফিল্ম ইন্সটিটিউটেও এখানকার শিশুরা প্রশিক্ষণ ছাড়াই অভিনয় করে অনেকের নজর কেড়েছে। 'শিশুর দেশ' এর শিশুদের অন্য কোথাও প্রশিক্ষণ না নিলেও চলে। শান্তিনিকেতনের মত প্রাকৃতিক পরিবেশে তারা অ,আ,ক,খ, a,b,c,d র পাশাপাশি জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা মানুষ হওয়ার পাঠ নেয়। আপনার শিশুকে কেতাদুরস্ত না করে সত্যিকারের মানুষ করে তুলতে,বাঙালিয়ানা বজায় রেখেই বিশ্বনাগরিক করে গড়ে তুলতে অবশ্যই 'শিশুর দেশ' এ ভর্তি করুন। হতাশ হবেন না নিশ্চিত। ভিত পোক্ত হলে আপনার শিশুই তার ভবিষ্যত গড়ে নেবে আর আপনাকে উপহার দেবে এক বুক নিশ্চিন্ততা। চাইল্ডহুড ট্রমা যেমন শিশুর জীবনে অভিশাপ তেমনি 'শিশুর দেশ' এ প্রথম পাঠ আশীর্বাদস্বরূপ।
03/02/2026
'শিশুর দেশ ' এ দুই ভাই বোন হাঁটি হাঁটি পা পা করে আসতো নেতাজীনগর থেকে। বিক্রমজিত ও মানিনী। ধীরে ধীরে বড় হল তারা। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে ওদের বাবা সেরিব্রাল আটাকে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন। শুরু হল ভাই,বোনের লড়াই। মানিনী শিক্ষকতার কাজে যোগ দিল। ভাই বিক্রমও তার পেশা বেছে নিল। ২০১৯ এ দুরারোগ্য কর্কট কেড়ে নিল তাদের একমাত্র অবলম্বন মাকে। মানিনী তার বাড়িতে ' অধ্যয়ন' নামে কোচিং সেন্টার খুলে নিয়মিত পড়ানোর কাজে নিযুক্ত হল। ওর গানের কন্ঠও ছিল খুব মিষ্টি। সহজ,সরল,হাস্যোচ্ছল ব্যক্তিত্ব। ১.২.২৬ তারিখে আচমকাই ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মানিনী চলে গেল না ফেরার দেশে। ৯ই জানুয়ারি তার ৪২ বছর পূর্ণ হয়েছিলো। আমাদের স্কুলের প্রিয় ছাত্রী,কাছের মানুষ মানিনীর অকাল প্রয়াণে আমরা শোকস্তব্ধ। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানাতেই আজ ' শিশুর দেশ' বন্ধ রাখা হয়েছিল।
15/08/2025
শুভ সকাল। আমাদের ক্ষুদে ভারতমাতা।
24/05/2025
'শিশুর দেশ' এ কোন শিশুর গায়ে হাত তোলা নিষেধ। ধমকের বহরও ততটাই যা শিশুর আত্মসম্মানবোধে আঘাত করবে না। কারণ এই স্কুল ম্যাডাম মন্টেসরির ' শিশুকে শ্রদ্ধা করুন' - এই আদর্শে বিশ্বাসী। প্রতিটি শিশুর ব্যক্তিত্ব স্বতন্ত্র। কারো সঙ্গে কারোর তুলনাও ঠিক নয়। তাই জুঁই,বেলি,গোলাপ, চম্পা যাতে নিজের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে বিকশিত হয়ে উঠতে পারে সেই শিক্ষাই এখানে দেওয়া হয়। সম্প্রতি যে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রটি দোকানদারের অত্যাচারে অপমানিত হয়ে ' মা আমি বলে যাচ্ছি কুড়কুড়া আমি চুরি করি নি,কুড়িয়ে পেয়েছিলাম ' বলে আত্মহত্যার মত কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় তার জন্য আমরা গভীরভাবে দু:খিত এবং দোকানদারের মানবিকতার অভাব দেখে যারপরনাই উদবিগ্ন বোধ করছি। সমাজে সুস্থ মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিশুর দেশ আজও অটল। এই ধরণের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।'
28/04/2025
শোক সংবাদ
'শিশুর দেশ' এর প্রাক্তন ছাত্র,বিশিষ্ট আইনবিদ জয়ব্রত আইচ এর অকাল প্রয়াণে আমরা শোকস্তব্ধ। তাঁর পিতা সত্যব্রত আইচ, প্রাক্তন বিচারপতি। বয়স সম্ভবত: ৮৫। জয় রেখে গেলেন বাবা,মা,বোন, স্ত্রী ও একমাত্র পুত্রকে। পরিবারের প্রতি রইল আমাদের গভীর সমবেদনা।
15/03/2025
প্রকৃতির কোলে শিক্ষা
শিশুর দেশ এ এ.সি ক্লাসরুম নেই। কেন? কারণ রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই এখানে প্রকৃতির কোলে শিক্ষা দেওয়া হয়। বড়মা অরুন্ধতী চক্রবর্তীর কথায় প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংযোগ কমে যাচ্ছে বলেই অপ্রকৃতিস্থের সংখ্যা বাড়ছে। শিশুর দেশ এ রয়েছে উন্মুক্ত প্রাঙ্গন এবং স্লাইড যা এই ডিজিটাল শিক্ষার যুগে দুর্লভ। এ ছাড়া প্রকৃতিবিদরা বলছেন এ.সি র বিপুল ব্যবহার ঘর ঠান্ডা করলেও বাইরে গরম বাড়াচ্ছে। সুতরাং ' এ.সি ক্লাসরুম' আদতে আপনার শিশুর শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। ক্লাস থেকে তাকে রোদ্দুরে বেরোতেই হবে। ঠান্ডা,গরমে শরীর খারাপ হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে তা বাড়ায় এই কৃত্রিম ঠান্ডা মেশিন। ব্যথা,বেদনা বাড়ে,সর্দি কাশি বাড়ে। আপনার শিশুর অসুবিধার জন্য স্কুল কর্ত্রিপক্ষ নিশ্চয় এ.সি বন্ধ করতে রাজি হবেন না। অতএব এ.সি র মোহে আচ্ছন্ন না হয়ে প্রকৃতিপ্রেমে পাগলপারা হয়ে আপনার শিশুকে ২ বছর পূর্ণ হলেই নিয়ে আসুন শিশুর দেশে। পলাশের মায়ায়,আম, কাঁঠালের ছায়ায় বড় হয়ে উঠুক সে।
05/03/2025
শিশুর দেশ এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষর লেখা বসন্তের ছড়াটিকে অলংকরণ করেছেন শিশুর দেশ এর বর্তমান দিদিমণিরা।
04/03/2025
শিশুর দেশে বসন্তের প্রাচুর্যে টিয়া পাখির আগমন। আপনার শিশুকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় করতে ভর্তি করুন 'শিশুর দেশ' এ। ২ বছর থেকে ভর্তি নেওয়া হয়।
ফটো সৌজন্য: আলোকচিত্রী Rohit Das
17/02/2025
আনন্দমেলার দ্বিতীয় দিনে শিশুর দেশ প্রাঙ্গনে দেবশিশুর আবির্ভাব। ❤️ ভুবনভোলানো হাসিতে মাতিয়েছে সে আমাদের। আনন্দ স্রোত বইয়ে দিয়েছে মেলায়।