সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। 🥳
খোঁচানি মাস্টার
Khochani Master — A sharp poke with a calm mind!
খোঁচানি মাস্টার—শান্ত মাথায় কড়া খোঁচা!
“আমরা আয়না দেখাতে পারদর্শী”
Our blog is a dedicated space for raising awareness about important social issues and engaging in political discussions. We aim to inform, inspire, and encourage critical thinking among our readers by covering topics like human rights, environmental concerns, and social justice.
~ বিলাদুল হারামাইন আর হারামাইনের গাদ্দার এক কথা নয়!~
-
বাইতুল্লাহ’র প্রেম প্রতিটি মুমিনের শিরায় শিরায়। যে ভূমিতে প্রথম ওহী নাযিল হয়েছিল, যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন — সেই বিলাদুল হারামাইনকে ভালোবাসেনা এমন মুমিন কে হতে পারে! কিন্তু এই ভালোবাসা অন্ধত্বের লাইসেন্স নয়। হারামাইন এক কথা, সৌদি রাজতন্ত্র সম্পূর্ণ আরেক কথা।
Love the land, expose the rulers, these are not mutually exclusive.
১. প্রথম গাদ্দারি
১৯১৬ সালে শরিফ হুসাইন ব্রিটিশদের হাত ধরে উসমানী খিলাফতের বিরুদ্ধে আরব রিভল্ট পরিচালনা করে। ইসলামি খিলাফাতের শেষ কাঠামো ভেঙ্গে দেয়ার পেছনে ছিল শাসক গোষ্ঠী। ইবনে সাউদও পিছিয়ে নেই, ১৯১৫ সালের ‘Treaty of Darin’ এ ব্রিটিশ প্রটেক্টোরেট মেনে নিয়ে তারা ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক ডেভিড ফ্রমকিন এর মতে, "আরব নেতারা ব্রিটিশ স্বার্থে ইসলামি ঐক্যের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছিলেন।"¹ রাষ্ট্র সৌদি’র পাপের শুরু সেই দিন থেকেই।
The last Caliphate wasn't destroyed by the West alone — it was handed over.
২. ক্ষমতার চুক্তিতে পেট্রোডলারের দাসত্ব
১৯৭৪ সালে কিসিঞ্জার-সৌদি গোপন চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয় সৌদির তেল কেবলমাত্র ডলারেই বিক্রি হবে। উইলিয়াম ক্লার্ক এর মতে, এই একটি চুক্তি মার্কিন সামরিক সাম্রাজ্যবাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়।² সৌদি আরব তেল বেচে ডলার পায়, সেই ডলারে মার্কিন অস্ত্র কেনে, এই চক্রেই ডলার হেজেমনি গড়ে ওঠে। সাদ্দাম এই হেজেমনি ভাংতে চেয়েছিল, সে ইউরোতে তেল বেচতে চেয়েছিল- পরিণামে ইরাক ধ্বংস হলো। গাদ্দাফি গোল্ড দিনারের বাস্তবায়ন চেয়েছিল— তাকে রাস্তায় হত্যা করা হয়। ২০১৭ সালে ট্রাম্পের সাথে ১১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি সই করে সৌদি প্রমাণ করে দিল- সেই এই ডলার হেজেমনির সবচেয়ে বিশ্বস্ত গ্যারান্টার।³
৩. ইয়েমেন: উম্মাহর রক্তে সৌদির হাত!
UN OCHA,(২০২১) এর রিপোর্ট বলছে- ইয়েমেনে ৩ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি নিহত, যাদের ৬০% সৌদি পরিচালিত যুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটির অমানবিক পরিস্থিতির কারণে।⁴ UNICEF এর মতে, ইয়েমেনে প্রতি ১০ মিনিটে একটি শিশু মারা যায়।⁵ Yemen Data Project দেখায় — ২৫,০০০-এরও বেশি এয়ারস্ট্রাইক, যার এক-তৃতীয়াংশই হাসপাতাল, স্কুল আর বাজারে।⁸ HRW এবং Amnesty এগুলোকে "war crimes" বলে নথিভুক্ত করেছে।⁹ সৌদি’র ক্রয়কৃত অ্যামেরিকান বোম্ব গুলো সবচেয়ে বেশী বিস্ফোরিত হয় ইয়েমেনের মাটিতে।
With the money of Muslims, bombing Muslims with American bombs, and calling it "regional security".
৪. ‘স্মার্ট সৌদি’ - হারাম কী তাদের জন্য হালাল?
৩৫ বছরের নিষেধাজ্ঞার পর সৌদিতে সিনেমা হল খুলে দেয়া হল¹⁰, উলঙ্গ প্রায় পুরুষরা রেসলিং করল, আবেগে উন্মত্ত হল সৌদি নারী, পুরুষ!¹¹, মারিয়া ক্যারির কনসার্ট হল¹², BTS হল পর্যটন অ্যাম্বাসেডর¹³, মদের অনুমোদিত স্পেস করে দেয়া হল¹⁴, হিজাবের বাধ্যবাধকতা উঠে গেল¹⁵ এসব কিছুই করা হল সংস্কারের নামে। আসুন দেখে নেয়া যাক রাসূলুল্লাহ ﷺ কি বলেছেন- "আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোক আসবে যারা মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।" এটি স্রেফ কোন ভবিষ্যদ্বাণী নয়, এটাই এখন সৌদি’র সরকারি নীতিমালা!
৫. আলেমদের কারাগারে নিক্ষেপ
অপরদিকে যেসব বিদগ্ধ আলেম সৌদি শাসকের এহেন নির্লজ্জ বেহায়াপনার বিরোধিতা করেছেন, জনগণকে সচেতন করতে চেয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেই সৌদি শাসক কঠোর হয়েছে। রাষ্ট্র, সালমান আল-আওদা’র মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছে¹⁶, সাফর আল হাওয়ালি তিন পুত্রসহ গ্রেফতার হয়েছেন¹⁷, আল কারনি ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় রাষ্ট্রপক্ষ মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে¹⁸, আব্দুল্লাহ আল হামিদ কারাগারে মৃত্যু বরণ করেছেন¹⁹, মুহাম্মাদ আল গামেদিকে কয়েকটি টুইটের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে²⁰ - এসব কিছুই সৌদি রাজপরিবারের বিদগ্ধ, প্রসিদ্ধ উলামাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের সামান্য নমুনা মাত্র!
The regime that guards the Kaaba — kills the scholars who guard the Quran!
৬. ইমামুল হারামাইনের মুখে অ্যামেরিকা বন্দনা!
২০১৭ সালে মসজিদুল হারামের প্রধান ইমাম সুদাইস বলে বসলেন — "Thank God, the United States and Saudi Arabia are steering the world" এবং বিন সালমান ও ট্রাম্পের জন্য দোয়া করলেন: "May God let them succeed."²² এই সেই আমেরিকা, যে আফগানিস্তানে ২ লাখেরও বেশি নিরীহ মুসলিম হত্যা করেছে²³, ইরাকে ১৫ লাখ মৃত্যুর জন্য দায়ী।²⁴
‘May god let them succeed…’ - this is the Imam of Kaaba!
৭. মার্কিন ঘাঁটি: কুরআনের জমিনে কাফেরদের দখলদারি
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — "আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করে দাও।" অথচ সেই পবিত্র ভূমিতে আজ দাঁড়িয়ে আছে ১টি নয়, ২টি নয়- ৫টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। Prince Sultan Air Base (আল-খার্জ — ২,৩০০+ মার্কিন সেনা, B-1B বোমারু ও F-22 মোতায়েন), Eskan Village Air Base (রিয়াদ), King Abdulaziz Air Base (ধাহরান — Gulf War থেকে সক্রিয়), King Faisal Air Base (তাবুক) এবং Riyadh Air Base (রিয়াদ — লজিস্টিক্স কেন্দ্র)।²¹
Congressional Research Service নিশ্চিত করেছে — ১৯৯১ থেকে এই ঘাঁটিগুলো থেকেই ইরাক, আফগানিস্তান ও সিরিয়ায় মার্কিন অভিযান পরিচালিত হয়েছে।²¹ লক্ষ লক্ষ মুসলিম হত্যা করতে এই ঘাঁটি গুলোই ব্যাবহার করা হয়েছে।
৮. সৌদি-ইসরায়েল: গোপন রসায়ন!
ফ্রিইডম্যান নিউ ইয়োর্ক টাইমস উল্লেখ করেছে- সৌদি ইসরায়েল চুক্তি ৭ অক্টোবরের আগেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল।²⁶ রাশিদ খালিদি এর মতে, "এই নরমালাইজেশন ফিলিস্তিনিদের সাথে ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা।"²⁷ গাজার গণহত্যায় সৌদির নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা নয়, এটা ষড়যন্ত্রের নীরবতা।
৯. মাদখালি: রাজতন্ত্রের ধর্মীয় ব্যান্ড পার্টি
মাদখালি মতবাদের সারকথা হচ্ছে শাসকের সমালোচনা হারাম, আনুগত্য সর্বদা ওয়াজিব আর এই আনুগত্য হচ্ছে সৌদি রাজ পরিবারের কাছে। Wiktorowicz, Global Salafism এ আলোচনা করেছে- এটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ দমনের সুচতুর ধর্মীয় হাতিয়ার।²⁸
ইয়েমেনে বোমা পড়ছে, মাদখালি নীরব। আলেম হত্যা হচ্ছে, মাদখালি নীরব। মার্কিন ঘাঁটি হারামাইনের মাটিতে, মাদখালি নীরব। মদের লাইসেন্স হয়ে যাচ্ছে, মাদখালি নীরব। অথচ কেউ শাসকের সমালোচনা করলে সঙ্গে সঙ্গে ফতোয়া হাজির।
Madkhalism isn't scholarship. It's state-sponsored intellectual sedation.
১০. বর্তমান যুদ্ধ: দায় কার?
পেন্টাগন স্বীকার করেছে — সৌদি ঘাঁটি মার্কিন কৌশলের জন্য "irreplaceable asset."²⁹ লিন্ডসে গ্র্যাহাম স্বীকার করেছে — "Without Saudi Arabia, U.S. military operations in the Middle East would be impossible."³⁰ বল্টোন তার মেমোয়ারে লিখেছে — সৌদি ঘাঁটি ছাড়া ইরান নীতি বাস্তবায়নই সম্ভব হতো না।³¹
লক্ষ্য করুন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন অনুযায়ী — যে দেশ নিজের মাটিতে আক্রমণকারীকে ঘাঁটি দেয়, সে নিজেও যুদ্ধের অংশীদার হয়ে যায়। এরপর কান্নাকাটির কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকে না।
When war breaks out, crying doesn't undo decades of collaboration.
মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত অস্থিরতার সাথে সৌদি রাজতন্ত্রের complicity আছে, এটি দাবী নয় এটি বাস্তবতা। এটি আমাদের দাবী নয়, সৌদি’র বন্ধু অ্যামেরিকার স্বীকারোক্তি!
উপসংহার
বাইতুল্লাহ আমাদের। হারামাইন আমাদের। কিন্তু আল-সাউদ পরিবার উম্মাহ’র কিছু নয়। তারা ডলারের, পেন্টাগনের, তেল আবিবের এর অংশীদার। মাদখালিরা সেই গাদ্দারির ধর্মীয় ঠিকাদার। আমরা হারামাইনকে ভালোবাসি বলেই এই সত্য বলা আমাদের জন্য জরুরী — কারণ চুপ থাকা মানে অপরাধে অংশীদার হওয়া।
Custodians of the holy land but servants of the American empire! The ummah deserves better!
—
From Reality Check
ব্রেকিং নিউজ: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন বিনিয়োগ প্রত্যাহারের কথা ভাবছে সৌদি আরব, ইউএই এবং কুয়েত
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাথে বাড়তে থাকা যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের চার বৃহত্তম অর্থনীতির তিন দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং কুয়েত—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ থেকে সরে আসার বিষয়ে আলোচনা করছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি রাজস্ব কমে যাওয়া এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে জাহাজ চলাচল ও পর্যটন খাতে বিঘ্ন ঘটায় "বাজেট ঘাটতি" প্রকট হচ্ছে। এর ফলে, কিছু উপসাগরীয় সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশের মাটিতে করা তাদের বড় বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিগুলো পুনরায় মূল্যায়ন করার কথা বিবেচনা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে একটি "সতর্কতামূলক ব্যবস্থা" হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের (Sovereign Wealth Funds) মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। ফলে, যেকোনো ধরণের বিনিয়োগ প্রত্যাহার বৈশ্বিক বাজার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এই পদক্ষেপকে চলমান সংঘাতের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর একটি সম্ভাব্য চাপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে—যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতি রণক্ষেত্রের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূরে ছড়িয়ে পড়ছে।
03/02/2026
আজ আমরা ৩–৪ ঘণ্টায় পার হই, তিনি ﷺ হেঁটেছেন ৮ দিন–রাত
মক্কা থেকে মদিনা প্রায় ৪১০ কিলোমিটার। আজ সেই পথ আমরা গাড়িতে তিন–চার ঘণ্টায় পার হই, আরামে, নিশ্চিন্তে, ঠান্ডা বাতাসে। কিন্তু হিজরতের দিনে এই পথটি কেমন ছিল, ভাবার চেষ্টাও আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করে।
রাসূল ﷺ সেই পথ পাড়ি দিয়েছেন আট দিন-রাত ধরে। সঙ্গে ছিলেন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) এবং পথপ্রদর্শক আব্দুল্লাহ ইবনু উরাইকিত আল-লাইথি আল-কিনানী। প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, প্রতিটি মুহূর্তে ছিল পরীক্ষা।
একবার ভাবুন তো, কেমন ছিল সেই দিনগুলো? কেমন ছিল সেই রাতগুলো? এটি কোনো সরল মহাসড়ক ছিল না। উঁচু পাহাড়, গহীন উপত্যকা, পাথুরে গিরিপথ, কোথাও খোলা মরুভূমি, কোথাও রুক্ষ প্রান্তর। দিনভর তপ্ত রোদ, রাতে কনকনে ঠান্ডা। চারদিকে শত্রুর নজর, মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছে।
থাওর গুহার অন্ধকারে আশ্রয় নেওয়া। বাইরে শত্রুর পদচারণা, ভেতরে স্থির বিশ্বাস। সেই মুহূর্তে নবী কারীম ﷺ বলেছিলেন, "চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।"এই ৪১০ কিলোমিটার তখন শুধু দূরত্ব ছিল না, এটি ছিল ধৈর্যের মাপ, তাওয়াক্কুলের গভীরতা, ভালোবাসার পরীক্ষা।
রাসূল ﷺ আল্লাহর রাসূল হলেও শরীর ছিল মানুষেরই। ক্লান্তি এসেছিল, পা ব্যথা করেছে, শরীর অবসন্ন হয়েছে। মক্কার মাটি, জন্মভূমি, কাবা, স্মৃতি সব পিছনে ফেলে অজানার পথে যাত্রা করতে হয়েছে।
আজ আমরা সেই ৪১০ কিলোমিটার পার হই সহজে। কিন্তু কখনও কি আমরা সেই পথটাকে রাসূল ﷺ–এর চোখ দিয়ে দেখি? তাঁর পায়ের ব্যথা, তাঁর ক্লান্তি, তাঁর ধৈর্য অনুভব করি? আমরা হয়তো কেবল কিলোমিটারে দূরত্ব মাপি, কিন্তু রাসূল ﷺ সেই পথ মেপেছেন ধৈর্য, ত্যাগ, আর আল্লাহর প্রতি অটুট বিশ্বাসে।
এই পথের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের জন্য। আমাদের ঈমানের জন্য। আমাদের উম্মাহর জন্য। এবং সেই কারণেই আজ আমরা ঈমানের আলোয় বাঁচি।
اللهم صل وسلم على نبينا محمد ﷺ 🤍
03/01/2026
মুখ থুবড়ে পড়ে আছে উসমানী সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের প্রতিষ্ঠিত ইস্তাম্বুল টু মদীনা রেলগাড়ির ধ্বংসাবশেষ। খিলাফাহ পতনের হাতিয়ার অভিশপ্ত সালাফিজমের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যায় ইস্তাম্বুল টু মদীনা রেল নেটওয়ার্ক। হিজাজের মরুভূমিতে এখনও পাওয়া যায় সোয়াশ' বছর আগের খিলাফতের প্রতিষ্ঠিত রেললাইন ও রেলগাড়িটির ধ্বংসাবশেষ।
যাত্রীবাহী বিমান ও ব্যক্তিগত মোটরগাড়ির প্রচলনের আগের সময়ে যখন পবিত্র ভূমিতে হজযাত্রা ছিল দীর্ঘ, ক্লান্তিকর ও কষ্টসাধ্য কাজ, তখন এই দুর্ভোগ লাঘবের জন্য উসমানীয় খেলাফতের উদ্যোগে হিজাজ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়।
এটা সেই সময়ের কথা, যখন পরিকল্পিতভাবে উম্মাহকে বিভক্ত করার জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশের জন্ম দিয়ে অভিশপ্ত জাতীয়তাবাদের সীমান্তরেখা টানা হয়নি। তখন খিলাফতের এক অঞ্চলের মানুষ অন্য অঞ্চলে ভ্রমণের জন্য ভিসা বা পাসপোর্টের প্রয়োজন হতো না। সমগ্র খিলাফতের ভুখণ্ডে মানুষ অবাধে চলাচল করতে পারত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই রেললাইন দামেস্ক থেকে শুরু হয়ে মক্কায় পৌঁছানোর পাশাপাশি উসমানীয় খেলাফতের রেল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত এই রেললাইনকে সংযুক্ত করা হবে। প্রথম ১৯০০ সালে এর কাজ শুরু হয় এবং ১৯০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মদীনায় গিয়ে ১৩০০ কিলোমিটারের বিশাল এই কর্মযজ্ঞের সমাপ্তি ঘটে।
১৯১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলপথটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। দামেস্ক ছিল এই রেললাইনের প্রথম স্টেশন। হাজীদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণ এই রেলপথ ব্যবহার করতেন। দামেস্ক, আম্মান, হাইফা এবং জেরুজালেমের মতো প্রধান শহরগুলোতেও রেলস্টেশন তৈরি করা হয়েছিল।
এতে করে তৎকালীন উসমানীয় খিলাফতের রাজধানী ইস্তানবুলসহ দূরদূরান্তের হাজীরা সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে মক্কা পৌঁছাতে পারত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যাত্রার সময় ব্যাপকভাবে কমে আসত। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, ইস্তানবুল থেকে মক্কা যেতে যেখানে আগে সপ্তাহের পর সপ্তাহ লেগে যেত, সেখানে এ রেলপথে মাত্র পাঁচ দিনেই পৌঁছানো সম্ভব ছিল।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, হিজাজ রেল নেটওয়ার্ক পরিপূর্ণভাবে সম্পূর্ণ হয়নি। কারণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে এই রেললাইন মক্কায় পৌঁছাতে পারেনি। মদীনাতেই ছিল এর সর্বশেষ স্টেশন। বৃটিশদের লেলিয়ে দেওয়া আরব বিদ্রোহের সময় এই রেলপথ ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বৃটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মুজাহিদিনের জন্য খিলাফতের কেন্দ্র থেকে পাঠানো শক্তিবৃদ্ধি ঠেকাতে এই রেল নেটওয়ার্কের বিভিন্নস্থানে বোমাহামলা চালায় আরব বিদ্রোহী খারিজি গোষ্ঠীগুলো। অবশেষে উসমানীয় খিলাফতের পতন ঘটে, রেলপথও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।
হাজীদের হজগমনে স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে আনা এমন একটি দুর্দান্ত পরিকল্পনা ধ্বংস হওয়া অবশ্যই উম্মাহর জন্য বেদনাদায়ক। ইনশাআল্লাহ হিজাজ রেলপথ একদিন পুনরুজ্জীবিত হবে, আবারও সেই অঞ্চলের উম্মাহ জেগে উঠবে। আবারও উপমহাদেশের সামরিক বাহিনীর মুসলিম যোদ্ধারা ফিরে পাবে আত্মপরিচয়।
যদি সাপের বিষ না থাকতো, তবে মানুষ তাকে দড়ির মতো ব্যবহার করতো।
মানুষ যখন বুঝে যায় যে আপনি দুর্বল, তখন তারা আপনাকে ব্যবহার করতে শুরু করে। কারণ, তারা দুর্বলকে ভয় পায় না।কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নিজেকে শক্তিশালী প্রমাণ করতে কারো উপর ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তবে এতটুকু বুঝিয়ে দিতে হবে যে আপনি দুর্বল নন। আপনি জবাব দিতে পারেন, নিজের সীমা টানতে পারেন। আর প্রয়োজন হলে নিজের অধিকারের জন্য দাঁড়াতে পারেন।
মনে রাখবেন, শক্তি দেখানো জরুরি নয়, কিন্তু শক্তির অস্তিত্ব অন্যদের বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি।
কারণ, সাপের যখন বিষ থাকে না, তখন তার আর কোন গুরুত্ব থাকে না।
বিতর্কিত
02/28/2026
একদা হিটলার তার অনুসারী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সামনে এক অদ্ভুত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করলেন। তিনি একটি জীবন্ত মুরগি হাতে নিয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করলেন। উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন যে, হিটলার অত্যন্ত নির্দয়ভাবে মুরগির শরীর থেকে একটি একটি করে পালক ছিঁড়তে শুরু করেছেন।
যন্ত্রণায় মুরগিটি আর্তনাদ করছিল এবং ছটফট করছিল, কিন্তু হিটলার থামলেন না। যতক্ষণ না মুরগিটি সম্পূর্ণ পালকহীন এবং রক্তাক্ত হলো, ততক্ষণ তিনি তার এই নিষ্ঠুরতা চালিয়ে গেলেন। এরপর তিনি মুরগিটিকে মেঝেতে ছেড়ে দিলেন। ব্যথায় কাতর মুরগিটি তখন ভয়ে এবং অপমানে দূরে কোথাও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
কিছুক্ষণ পর হিটলার তার পকেট থেকে কিছু গমের দানা বের করলেন এবং মুরগিটির সামনে ছিটিয়ে দিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে মুরগিটি কিছুক্ষণ আগে তার হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, সে যন্ত্রণার কথা ভুলে গিয়ে ক্ষুধার তাড়নায় হিটলারের পায়ের কাছেই ফিরে এলো। হিটলার হাঁটতে শুরু করলে রক্তাক্ত ও পালকহীন সেই মুরগিটি দানা পাওয়ার আশায় তার পেছনে পেছনেই ঘুরতে লাগল এবং একপর্যায়ে পরম ভরসায় তার পায়ের কাছেই স্থির হয়ে দাঁড়াল।
এই দৃশ্য দেখিয়ে হিটলার উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বললেন, "এটাই হলো একনায়কতন্ত্র বা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের প্রকৃত নমুনা। মানুষকে প্রথমে চরমভাবে শোষণ করো, তাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দাও এবং যন্ত্রণার চূড়ান্তে পৌঁছে দাও। এরপর যখন তুমি তাদের সামান্য কিছু অন্ন বা সাহায্যের টোপ দেবে, তখন তারা তাদের অতীত অপমান ও নির্যাতনের কথা ভুলে যাবে। ক্ষুধার্ত ও অভাবী মানুষ তখন অন্নদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতায় অন্ধ হয়ে যায় এবং পরম আনুগত্যের সাথে তার পায়ের কাছেই আশ্রয় খোঁজে।
সময়ের আবর্তে মানুষের স্মৃতি বড়ই স্বল্পস্থায়ী। আজ যারা ক্ষমতার সুবাতাস পেয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন, তাদের হয়তো মনে নেই—অল্প কিছুদিন আগেও তারা কী ভীষণ দমন-পীড়ন আর বঞ্চনার শিকার ছিলেন। যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষের লড়াই আর সহমর্মিতাই ছিল তাদের টিকে থাকার রসদ। কিন্তু আজ বিপদ কাটতেই সেই 'মজলুম' পরিচয় ঝেড়ে ফেলে তারা নিজেরাই যেন দাপুটে 'জালেম' হয়ে উঠতে চাইছেন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে আওয়ামী লীগের হাত থেকে মুক্তি পেতে এত রক্ত আর ত্যাগ, আজ সেই স্বৈরাচারী শক্তির পুনর্বাসনের নেপথ্য কারিগর হিসেবে এই বিশেষ গোষ্ঠীটিই আবির্ভূত হয়েছে। তাদের এই আকস্মিক 'ইউ-টার্ন' বা অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক আদর্শের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ঈর্ষা আর ক্ষমতা হারানোর ভয়। বিশেষ করে, দেশে ইসলামী মূল্যবোধ সম্পন্ন ও সৎ মানুষের নেতৃত্ব তথা জামায়াতে ইসলামীর উত্থান ঠেকাতে তারা আজ এতটাই মরিয়া যে, প্রয়োজনে খুনি কিংবা স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনতেও তাদের বিবেকে বাঁধছে না। ক্ষমতার লোভে তারা আদর্শের প্রশ্নে যে আপস করছেন, তা নৈতিকতার চরম অবক্ষয়।
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যারা নিজেদের অতীত ভুলে যায় এবং কৃতজ্ঞতাবোধ হারিয়ে ফেলে, তাদের পরিণতি কখনোই শুভ হয় না। আজ বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে অনেকের মনেই এই আক্ষেপ জাগছে যে—এই নব্য জালিমদের নিয়ন্ত্রণের জন্য হয়তো আগের কঠোর শাসনই অনিবার্য ছিল। জনমনে আজ এমন এক চরম হতাশা তৈরি হয়েছে যে, মানুষ এখন বলতে বাধ্য হচ্ছে—বিচারের বাণী যেখানে নিভৃতে কাঁদে এবং টাকার কাছে যেখানে আদর্শ বিক্রি হয়ে যায়, সেখানে লজ্জিত হওয়া ছাড়া সাধারণ মানুষের আর কিছু করার থাকে না।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের কাপে আজ একই গুঞ্জন—স্বার্থের দ্বন্দ্বে অন্ধ হয়ে যারা আজ সত্যকে আড়াল করছে, তাদের জন্য সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। আমরা একসময় যাদের জন্য কষ্ট পেয়েছি, রাজপথে দাঁড়িয়েছি, আজ তাদের এই ভোল পাল্টে যাওয়া দেখে কেবল ঘৃণা নয়, করুণা হয়। মনে রাখা প্রয়োজন, জনতা যেমন কাউকে সিংহাসনে বসাতে জানে, তেমনি সময়ের প্রয়োজনে অহংকারীকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতেও দ্বিধা করে না।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
New York, NY
