পুত্রদায়।
পূর্বালাপেই সব ঠিক করা ছিল, রবিবারেই রহিমা তার ছেলেটিকে মনির সাহেবের মেয়েকে দান করবে। সেভাবেই গ্রহিতার গৃহ লোকে লোকারণ্য । ছেলের শরীরের মাপে নতুন কাপড়-চোপড়, জুতা-মোজা, টুপি ও পাঞ্জাবি সবকিছুই কিনে প্রস্তুত। কিন্তু মায়ের মন তখনো পুত্রদানের জন্যে শতভাগ প্রস্তুত হতে বাকি। অবুজ শিশুকে কোলে নিয়ে রহিমা মনে মনে কতোকিছুই ভাবে। একদিন বড় হলে সেইতো সুখে দুঃখে মায়ের পাশে দাঁড়াবে। দিনে তিনবেলা না হলেও একবেলা ভাত দিবে। নিজহাতে মায়ের লাশ কবরে নামাবে এমন শত চিন্তা রহিমার মনে এসে বাসা বাঁধে।
এরই মাঝে, প্রতিশ্রুত রবিবারের কথা মনে ভেসে আসতেই, সেই ভরসার খড়কুটো একটা একটা করে মনের অজান্তেই বৈশাখী ঝড়ের মতো ঝরে পড়তে থাকে। নিধর রহিমা সেদিন কি জবাব দিবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। গরীবের মাথার ঘিলু অপুষ্টিতে সে পর্যন্ত বাড়েনি কখনো । সন্তানের স্নেহ মায়ায় যতটুকু বেড়েছে তাও যেনো আজ শূন্য হতে চলেছে। দারিদ্রতার শেষ প্রান্তে এসে অসহায় মা যেন অমানুষদের মাঝেই নিজেকে বারবার আবিস্কার করেন। মায়ের নির্ঘুম চোখ দুটো তখনো ছলছল। অশ্রুজল ছাড়া তার আছেই বা কী। একাই চলতে পারে না সাথে যোগ দিয়েছে তিনটি সন্তানের বোঝা । সংসার সমরে একাই সেই বোঝা বয়ে চলেছে। আর যে পারে না। অসহায়ত্বের শেষ সীমান্তে এসে রহিমা কোন সঠিক স্বীদ্ধান্ত নিতে পারে না ।
পুত্রদানের মাহেন্দ্রক্ষণ চোখ থেকে সরাতে পারেনি রহিমা, ঘুমিয়েও পুত্রহারা কল্পিত শিহরণে জেগে উঠে বারবার । চোখের পাতায় পাতাঝরা আর্তনাদের ঢেউ তুলে, সে ঢেউ দু'চোখ ছাপিয়ে বন্যা বইয়ে চলে ত্যানার বালিশে। গত তিনদিন ধরে মায়ের বুকের স্রোতসীনি নিঃশব্দে বয়েই চলেছে।
অসার দেহের হৃদস্পন্দন জীবনকে নানা প্রশ্নবাণে ব্যথিত করে। অসম পৃথিবীতে নিজের অস্তিত্ব ম্লান মুখে মূহ্যমান মা সহস্র যাতনা সহ্য করেই আজ এ পর্যন্ত এসেছে । জীবনের এই অসহনীয় ভার, সইতে যে পারে না আর।
স্বামী নামের যে দেবতা তাকে এ অকূল সায়রে ভাসিয়ে গেছে, ক্ষণে ক্ষণে তার কথাও ফল্গুধারার মতো চীড়ধরা বক্ষে বইয়ে চলে। স্বামীর নিরুদ্ধেষ যাত্রার রাতের কথাও মনে পড়ে । সুখের আশা নিয়েই একদিন দু'জনে ঘর বেঁধেছিল। আজ সে সুখের ঘরের খড়কুটো কালবৈশাখীর বাতাসে উড়ে, উড়ে ঝরে পড়ে। অভাগীদের সুখের ভাগীদার কেউ হতে চায় না, দুঃখেরও না। পৃথিবীর সকল মায়া বুকে জড়িয়েও সন্তানকে পরহস্তে সমর্পণ করতেও রহিমার মন সায় দেয় না। তবুও কথা রক্ষার খাতিরে সেদিন মনির সাহেবের বাড়িতে উপস্থিত হয়।
আজ তার সন্তানের আদরের কমতি নেই। নতুন কাপড় পরিয়ে বিভিন্নজন কোলে নিয়ে দেখছে। জীবনে আজই প্রথম সে একটু ভালো খাবার খেয়েছে। উচ্ছিষ্ট খাওয়ার প্রচলিত মুখে তার স্বাদ-গন্ধ অপরূপ কিন্তু সে স্বাদ তার কাছে নিম তিক্ততার বিষাদেই মিশে রইলো।
সবাই অনুষ্ঠান আয়োজনে ব্যস্ত, সেই দৃশ্য দেখে রহিমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে । কখনো ভাবে, মা হয়ে সন্তানের জন্যে জীবনে যা করতে পারেনি হয়তো তার চেয়ে সহস্রগুণ সুখে জীবন কাটাবে তারই গর্ভজাত । দুঃখ-সুখের দুকূলে, কোলের সন্তানের নতুন পোশাক ঝলক দিয়ে উঠে অনাথের চোখে । বুকভাঙ্গা ব্যথার বাঁধভাঙ্গা জোয়ার উথলে উঠে বারবার। সবাই রহিমার স্বহস্তে পুত্রদানের জন্যে অপেক্ষা করছে। সবার কোল ঘুরিয়ে ছেলেটিকে রহিমার কোলে দেয়া হলো । কোলের সন্তানের চোখে চোখ পড়তেই ছেলেটি মায়ের দিকে তাকিয়ে সুখের হাসি, হেসে উঠে। তখনি রহিমা, ছেলেটিকে নিয়ে একদৌড়ে সেই গৃহত্যাগ করে। এরপর থেকে আর কোনদিন রহিমাকে ঐ এলাকায় ভিক্ষার জন্যে আসতে দেখা যায়নি।
এনামুল হক।
২০-০৪-২০২২
Enamul Haque
I'm Enamul Haque writing many stories for my country which relates humanity, culture and a comparison between past and present social and political failure
গল্প ১৬৪। মরিচ থ্যারাপি
আমাদের জঙ্গলে বেশ কয়টি খাটাশ থাকতো । কাম কাজের মধ্যে অযথাই ক্ষেতের মধ্যে এখানে সেখানে গর্ত করতো । সন্ধ্যা হলেই তাদের চলা ফেরার শব্দ পাওয়া যেত । কখনও দিনের বেলায় ক্ষেতের আইলের নীচে গর্ত করতে দেখেছি । বিশেষ করে চাঁদনি রাতে তাদেরকে সহজেই দেখতে পেতাম । আমাদের ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে অথবা কখনও বাড়ীর পাশ দিয়ে দল বেঁধে লেফট রাইট করে দৌড়া দৌড়ি করতো মাননীয় খাটাশের দল ।
এক দিন দুপুরে এক জনের সাথে দেখা হলো । আমরা দিনে ভয় পাইনা, তাই দিলাম দৌড়ানি । খাটাস গিয়ে ঢুকলো, তাদের বানানো গর্তে । শুরু হলো গবেষণা, ঞ্জানী গুণী, বুদ্ধিজীবি বা শিক্ষিত মিলায়ে আমরাই চার বা পাঁচ জন ছেলে মেয়ে যাদের দিনের বেলায় বহুত সাহস কিন্তু রাতে খাটাশের শব্দ শোনে কাঁথার নীচে লুকায়ে থাকি । সেই বীর বলের দলেরও খাটাশ মেরে জীবনে বিজয় এসেছিলো । শুনুন সেই বিজয়ের লোম হর্ষক করুণ ইতিহাস, যে বিজয় আমরা স্বাধীনতার আগেই এনেছিলাম এ বঙ্গদেশে ।
সবাই মিলিত হলাম, এটি আমাদের রেগুলার বাহিনী । কেউ বলে খুন্তি, কুদাল নিয়ে এসো গর্ত খুঁড়ে জ্যান্ত বের করবো । কেউ বলছে গর্তের উপর দিয়ে কলসি ভরে পানি ঢাল । সেমতে দ্বিমত না করে সব দিকেই বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় খাল কাটা কর্মসূচীর মতো কাজ কর্ম পূরাদমে শুরু হয়ে গেলো । তখন হঠাৎ এক মহাপন্ডীতের মাথায় এলো এটম বোমা তৈরীর মতো এক নুতন প্রযুক্তি । সে বললো খড় কূঁটা আনো, আগুন আনো আর শুকনা মরিচ আনো পাঁচ ছয় খানা ।
এ হেকিমী আয়োজন যে কত শক্তিশালী ছিলো তাই সামান্য তুলে ধরছি । গর্তের যত দূর যায় শুকনো খড় দিয়ে ভর্তি করা হলো । শুকনো মরিচ গুলোও খড়ের মধ্যে রাখা হলো এবার শুরু হলো হরতালে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর মতো অগ্নি সংযোগ পর্ব । আমরাই পুলিশ, রেব, বিজিবি আমরাই পিকেটার । দা ও লাঠি সহ সবাই যার যার জায়গায় প্রস্তুত । শুধু অপেক্ষা প্রহর গনণা চলছে ।
খড়ে আগুন ধরেছে, দু একটি মরিচও পুড়ছে, মরিচের গন্ধে গর্তের বাইরে টিকে থাকা আমাদের জন্যেই কষ্টকর হয়ে গেছে । ইতিমধ্যেই গর্তের ভিতর থাকা খাটাশেরও অবস্থা খারাপ হতে শুরু করেছে । বাইরে থেকে আমরা তার বেরিয়ে আসার জন্যে নাড়াচাড়ার শব্দ পাচ্ছি আর লাঠি শক্ত করে ধরে সেই শুভ ক্ষনে সুস্বাগতম জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি । রাজ প্রাসাদের দাড়োয়ান যেমন সতর্ক দৃষ্টিতে চার পাশে চোখ ঘুরিয়ে সিসি ক্যামেরায় রাখে তেমনি । রাজা আসবেন, আমরাও সেই অভিপ্রায়ে অধীর আগ্রহে বরনের শসস্ত্র প্রহরী ।
এক চরম উত্তেজনাকর মূহুর্ত । ক্রিকেট খেলায় শেষ বলে ছক্কা মেরে খেলায় জেতার মতো শ্বাসরোদ্ধকর পরিস্থিতি । খাটাশ এবার আগুন, ধোঁয়া, লাঠি সব সহ্য করতে রাজি কিন্তু গর্তে থাকতে কিছুতেই রাজি নন । এ প্রাসাদ তাকে মরিচের স্বাদে বের হয়ে আসতে বাধ্য করছেই । হঠাৎ আগুন সহ খড় মাথায় নিয়েই তিনি সিংহাসন ত্যাগ করে প্রাণ রক্ষায় বেরিয়ে আসলেন । আমাদের সব অস্ত্র হৈ হুল্লুড়ে জায়গা মতো এবং সময় মতো মারতে ব্যর্থও হলো ।
আমাদের উৎসক নজরের মধ্যি দিয়েই খাটাশ দৌড়ে যাচ্ছে আর আমরা পিছু পিছু লাঠি হাতে দৌড়াচ্ছি । এ দৌড় যদি সে বোল্টের সাথে দিতো , তবে প্রাণী হয়েও মানুষের সাথে দৌড়ে বিশ্ব জয়ের পদকটি হয়তো তারই থাকতো । কিন্তু দৌড় তাকে আমাদের কাছ থেকে রক্ষা করতে পারেনি । শেষে জীবন দিয়েই সে শহীদের কলাপাতায় নাম লিখে গেছে । রেখে গেছে তার লম্বা ইতিহাস, যা বর্তমানে মরিচ থ্যারাপি নামে আয়োর্বেদীয় শাস্ত্রের ছেঁড়া পাতায় খোঁজলে এখনোও পাওয়া যাবে ।
আমার মনে হয় আমাদের শ্রদ্ধেয় ও শ্রদ্ধেয়া, মিথ্যা বাদী নেতা ও নেত্রী গুলোকে এক ঘরে ঢুকায়ে এ পোড়া মরিচের ধোঁয়া দিয়ে একটা শুদ্ধি অভিযান চালানো উচিত । আমার বিশ্বাস এ পদ্ধতিতে সত্য ও ন্যায় দেশে, সমাজে আবারোও প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ । বেশী জ্ঞান দিয়ে যখন পায়ের ধূলা দূর করা যায়নি তখন অবহেলিত মুঁচি চামড়া দিয়ে পা ঢেকে জুতা আবিস্কার করেছিলেন । আমার এই আয়োর্বেদীয় শুকনা মরিচ থ্যারাপিও আমাদের এ বিপদ থেকে উদ্ধারের একমাত্র কান্ডারী হতে পারে বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ।
এনামুল হক
সিংগাপুর
৪/২/২০১৫
বুধবার
19/09/2017
তোমার নেই রূপ গন্ধ
কেমনে বুঝ ভাল মন্দ
কাটে না মোর মনের দ্বন্ধ,
চোখ থাকতে রইলাম অন্ধ,
অন্ধকারে সাঁতার পেরে
কেমনে ভিড়বো ঐ কিনারে,
সে কথা যখন মনে পড়ে,
মন থাকে না মনের ঘরে,
অমান্যে তোমার বিধান,
খুলেছি বিধানের দোকান,
শূন্যহস্তে হবে তিরোধান,
শেষ আশার কি সমাধান,
মানব রূপে ভবে এসে,
রক্তমাংসে শয়তান মিশে,
কর্মে মারলো ধর্ম পিষে,
পশুর কাছে হারলাম শেষে,
লেখা: ৪/৯/২০১৭
সোমবার
ভোর ৪:২২ মিনিট
৩। আবক্ষ জল ।
বিনা তারে বাজিয়ে বীণা,
কেগো তুমি হৃদয়হীনা ।
সুর তুলে যাও যে পাষাণে,
আমি মুগ্ধ তোমার গানে ।
বীণার তানে বারে বারে,
ফিরে আসি বদ্ধ দ্বারে ।
কথাটি নেইকো বুঝি জানা?
ভুলেছো খাঁটি ষোল আনা ।
দুয়ার খুলে ভিতরে যাই,
কিছুই দেখতে নাহি পাই ।
কোন অজানায় যাও হারিয়ে,
অবাক আমি থাকি দাঁড়িয়ে !
রং বদলায় নীল অম্বরে,
মীন কাতরায় থরে থরে ।
কাছে গেলেই যাও যে দূরে,
দূরত্ব বাড়াও দু'কিনারে ।
আকাশ কালো মেঘে ভরা,
বৃষ্টি ধারায় অশ্রু ঝরায় ।
হৃদয়ে মোর চৈত্রের খরা,
জেগে থাকি তারায় তারায় ।
গগনে চাঁদ দেয় যে উঁকি,
নির্ঘুম চোঁখে চেয়ে থাকি ।
চাঁদের গায়ে ছবি আঁকি,
মেঘের আড়ালে ডাকাডাকি ।
নরম ভূমি শুকিয়ে কাঠ,
বিনা ফসলে চৌচির মাঠ ।
দুঃখের সাগর হবে কি তল?
কোথায় পা'বো আবক্ষ জল !
এনামুল হক
সিংগাপুর
১৭/১১/২০১৪
সোমবার ।
২। বোধ
ভূত চেপেছিলো বিবেকের চাপাচাপিতে,
মান সম্মানের নিখুঁত মাপামাপিতে,
আমার হয়েছিলো ভীষণ দেরী,
অন্তরালে ছিলো অপরূপা নারী ।
তখন সবেমাত্র কলেজে পড়ি,
থাকতাম বহুদূরে পরের বাড়ী,
মুখমন্ডলে হালকা গোঁফ দাড়ি,
সকাল বিকেল শুধু দৌড়াদৌড়ি ।
হাঁটু বিন্যস্ত কৃষ্ণবরণ কেশ,
সুঢৌল দৈহিক মূর্তির বেশ,
ছড়িয়ে যেতো চুম্বকীয় আবেশ,
পলকেই উন্মাদ হতো সারাদেশ ।
হুল ফুটায়ে যায় কালোকেশী,
জানি না তার কিছুই কমবেশী,
জীবনে তারে যতোবার দেখেছি,
নির্বাক, অপলক নয়নে চেয়েছি ।
সুদূর, অজান্তে এলো সন্নিকটে,
ভয়ার্ত হৃদয় তখন মহাসংকটে,
বাঘের সামনে শিকারের যে দশা,
আমারে কামড়ায় লক্ষ মশায় ।
ভয়ার্ত প্রাণে সদায় শংসয়,
সম্মানটুকু না করি যেনো ক্ষয়,
এজগতে কেউ কারো নয়,
জানতাম সময়ে তাই হয় ।
বাড়ী আসবো পরীক্ষা শেষে,
বিদায় ক্ষণ এলো অবশেষে,
বেরিয়ে এসেছি পথে বহুদূর,
পেছনে ফিরে দেখি সেই হুর ।
বিনি সুঁতায় বিনা তারে,
কে যেনো গো বেঁধেছে মোরে,
মনচায় সেরূপ দেখি বারেবার,
ঘাড় ফিরিয়ে আড়ে আড়ে ।
জৈষ্ঠ্য মাসের দিনের শেষে,
সূর্য্য তখন পশ্চিম আকাশে,
চারদিকে ফেরে আশে পাশে,
নয়ন খোঁজে দূরবীন বেশে ।
দাঁড়িয়ে ছিলো সে গলির পাশে,
উদাসীনি নির্বাক মূর্তির বেশে,
দূর আঁধারে গিয়েছিলো মিশে,
নদীর দু'কূল চীরদিন দু'পাশে ।
অন্তীম সূর্যের রক্তিম আভায়,
গৌর বদনে আলোক ছড়ায়,
সে আলোক হৃদে আজীবন জ্বলে,
যেখানেই থাকি জলে ও স্থলে ।
Thanks & best regards
💜Enamul Haque
💚Bangladesh
💖27/11/2014
💙Thursday .
৭০। খাজা বাবা ।
ফকিরি নেই ফকিরের ঘরে,
কাঁধের থলি গিয়েছে ছিঁড়ে ।
গঞ্জের মাজারে পীরালি ছেড়ে,
ভিক্ষা করে আধুনিক শহরে ।
জটাধারী ন্যাড়া মাথায় ঘুরে,
চলেছে নতুন ধান্ধাবাজি করে ।
এদের ভাত মেরেছে বড়চোরে,
চলছে মরা নেতার জিকিরে ।
আসল খাজা মাটির নীচে,
বাঁকীরা চলছে আগে পিছে,
ক্ষমতার দাপটে বাগিয়ে নিচ্ছে,
দু'হাতের কাছে যা'ই পাচ্ছে,
ফকির আছে হাজারে হাজার,
দেশটাই ফকির মাস্তানের মাজার ।
অলিগলি,দোকান রাস্তার ধারে,
ছড়িয়েছেন সমাজের সর্বস্তরে ।
রাতে পাবেন এসব খাজারে,
তাদের গোপন আড্ডাঘরে ।
সমাজের আকাম কুকাম বিস্তারে,
নারী মদ গাঁজা জুয়ার আসরে ।
বড় শক্ত এ খাজাদের ভীত,
কেঁচোর মতো বহুমুখী উদ্ভিদ,
রাজনীতিতে বুঝে বাতরীত,
টাকা কামানোর ধান্ধা চারদিক ।
দেশসেবক নেতাদের ভৃত্য,
দেশের ক্ষতি করছে নিত্য,
এরাই কুখ্যাত প্রখ্যাত বিখ্যাত,
অন্যায়ে যাদের মাথা নয় নত ।
এদের জ্বালাতন যাচ্ছে বেড়ে,
চারদিকে শাখা প্রশাখা ছেড়ে,
দেশের সুখ শান্তি নিচ্ছে কেড়ে,
বললেই মারতে আসবে তেড়ে ।
প্যান্ট শার্ট কোট টাই পরা চোর,
চাঁদাবাজ,ধর্ষক,সন্ত্রাসী,ঘুষখোর,
বাংলাদেশের তেভাগা ভাগীদার,
জনতার কপাল পুড়ে করছে ছারখার ।
এনামুল হক
১৮/০৯/২০১৫
সিংগাপুর
শুক্রবার
সুখের পূজারী ।
সৃষ্টি অনিন্দ্য অভিরাম তাই,
সকলেই সৌন্দর্যের ভিখারী,
দুঃখকষ্টে শোভিত জগতে,
সুখসঞ্চারি চলেন পূজারী ।
কবি গদ্যেপদ্যে লিখেন কবিতা,
কন্ঠে তুলেদেন নব প্রেমগীত,
কাব্যগানে শেষ হয়নি রচনা,
রিক্তজীবনের সিক্তসঙ্গীত ।
কালসর্পের মনোহর রূপে,
জ্ঞানবুদ্ধির বিলুপ্তি সাধন,
মৃত্যুকে অনিবার্য জেনেও,
ভয়ে কাঁপে না পূজারীর মন ।
বিষাদের ক্ষত বহিয়া প্রাণে,
যাতনার গহীন প্রেমোচ্ছাসে,
বিরহব্যথার অজ্ঞাত রোদন,
ধ্বণিত হয় স্তম্ভিত নিঃশ্বাসে ।
স্মৃতিতে সজীব সে প্রণয়,
বিহঙ্গীর মতো শ্মশানে পুড়ে,
বিশ্বাসের অমৃত পেয়ালায়,
গরল ঢেলে খুশিতে মারে ।
নিরাশায় নির্বাপিত প্রদীপে,
প্রণয়ের প্রতারণা কৌশল,
ভস্মীভূত করে চলে নিরবধি,
মহাবহ্নির দাউদাউ চিতানল ।
নৈশান্ধকার বিদীর্ণ বেদনার্ত,
জ্যোতির্ময় আজীবন জ্বলে,
অন্তরীক্ষে মরুতে মেরুতে,
ভূবন ব্যাপিয়া জলেস্থলে ।
যে সুখ, শরীর থেকে মনকে,
পৃথক করে সেতো সুখ নয়,
অন্তরে বিষের জ্বালা নিয়ে,
চলে সুখে থাকার অভিনয় ।
গভীর দুঃখে একটুখানি সুখ,
যেনো শ্মশানে ফুলের মালা,
বেলাশেষে অন্তসলীলে বয়ে চলে
আজীবন নিরন্তর তরল দহনজ্বালা,
এনামুল হক
২০/৭/২০১৬
বুধবার
জন্মসূত্র ।
সন্তান জন্মের আছে নিয়ম,
জানি না বেশী জানি কম ।
সুস্থ্য সন্তান পিতামাতার সাধ,
মাসিকের দিনথেকে ১৪ দিন দিবেন বাদ ।
প্রথম সাতদিন মাসিকের জন্যে ধার্য,
পরের সাতদিন ডিম্বাণুর জন্মকার্য ।
ডিম্বাণু না হলে হৃষ্টপুষ্ট,
এসময়ের সন্তান হতেপারে নষ্ট ।
যদিও ভুলে কভু গর্ভধারণ হয়,
থাকে সন্তান বিকলাঙ্গ হওয়ার ভয় ।
সন্তান হবে হাবাগোবা রোগা গোঁজা,
হতে পারে সমস্ত পরিবারের বোঝা ।
বলেছেন যাঁরবয়স ১০৯ বছর সোজা,
তিনি ছিলেন বৈদ্য সাঁপেরও ওঝা ।
সন্তান যেদিন করবে গর্ভে গমন,
সেদিনই বুঝা যাবে তার লক্ষণ ।
১৫ থেকে ২১ দিনে ডিম্বাণু থাকে পোষ্ট,
সন্তান মেধাবী হবে, কথা তার স্পষ্ট ।
পাওয়া যাবে সুস্থ্য নিরোগ সন্তান,
জ্ঞানেগুণে রাখবে বংশের সম্মান ।
জানি না কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য,
মানতে পারেন গরীবের পথ্য ।
বিজোড় দিনে গর্ভধারণ হলে,
নিশ্চয় সে সন্তান হবে ছেলে ।
জোড় দিনে যদি সন্তান হয়,
সে সন্তান মেয়ে হবে নিশ্চয় ।
১৫,১৭,১৯,২১ সুসন্তান ছেলে,
বিদ্যা বুদ্ধি জ্ঞাণে খ্যাতি মিলে ।
যেখানেই যাবে সে হবে সফল,
জীবনভর সে, হবে না বিফল ।
১৬, ১৮, ২০ সুসন্তান মেয়ে,
আলোকিত নারী সবাই দেখবে চেয়ে ।
২২ থেকে ২৮ সাতদিন নিরাপদ সময়,
এসময় কোন contraceptive নয় ।
২৮ দিনে মাসিকের মাস সবার জানা,
না জানলে জিজ্ঞেস করুন নানী নানা ।
দেখে নিতে পারেন পঞ্জিকার পাতা,
থাকবে না আর সুসন্তানের ব্যথা ।
এনামুল হক
সিংগাপুর
২৪/৭/২০১৬
রবিবার
বৃষ্টি
( The rain )
বৃষ্টি আগের মতই টিপটিপ পড়ে,
দিনেদিনে বয়স গিয়েছে বেড়ে ।
জলের সাথে জলের মিলন,
আঁখিপাতে ঝুলনায় ঝুলন,
সাথীদের সাথে হাডুডু খেলা,
মাজারে বাজারে আষাঢ়ী মেলা,
মুড়ি চানাচুর খেয়ে তাসখেলা,
কাটিয়ে দিয়েছি কতো বেলা,
নতুন পানিতে কেটেছি সাঁতার,
দলেমিলে বিলখাল দিয়েছি পার,
মাইক বাজিয়ে দূরে নৌকাভ্রমন,
কি মধুর ছিলো সে বনভোজন !
আষাঢ়ী দিনে নতুনবিয়েবাড়ী,
বরযাত্রীর শরীরে কাঁদা ছোড়াছোড়ি,
বাদ যেতো না ছোটবড় নরনারী,
দিন যেতো দশবার গোসল করি,
পাড়ায় পাড়ায় ছিলো বাউল গান,
সারাদিন গানশোনে জুড়াইতাম প্রাণ,
বৃষ্টি এলেই পানিতে দিতাম লাফ ।
আজ কে কোথায়,নেই কোন হিসাব,
সবাই এখন বড় বড় সন্তানের বাপ,
দাদা নানা চেয়ারম্যান মেম্বার সাব ।
মুরুব্বীদের বকুনি লাঠি নিয়ে দৌড়
দেখেশোনে চলে যেতাম দৌড়ে বহুদূর
কোন রুটিন ছিলো না সকাল সন্ধ্যা
গরম লাগলেই ছুটে যেতাম পার ঘাটায়
ডুব সাঁতারে চোখ কাকের মতো লাল
ময়লা আটকে পাতাবান্ধ কৈ গেলো সকাল ?
একাকী জীবনের অভিশাপ ।
এনামুল হক
সিংগাপুর
২৩/৭/২০১৬
শনিবার
জিকির ।
দুধে ময়লা আছে,
নেতায় ময়লা নাই,
জগত ঘুরে অবশেষে,
এই জেনেছি ভাই ।
দেশেতে নেতাছাড়া,
নেই কোনই উপায়,
নেতার জন্যে উৎসর্গ,
করলাম জীবনটাই ।
নামের জপমালায়,
জিন্দেগীর কামাই ।
এমনিতেই কি আর,
নেতাদের গুণগাই ।
ঝোপবুঝে কোপমারি,
যদি চান্দাপুঁটিও পাই,
সবকাজ করতে পারি,
কাউ'কে নাহি ডরাই ।
শোনে ভয় পাবেন না,
নেতার আছে শতগুন,
তাদের বুকের ভেতরে,
জ্বলে ছাইচাপা আগুন ।
সে আগুনে নিজে পুড়ে,
ইচ্ছামতো অন্যকে পুড়ায়,
দেশের ক্ষতিকরেই তারা,
নামেন, উঠেন ক্ষমতায় ।
রাজনীতি ধান্ধাবাজি,
শুধুমাত্র ক্ষমতা চাই ।
দলবাজির জিকিরেতে,
নিজের আখের গোছাই ।
দেশপ্রেমতো চান্দে গেছে,
সবাই করছে খাই খাই,
সবকিছু খেয়েও এদের,
খাওয়ার বিরতি নাই ।
যদি মুখফোটে বলেন,
জমিটা নেতার চাই'ই
আমরা দলেবলে মিলে,
সেথায় সাইনবোর্ড টাঙ্গাই।
ক্রয়সূত্রে জমির মালিক,
আমাদের প্রিয় নেতা'ই,
মালিক জীবনের ভয়েই,
সবার অজ্ঞাতে পালায় ।
মারতে হবে, মরতে হবে,
সব নেতাদের প্রশিক্ষন,
টাকাদিয়ে শক্তিদিয়ে,
করেন দলীয় নির্বাচন ।
পরিকল্পিতভাবে করছে,
এরা জাতির চরিত্রহরণ ।
জানি নেতা ভোটচোর,
তারেই করি হুজুর হুজুর,
চিনির চেয়েও মিঠা সে,
মধুর চেয়েও যে মধুর ।
নেতা মানেই চাঁদাবাজ,
কাঁচা টাকার বটগাছ,
এদের নেই কোন লাজ,
বর্তমানের জিকিরবাজ ।
সব নেতারাই খায় ঘুষ,
সত্য বলায় যতো দোষ,
টাকার গন্ধে এরা বেহুঁশ,
তোরাই দেশটারে চুষ ।
এনামুল হক
৩১/৭/২০১৬
রবিবার
আমার লেখা প্রথম গান
দেখে আঁধারের রূপ
ভুলেছি সত্তা স্বরূপ
কোথা আছো ওহে অরূপ
কেউ নেই সহায় তুমি বিনে
প্রকাশ হও দিব্য জ্ঞানে
আলো দাও সকল প্রাণে
কলিতে ধরেছে ক্ষয়
ফুলের বিকাশ কেমনে হয়
চারিদিকে জীবনের ভয়
প্রাণ থাকে না প্রাণে
প্রকাশ হও দিব্য জ্ঞানে
আলো দাও সকল প্রাণে
এ আঁধার বিষম ভারী
দূর করো ওগো নূরী
আমরা কিছু করতে নারি
তোমারে যে সবে মানে
প্রকাশ হও দিব্য জ্ঞানে
আলো দাও সকল প্রাণে
তুমিতো জগতের প্রভু
ভেদাভেদ কর না কভু
রক্ষা করো সৃষ্টি তবুও
সর্বশক্তি নামের গুণে
প্রকাশ হও দিব্য জ্ঞানে
আলো দাও সকল প্রাণে
এনামুল হক
সিংগাপুর
৯/৭/২০১৬
শনিবার
১। কবিতা: চৌচিড়/
একটু সুখের আশায়/
সবুজ মাঠ, বনানী, মরুভূমি, নদী/
সাগর নগর বন্দর থেকে দেশান্তর/
কোন পথে চলিনি আমি?/
আমি নামের প্রাণীটার/
সকল পথেই ছিল পদচারনা/
জীবন পদে পদে করেছে প্রতারণা/
বিবাগী হয়ে/
তপ্ত মরুতে হেঁটেছি অবিরাম/
বিলাসী সুখের কি যে আরাম?/
প্রতি পদে জ্বলন্ত উনুনের তাপ/
ভারবাহী জীবনের শত অভিশাপ/
সূর্য্যকে ছাতা বানিয়ে চলেছি/
ক্লান্তিতে বিশ্রাম করেছি/
দাঁড়িয়ে কিংবা বসে/
জুতোর তলা পড়েছিল খসে/
কতটুকু তাপ জমেছিল টের পাইনি/
তৃষ্ণায় ছাতী ফাটেনি/
শিকলে বাঁধা জীবনে/
উট হয়ে গিয়েছিলাম/
জড়তা বাসা বাঁধেনী এ দেহে/
চলেছি শুক পাখীটি ধরার মোহে/
ঘুরেছি আলো আঁধারে বনবাদারে/
হিংস্র বাঘের তীক্ষ্ণ নখড়ে রক্তাক্ত হয়ে/
ঘুরেছি অদ্ভুত নগর থেকে নগরে/
কোন পার্থক্য পাইনি খোঁজে/
দেখেছি সভ্যতার প্রতি স্তরে/
কেবল মানুষের বেশে/
সাজানো শিকারীর দল/
ফিরছে দেশে দেশে/
ক্ষুধার্ত ব্যাঘ্র যেমনে হানা দেয়/
শান্ত হরিণের পালে/
শিকার আর শিকারীতে শুধু হানাহানি/
জীবন নিয়ে করছে টানাটানি/
গলাকাটা লাশ ইথারে ভাসে/
সভ্যতার নগর থেকে নগরে/
ভূভুক্ষু আশ্রয় বস্ত্রহীনের ব্যথায়/
স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তায়/
মানবতার কাছে সবই অসহায়/
ফেটেছে হৃদয় চৈত্রের খরায়
চৌচিড় মাঠের জ্যামিতিক নিয়মে/
Thanks & best regards
Enamul Haque
Singapore
22/10/2014
Wednesday
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Block#207, Unit#04-209, Jurong East Street#21, Singapore#600207
Singapore
600207
