03/06/2026
Honorable Prime Minister Tarique Rahman has extended his heartfelt congratulations to Foreign Minister Khalilur Rahman on his election as President of the 81st Session of the United Nations General Assembly.
The Prime Minister stated that this achievement reflects Bangladesh’s growing contribution and credibility on the global stage. He expressed confidence that Mr. Khalilur Rahman will proudly represent Bangladesh and play an important role in strengthening connectivity, dialogue, and cooperation in addressing shared global challenges. He also wished him every success in carrying out this important new responsibility.
27/05/2026
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী:
25/05/2026
বাংলাদেশের জনগণের পরম প্রিয়জন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁকে স্মরণ করছি অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। কামনা করি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত।
আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো। মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে দিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতন করার জন্য, স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার তখন দরকার হয়ে পড়েছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই প্রার্থিত ও বহু কাঙ্ক্ষিত প্রতিভা।
কাজী নজরুল ইসলামের পুরো জীবনটাই যেন ছিল এক যুদ্ধ ঘোষণা। একটা অনন্যসাধারণ বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে; তথা সকল অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে।
মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির জন্য তাঁর চেয়ে বেশি শিল্পসফল শব্দ আর কেউ রচনা করেননি। তিনিই আমাদের প্রথম কবি, সাংবাদিক, রাজনীতিক যিনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে উপমহাদেশের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র- নির্বিশেষে মানুষের প্রতি তাঁর যে দরদ ও দীপ্ত অঙ্গীকার তা তুলনাহীন।
মাতৃভূমিকে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও তিনি আমাদের অন্যতম প্রধান দিশারি। আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য আছে সকল কালের সকল মানুষের। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের প্রধান পাথেয়। তাঁর প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োজন কখনো ফুরানোর নয়।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁর কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ। বাংলা কাব্য-সংগীতে তাঁর আবির্ভাব ছিল ধূমকেতুর মতো বিস্ময়ময় ও অভূতপূর্ব। মাত্র দুই দশকের সাধনা দিয়ে তিনি জাতিকে করে গেছেন আত্মপ্রত্যয়মণ্ডিত। নির্মাণ করে দিয়ে গেছেন জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির পাটাতন। সত্যিকার অর্থেই তিনি জাতীয় রেনেসাঁর নিশানবরদার। আবার তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েও সারা পৃথিবীর নিঃস্ব, রিক্ত মজলুম মানুষের আত্মার আত্মীয়।
বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি বিশ্ব কবিসভারও গুরুত্বপূর্ণ নায়ক। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। জাতীয় কবির জন্মদিনে আমরা অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করে, আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে, সুখী-সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক মাতৃভূমির জন্য নিজেদের নিবেদিত করাই হোক আমাদের প্রত্যয়।
07/05/2026
বাংলা সাহিত্যের মহোত্তম কণ্ঠস্বর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর অমর অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর বিদেহী আত্মার জন্য কামনা করি অনন্ত শান্তি।
বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণই ছিল তাঁর অবিনাশী সৃজনশীলতার মূল অন্বেষা। কাব্য, সংগীত, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য, চিত্রকলার পরতে পরতে এই মানুষ, মানবতা, শান্তি, প্রেম ও প্রকৃতির জয়গান গেয়েছেন অনন্যসাধারণ শৈল্পিক কুশলতায়, যা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিন্তার জগতের অমূল্য সম্পদ।
তাঁর সারা জীবনের যুক্তিবোধ ও মঙ্গলভাবনা থেকেই তিনি আন্তর্জাতিকতার মর্মকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে অকুণ্ঠ থেকেছেন সবসময়।
আমাদের জাতীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে বিশ্বকবির অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের গান হয়ে উঠেছিল প্রেরণার বিশেষ উৎস। শাশ্বত বাংলার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা অর্থাৎ সকল অনুভব বিশ্বস্ততার সঙ্গে উঠে এসেছে রবীন্দ্রসাহিত্যে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-বেদনার কথক হিসেবে যে রবীন্দ্রনাথকে আমরা পেয়েছি তা তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশেরই সৃষ্টি।
রবীন্দ্রনাথের অনবদ্য সৃষ্টি 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি' আমাদের জাতীয় সংগীত হিসেবে আজ প্রতিষ্ঠিত।
রবীন্দ্রনাথ বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন ১৯১৩ সালে, গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থ রচনার জন্য নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে। তিনিই প্রথম এশীয় হিসেবে বিশ্বসাহিত্যের এই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি অর্জন করেন।
তিনি আমাদের সংস্কৃতির বহুত্ববাদ, অহিংস মতাদর্শ ও বাংলার মরমি-ভাববাদী চেতনার সমন্বয় সাধন করে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেন পরম মমতায়।
বর্তমান বিশ্বে চলমান যুদ্ধ-সংঘাত, বীরের রক্তস্রোত, মায়ের অশ্রুধারায় ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত পরিস্থিতি, উগ্রবাদের উত্থান, জাতিতে জাতিতে হানাহানি- এসবের কারণে রবীন্দ্রনাথ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন।
মানুষের প্রত্যক্ষ কল্যাণ কামনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে ভেবেছেন। শিশুসহ নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন শান্তিনিকেতন।
সেইসঙ্গে তিনি পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। মানবতাবাদী কবি রবীন্দ্রনাথ শিক্ষার ক্ষেত্রে চিরকাল বিশ্বের জানালাকে খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন।
রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক, এটাই আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।