29/06/2020
আপনারা আমন্ত্রীত
এসো ওহীর জ্ঞান আহরণ করি।
29/06/2020
আপনারা আমন্ত্রীত
মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার কারনে ততটা ব্যথিত নই।যতটা ব্যথিত হচ্ছি অপবাদকারীর পরকালীন শাস্তির কথা ভেবে!
"যখন তুমি দেখবে পাপাচার সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা কোন ব্যক্তিকে পার্থিব জীবনে তার প্রিয় বস্তুগুলোকে দিচ্ছেন,তখন বুঝবে তা হলো তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্যে একটি টোপমাত্র"
[ঈমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল ,কিতাব আয-যুহদ]
" জনপ্রিয়তা অস্থায়ী "
===========================
সম্মানিত ভ্রাতৃমন্ডলি,
শুরু করছি পরম করুণাময় মহান সৃষ্টি কর্তা আল্লাহর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তারই ইবাদত করার জন্য। অসংখ্য সালাত এবং সালাম সেই মানবতার মুক্তির দূত প্রিয় নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর উপর, আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাই আল্লাহুম্মা বারিক আলাই।
জনপ্রিয়তা,
========
জনপ্রিয়তা এমন একটি বিষয় যার পিছনে ছুটছে লক্ষ কোটি মানুষ, এই জনপ্রিয়তার পিছনে ছুটার কারনে আজ কোরআন ও সুন্নাহ সহীহ্ দলীল অচল হয়ে পড়েছে।
জনপ্রিয় যেকোনো বিষয়ের উপর ভুল ধরিয়ে দিলেও মানুষ তা বিশ্বাস করেনা, ক্ষনিকের কিছু সময় জনপ্রিয়তায় গা ভাসিয়ে দিয়ে সাময়িক আনন্দ উপভোগ করছে।
এতে খেলোয়াড় থেকে শুরু করে নায়ক নায়িকা, গায়ক গায়িকা, বা ওয়াজের ময়দানের বক্তা!! এদের সবাইকেই আমরা জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে গ্রহন করে নিচ্ছি। জনপ্রিয়তাটাকে এতটাই প্রাধান্য দিচ্ছি যে অন্ধ হয়ে যাচ্ছি, তখন দলীল চাইলেও দোষ, দলীল দিয়ে ভুল ধরিয়ে দিলেও দোষ।
সেই জনপ্রিয়তাটাকে বড় বড় স্কলাররা কত চমৎকার ভাবে বিশ্লেষণ করে আমাদেরকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে তারা বলেছেন.....
একটি বিল্ডিংয়ের রংয়ের সাথে তুলনা করেছেন, যেমনঃ জনপ্রিয়তা হচ্ছে রং, আর আক্বীদাহ হচ্ছে ফাউন্ডেশন আল্লাহ্ আকবার।
আপনি একটি বিল্ডিং তৈরী করলেন ফাউন্ডেশন শক্তিশালী করলেন না, উপর দিয়ে চমৎকার ভাবে বাহারী রঙ্গে সাজিয়েছেন, একবছর পর সেই রং আর থাকবে না, বিল্ডিং খসে পরে যাবে, বা রং পরিবর্তন হয়ে যাবে, হয়তোবা বিল্ডিং ভেঙ্গে বা হেলে পরেও যাবে। রঙ্গয়ের স্থায়িত্ব সাময়িক, ঠিক তেমনি জনপ্রিয়তা।
বিল্ডিংয়ের ফাউন্ডেশন মজবুত না হলে সেই বিল্ডিংয়ের স্থায়িত্ব যেমন ক্ষনিকের, ঠিক তেমনি বক্তার জনপ্রিয়তাও ক্ষনিকের..........
বক্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আক্বীদাহ মানহাজ তথা বিশুদ্ধ আক্বীদাহ।
ফেলে আশা দিনগুলিতে দেখেছি কত জনপ্রিয় ব্যাক্তিদের আজ কেউ খবরও নেয় না, বক্তার সুর চিরদিনের নয়, বক্তার যুক্তি যেকোনো সময় পরিবর্তন হয়েও যেতে পারে, হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী,তোফাজ্জেল ভৈরবী, এখন কই তারা!! ইউটিউবে পেলেও তরুণরা এখন শুনে না, আর শুনলেও হাজারটা ভুল ধরা পড়ে। অথচ একসময় ওনার প্রোগ্রামে জায়গা হত না। পাগল হয়ে ছুটে যেত লক্ষ জনতা বয়ান শুনার জন্য।
বক্তার আক্বীদাহ বিশুদ্ধ হলে, যুগ পরিবর্তন হলেও ওনার দলীল কেয়ামত পর্যন্ত কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না, ওনি মৃত্যুবরণ করলেও ওনাকে সবাই স্বরন রাখবে হৃদয়ে বার বার ওনার মাছআলা খুজেঁ শিখবে।
যেমনঃ স্যার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রাহিমাহুল্লাহ ওনাকে সবাই ভালবাসে ওনার কর্মে ওনার আক্বিদায়। ওনি বেচেঁ থাকবেন সবার হৃদয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রিয় হয়ে।
এমন একজন জগৎ বিখ্যাত আলেম আমাদের জন্য কি না করেছেন! ওনার মাছআলা দলমত নির্বিশেষে সবাই পছন্দ করে অথচ ওনার সুর ছিল না, কথায় কথায় ইংরেজি ছিল না, সঙ্গীত গাইতো না, ওনার প্রত্যাকটি বক্তব্য ছিল আল্লাহর একত্ব জুরে তাওহীদ নিয়ে।
দুঃখজনক হল আজ আমাদের শিরোনামই হল অমুক বক্তার মাহফিলে লাখ লাখ মানুষের ঢল, গাছের ডালায় ডালায় মানুষ, অথচ বক্তার কত ভুল!!
সরাসরি হাদিস ভুল, আল্লাহকে নিয়ে মিথ্যাচার কিন্তু জনপ্রিয়তায় সেই ভুলগুলো আড়ালে চলে যায়।
যে কারনে দেশে এত মাহফিল হয় অথচ ফেইসবুকে দেখেন গালাগালির হিরিক, সবাই কিন্তু জনপ্রিয় বক্তার ভক্ত।
আজকের জনপ্রিয়তা কালকে হয়ত থাকবে না, অথচ বিশুদ্ধ আক্বীদাহ কেয়ামত পর্যন্ত অটল থাকবে সত্যের মানদন্ড হয়ে।
তাই জনপ্রিয়তা অস্থায়ী,
বিশুদ্ধ আক্বিদা স্থায়ী।
======
এটি সবচেয়ে ভয়ংকর হাদিসগুলোর মধ্যে একটি। নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক!
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'আমার উম্মতের অনেকের কথা আমি জানি, যারা কিয়ামাতের দিন তিহামা অঞ্চলের সাদা পর্বতমালা পরিমাণ নেকি নিয়ে উপস্থিত হবে, কিন্তু
আল্লাহ্ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেবেন।
এই কথা শুনে সাওবান (রা.) বললেন, "হে রাসূলাল্লাহ! তাদের পরিচয় দিন, আমরা যেন নিজেদের অজান্তে তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাই।"
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তারা তোমাদেরই ভাই, তোমাদের সাথেই থাকে। তোমরা যেমন রাত জেগে ইবাদাত করো, তারাও করে।
কিন্তু যখন একাকী হয় তখন আল্লহর নিষিদ্ধকৃত হারামে লিপ্ত হয়।'
[ইবনে মাজাহ ৪২৪৫; হাদিসটি সহিহ]
আমরা যারা সুযোগ পেলেই দৃষ্টির খেয়ানত করি, লজ্জাস্থানের খেয়ানত করি, মানুষের অধিকার নষ্ট করি ও নির্জনে বিভিন্ন হারামে লিপ্ত হই - এই হাদিস আমাদের জন্য মহাসতর্কবার্তা। আল্লহ্ আমাদেরকে গোপন গোনাহ থেকে রক্ষা করুন।।
"হে বিশ্বাসীগন! অত্যধিক ধারণা করা ত্যাগ করো।নিশ্চয় কিছু কিছু ধারণা পাপ।পরস্পরের পেছনে গোয়েন্দাগিরি কোরো না।আর একে অপরের গীবত কোরো না।তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করবে?বরং তোমরা তা পচন্ড ঘৃণা করে থাকো।অাল্লাহকে ভয় করো।অাল্লাহ অতিশয় তাওবাহ কবুলকারী,পরম দয়ালু।"(সূরা আল-হুজুরাত ৪৯ঃ১২)
16/06/2020
আলিমগণ একে অপরের মত প্রত্যাখ্যান, এমনকি খণ্ডন করার ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীন। তবে তা করতে হবে যথাযথ পদ্ধতিতে।অভিযোগ ও অপমান না করে। সুন্দর আচরণ হলো সত্যিকারের সত্যানুসন্ধানীর বৈশিষ্ট্য। বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতাও এতে বেড়ে যায়।
মহান কাযি ইমাম আশ-শাফিঈ কিছু প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা বলে গেছেনঃ
১। আমি বিশ্বাস করি আমার মত সঠিক, তবে তা ভুল হবার সম্ভাবনাও স্বীকার করি।
২। আমি যার সাথেই বিতর্ক করেছি, এই আশায় করেছি যে তার মুখ থেকেই আল্লাহ সত্য কথাটি বের করাবেন।
৩। এক হাজার জ্ঞানীর সাথে বিতর্ক করে আমি জিতে যেতে পারি। কিন্তু একজন মূর্খের সাথে তর্ক করলে আমি নিশ্চিতই হেরে যাব।
৪। কিছু ব্যাপারে মতের মিল না হলেও কি আমরা পরস্পরের ভাই হয়ে থাকতে পারি না?
ইমাম আশ-শাফিঈকে আল্লাহ রহম করুন। মুসলিমদের পারস্পরিক আচার-আচরণ সুন্দর ও যথাযথ করে দিন।
15/06/2020
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে।
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-‘আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-বুখলি ওয়াল-জুবনি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন দ্বালা‘য়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজা-ল।বুখারী, ৭/১৫৮, নং ২৮৯৩।
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু