22/09/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
(প্রচারে: Qari Ahmadullah Ishaati )
হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও এক ইহুদি র্যাবাইয়ের প্রশ্নোত্তর
একদিন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নিজেকে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে ইহুদি পোশাকে দেখতে পেলেন। প্রথমে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত হলেন। কিন্তু যখন বারবার একই দৃশ্য তাঁর সামনে উপস্থিত হতে লাগল, তখন তিনি সেই স্বপ্নদর্শনকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
তিনি ইহুদির পোশাক পরিধান করে তাদের উপাসনালয়ে গেলেন। সেখানে ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকজন ও তাদের আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রধান র্যাবাই বক্তব্য দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। কিন্তু দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর জিহ্বা যেন আটকে গেল; তিনি কোনো কথা বলতে পারলেন না।
অনেকক্ষণ তিনি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকায় উপস্থিত লোকজন বিরক্ত হয়ে অভিযোগ করতে শুরু করল। তখন র্যাবাই বললেন,
“এই সমাবেশে হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর একজন অনুসারী উপস্থিত আছেন। তিনি আমাদের পরীক্ষা করতে এসেছেন। এ কারণেই আমি কথা বলতে পারছি না।”
এ কথা শুনে উপস্থিত ইহুদিদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হলো। তারা র্যাবাইয়ের কাছে অনুমতি চাইল, যেন হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর ওই অনুসারীকে হত্যা করতে পারে।
র্যাবাই বললেন,
“প্রমাণ ছাড়া তাকে হত্যা করা যাবে না। বরং আমাদের উচিত তার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনকভাবে কথা বলা। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব।”
এরপর র্যাবাই বললেন,
“হে মুহাম্মদ ﷺ-এর অনুসারী! তোমার নবীর দোহাই দিয়ে তোমার স্থান থেকে দাঁড়াও। তুমি যদি ইসলাম সম্পর্কে আমাদের সংশয় দূর করতে পারো, তাহলে আমরা ইসলাম গ্রহণ করব। আর যদি তা না পারো, তাহলে আমরা তোমাকে হত্যা করব।”
হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি দাঁড়ালেন এবং তাদের প্রশ্ন করার অনুমতি দিলেন।
প্রশ্নোত্তর শুরু হলো
র্যাবাই: কোনটি এক, দুই নয়?
হযরত বায়েজিদ: আল্লাহ।
র্যাবাই: কোনটি দুই, তিন নয়?
হযরত বায়েজিদ: রাত ও দিন।
র্যাবাই: কোনটি তিন, চার নয়?
হযরত বায়েজিদ: আরশ, কুরসি ও আল্লাহর কলম।
র্যাবাই: কোনটি চার, পাঁচ নয়?
হযরত বায়েজিদ: তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর ও কুরআন।
র্যাবাই: কোনটি পাঁচ, ছয় নয়?
হযরত বায়েজিদ: পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ।
র্যাবাই: কোনটি ছয়, সাত নয়?
হযরত বায়েজিদ: যে ছয় দিনে পৃথিবী, আকাশ এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে।
কুরআনে এসেছে: “আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি।” — সূরা ক্বাফ, ৫০:৩৮
র্যাবাই: কোনটি সাত, আট নয়?
হযরত বায়েজিদ: সাত আসমান।
কুরআনে এসেছে: “যিনি স্তরে স্তরে সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন।” — সূরা আল-মুলক, ৬৭:৩
র্যাবাই: কোনটি আট, নয় নয়?
হযরত বায়েজিদ: আল্লাহর আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ।
কুরআনে এসেছে: “সেদিন তাদের ওপর আটজন তাদের প্রতিপালকের আরশ বহন করবে।” — সূরা আল-হাক্কাহ, ৬৯:১৭
র্যাবাই: কোনটি নয়, দশ নয়?
হযরত বায়েজিদ: হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের জাতির সেই নয়জন ব্যক্তি, যারা দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করত।
কুরআনে এসেছে: “আর সেই নগরীতে ছিল নয়জন ব্যক্তি, যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করত এবং সংশোধন করত না।” — সূরা আন-নামল, ২৭:৪৮
র্যাবাই: কোনটি দশ, এগারো নয়?
হযরত বায়েজিদ: যে ব্যক্তি হজের সঙ্গে উমরাহ সম্পন্ন করে এবং কোরবানির পশু দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না, তাকে মোট দশটি রোজা রাখতে হয়—তিনটি হজের সময় এবং সাতটি বাড়ি ফেরার পর।
কুরআনে এসেছে: “তোমরা হজের সময় তিন দিন এবং বাড়ি ফিরে সাত দিন রোজা রাখবে।” — সূরা আল-বাকারা, ২:১৯৬
এগারো, বারো ও তেরো
র্যাবাই: এগারো, বারো ও তেরো—আল্লাহ কোন কোন বিষয় উল্লেখ করেছেন?
হযরত বায়েজিদ:
ক. এগারো: হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের এগারোজন ভাই ছিলেন।
খ. বারো: এক বছরে বারো মাস।
কুরআনে এসেছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি।” — সূরা আত-তাওবা, ৯:৩৬
গ. তেরো: হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্নে এগারোটি নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রকে তাঁর জন্য সিজদারত অবস্থায় দেখেছিলেন—মোট তেরোটি।
কুরআনে এসেছে: “আমি স্বপ্নে এগারোটি নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রকে দেখেছি; তাদেরকে আমার জন্য সিজদারত দেখেছি।” — সূরা ইউসুফ, ১২:৪
যে জাতি মিথ্যা বলেছিল এবং যে জাতি সত্য বলেছিল
র্যাবাই: কোন জাতি মিথ্যা বলেছিল কিন্তু জান্নাতে প্রবেশ করল, আর কোন জাতি সত্য বলেছিল কিন্তু জাহান্নামে গেল?
হযরত বায়েজিদ:
ক. হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ভাইয়েরা মিথ্যা বলেছিল—তারা বলেছিল, “আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করতে গিয়েছিলাম এবং ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের কাছে রেখে গিয়েছিলাম; তখন তাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে।” — সূরা ইউসুফ, ১২:১৭
খ. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পারস্পরিক বিরোধের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই অন্য পক্ষকে পথভ্রষ্ট বলেছিল। কুরআনে তাদের এই বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। — সূরা আল-বাকারা, ২:১১৩
সূরা আয-যারিয়াতের শপথগুলোর অর্থ
র্যাবাই: সূরা আয-যারিয়াতের প্রথম চার আয়াতে যে বিষয়গুলোর শপথ করা হয়েছে, সেগুলোর অর্থ কী?
হযরত বায়েজিদ: ছড়িয়ে দেওয়া বস্তুর অর্থ বাতাস; ভার বহনকারীর অর্থ পানিভর্তি মেঘ; সহজে চলমান বস্তুর অর্থ নৌযান; আর আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী বণ্টনকারীদের অর্থ ফেরেশতাগণ, যারা রিজিক বণ্টনের কাজে নিয়োজিত।
প্রাণহীন অথচ ‘শ্বাস নেয়’
র্যাবাই: কোন জিনিসের কোনো প্রাণ নেই, শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে যার কোনো সম্পর্ক নেই, অথচ সে শ্বাস নেয়?
হযরত বায়েজিদ: ভোর। তার কোনো প্রাণ নেই, তবুও কুরআনে বলা হয়েছে—“শপথ ভোরের, যখন তা শ্বাস নেয়।” — সূরা আত-তাকভীর, ৮১:১৮
আল্লাহ যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন
র্যাবাই: কোন চৌদ্দটি বিষয়ের সঙ্গে আল্লাহ সম্মানের সঙ্গে কথা বলেছেন?
হযরত বায়েজিদ: সাত পৃথিবী ও সাত আসমান।
কুরআনে এসেছে: “অতঃপর তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে বললেন, ‘তোমরা উভয়ে আসো—ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়।’ তারা বলল, ‘আমরা স্বেচ্ছায় এলাম।’” — সূরা ফুসসিলাত, ৪১:১১
যে কবর তার অধিবাসীকে নিয়ে চলেছিল
র্যাবাই: কোন কবর তার ভেতরের মানুষকে নিয়ে চলেছিল?
হযরত বায়েজিদ: হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের কবরসদৃশ অবস্থান—অর্থাৎ যে মাছ তাঁকে গিলে ফেলেছিল।
কুরআনে এসেছে: “অতঃপর মাছ তাকে গিলে ফেলল।” — সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১৪২
যে পানি আকাশ থেকেও আসেনি, মাটি থেকেও নয়
র্যাবাই: কোন পানি পৃথিবী থেকে বের হয়নি এবং আকাশ থেকেও নেমে আসেনি?
হযরত বায়েজিদ: হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বিলকিস, সাবার রাণীর কাছে যে পানি পাঠিয়েছিলেন—এটি একটি বর্ণনা অনুযায়ী ঘোড়ার ঘাম ছিল।
যে চারটি জিনিসের বাবা-মা ছিল না
র্যাবাই: কোন চারটি জিনিসের কোনো পিতা ছিল না এবং কোনো মায়ের গর্ভ থেকেও জন্ম নেয়নি?
হযরত বায়েজিদ: হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের কোরবানির জন্য প্রেরিত দুম্বা, হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের উষ্ট্রী, হযরত আদম আলাইহিস সালাম এবং আমাদের মাতা হাওয়া আলাইহাস সালাম।
পৃথিবীতে প্রথম কার রক্ত প্রবাহিত হয়েছিল?
র্যাবাই: পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কার রক্ত প্রবাহিত হয়েছিল?
হযরত বায়েজিদ: হাবিলের—যাকে তাঁর ভাই কাবিল হত্যা করেছিল।
আল্লাহ যাকে সৃষ্টি করে আবার কিনেছেন
র্যাবাই: কোন জিনিস আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং পরে কিনেছেন?
হযরত বায়েজিদ: মুমিনের প্রাণ।
কুরআনে এসেছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন।” — সূরা আত-তাওবা, ৯:১১
আল্লাহ যে কণ্ঠস্বরকে অপছন্দ করেছেন
র্যাবাই: কোন কণ্ঠস্বর আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং পরে যার নিন্দা করেছেন?
হযরত বায়েজিদ: গাধার কণ্ঠস্বর।
কুরআনে এসেছে: “নিশ্চয়ই সবচেয়ে অপ্রীতিকর আওয়াজ হলো গাধার আওয়াজ।” — সূরা লুকমান, ৩১:১৯
যে সৃষ্টি থেকে ভয়ের সৃষ্টি
র্যাবাই: কোন সৃষ্টি আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং যার প্রভাবের মাধ্যমে ভয়ের কথা উল্লেখ করেছেন?
হযরত বায়েজিদ: নারীদের কৌশল।
কুরআনে এসেছে: “নিশ্চয়ই তোমাদের কৌশল অত্যন্ত প্রবল।” — সূরা ইউসুফ, ১২:২৮
আল্লাহ যে সৃষ্টি সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন
র্যাবাই: কোন জিনিস আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং পরে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন?
হযরত বায়েজিদ: হযরত মূসা আলাইহিস সালামের লাঠি।
কুরআনে এসেছে: “হে মূসা! তোমার ডান হাতে কী রয়েছে?” তিনি বললেন, “এটি আমার লাঠি।” — সূরা ত্ব-হা, ২০:১৭
সর্বাধিক পুণ্যশীলা নারী ও বরকতময় নদী
র্যাবাই: নারীদের মধ্যে কারা সর্বাধিক পুণ্যশীলা? আর কোন নদীগুলো বরকতময়?
হযরত বায়েজিদ: পুণ্যশীলা নারীদের মধ্যে হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম, হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা, হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং হযরত ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা।
আর বরকতময় নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে—অক্সাস, সিমউন, দজলা, ফোরাত ও নীল নদ।
সর্বাধিক বরকতময় পাহাড় ও প্রাণী
র্যাবাই: কোন পাহাড় এবং কোন প্রাণী সর্বাধিক বরকতময়?
হযরত বায়েজিদ: মক্কার তূর পাহাড় এবং ঘোড়া।
শ্রেষ্ঠ মাস ও শ্রেষ্ঠ রাত
র্যাবাই: সব মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাস কোনটি এবং সব রাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাত কোনটি?
হযরত বায়েজিদ: রমজান মাস এবং শবে কদর।
কুরআনে এসেছে: “রমজান মাস—যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে।” — সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৫
আর এসেছে: “শবে কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” — সূরা আল-কদর, ৯৭:৩
বারো ডাল, ত্রিশ পাতা ও পাঁচ ফলের গাছ
র্যাবাই: এমন একটি গাছ রয়েছে যার বারোটি ডাল। প্রতিটি ডালে ত্রিশটি পাতা এবং প্রতিটি পাতায় পাঁচটি ফল। এর মধ্যে দুটি রোদে এবং তিনটি ছায়ায় থাকে। সেই গাছের অর্থ কী?
হযরত বায়েজিদ: গাছটি হলো এক বছর। বারোটি ডাল হলো বারো মাস। ত্রিশটি পাতা হলো মাসের ত্রিশ দিন। আর পাঁচটি ফল হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ—দুটি দিনের বেলায় এবং বাকি তিনটি ফজর, মাগরিব ও এশার সময় আদায় করা হয়।
প্রাণহীন যে জিনিস কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করেছিল
র্যাবাই: কোন প্রাণহীন বস্তু মক্কার কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করেছিল?
হযরত বায়েজিদ: হযরত নূহ আলাইহিস সালামের নৌকা। বন্যার সময় সেটি আরবভূমিতে এসে কাবা শরিফের চারপাশে প্রদক্ষিণ করেছিল বলে বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহ কতজন নবী পাঠিয়েছেন?
র্যাবাই: আল্লাহ কতজন নবীকে রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছেন?
হযরত বায়েজিদ: এর প্রকৃত সংখ্যা আল্লাহই ভালো জানেন। তবে কিছু বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ ১,২৬,০০০ নবী সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের মধ্যে ৩১৩ জন ছিলেন রাসুল।
একই মূল, কিন্তু ভিন্ন রং ও স্বাদ
র্যাবাই: কোন চারটি জিনিসের মূল এক, কিন্তু তাদের রং ও স্বাদ ভিন্ন?
হযরত বায়েজিদ: চোখ, কান, মুখ ও নাক। চোখের পানি টক, কানের তরল ও নাকের তরল অম্লধর্মী এবং মুখের লালা মিষ্টি।
বিভিন্ন প্রাণীর আওয়াজ ও জিকির
র্যাবাই: গাধার আওয়াজকে কী বলা হয়?
হযরত বায়েজিদ: কর আদায়কারীদের জন্য অভিশাপ।
র্যাবাই: কুকুরের আওয়াজকে কী বলা হয়?
হযরত বায়েজিদ: আল্লাহর ক্রোধে জাহান্নামবাসীদের জন্য ধ্বংসের ঘোষণা।
র্যাবাই: গরুর জিকির কী?
হযরত বায়েজিদ:
“সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আযীম।”
র্যাবাই: উটের জিকির কী?
হযরত বায়েজিদ:
“হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।”
র্যাবাই: ময়ূরের জিকির কী?
হযরত বায়েজিদ:
“হুয়াল ওয়াদুদ, যুল ‘আরশিল আযীম।”
র্যাবাই: বুলবুল বা নাইটিঙ্গেলের সুন্দর তাসবিহ কী?
হযরত বায়েজিদ:
“সুতরাং সকাল-সন্ধ্যায় পবিত্র আল্লাহর স্মরণ করো।”
যে সৃষ্টির প্রতি ওহি নাজিল হয়েছিল
র্যাবাই: আল্লাহ এমন কোন সৃষ্টির প্রতি ওহি/ইলহাম করেছিলেন, যে মানুষ, জিন বা ফেরেশতা নয়?
হযরত বায়েজিদ: মৌমাছি।
কুরআনে এসেছে: “তোমার প্রতিপালক মৌমাছির প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন...” — সূরা আন-নাহল, ১৬:৬৮
র্যাবাইয়ের নীরবতা
এরপর র্যাবাই আর কোনো প্রশ্ন করতে পারলেন না। তিনি নীরব হয়ে গেলেন।
তখন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন,
“এখন তোমরা আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দাও। জান্নাতের চাবি কী?”
র্যাবাই বললেন,
“আমি যদি এই প্রশ্নের উত্তর দিই, তাহলে এই সমাবেশের লোকেরা আমাকে হত্যা করবে।”
তখন উপস্থিত সবাই একসঙ্গে বলে উঠল,
“আমরা তোমার কোনো ক্ষতি করব না। এখন সত্য উত্তরটি বলো!”
র্যাবাই তখন বললেন,
“শোনো! জান্নাতের চাবি হলো—
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللهِ
‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর রাসুল।’
এই কথা শোনার পর উপস্থিত সবাই ইসলাম গ্রহণ করল। আর হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে করতে সেখান থেকে ফিরে এলেন।
#বাইজিদ #বোস্তামী #রহিমাআল্লাহ